রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
Published : 27 Dec 2022, 04:21 PM
ইভিএমের ‘ত্রুটি’ নিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের ‘ভুলের দায়’ অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সদ্য সাবেক এই মেয়র আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এসে এই অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ভোটে ধীর গতিতে অসন্তোষের কথা জানান।
এর আগে সকালে ভোট দিতে গিয়ে ইভিএমে ত্রুটি দেখা দিলে বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয় মোস্তফাকে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে তিনি ইভিএম নিয়ে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, “তার (মোস্তফা) এমন অভিযোগ জানার পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। একজন ভোটার ভোট দিচ্ছিলেন। তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা না করে ইভিএম ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।”
এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় নির্বাচন কার্যালয়ে আসেন জাপার প্রার্থী। তিনি সেখানে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিকভাবে অবগত করেন। পরে বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জাপার মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, “আমি তাদের বলেছি, ইভিএমে ভোটের কারণে দেরি হচ্ছে। ভোটের গতি শ্লথ। এভাবে চলছে অনেক ভোটার ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং চলে যাবে। ভোট কাস্ট কম হবে। ভোট কম পড়লে আমার সমস্যা হবে। আমি যে হারে ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা করছি, সেই হারে ভোট পাব না। এতে আমার ক্ষতি হবে।”
“আর এভাবে চললে তো ইভিএম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোস্তফা বলেন, “আমি ভোট দিতে গিয়ে দেখি ইভিএম হ্যাঙ হয়ে গেছে। প্রথম দফায় ভোট দিতে পারিনি। বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের আমি সেটাই বলেছি যে, ইভিএম হ্যাঙ করেছে তাই ভোট দিতে পারিনি।
“এখন নির্বাচন কমিশন তাদের দায় আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। আমি নাকি ইভিএম বিতর্কিত করার চেষ্টা করছি!”, যোগ করেন মেয়র প্রার্থী।
ভোটের তথ্য
>> মেয়র পদে ৯ প্রার্থী; ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৮৩ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন প্রার্থী; ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
>> ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ জন; পুরুষ ২ লাখ ১২ হাজার ৩০২ ও নারী ২ লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন।
>> ২২৯টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ ১৩৪৯টি।
>> রিটার্নিং অফিসার- নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইসির যুগ্মসচিব আব্দুল বাতেনের সঙ্গে ১১ জন সহকারি রিটার্নিং অফিসার থাকবেন।
>> প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২২৯ জন; সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এক হাজার ৩৪৯ জন; দুই হাজার ৬৯৮ জন মোট পোলিং অফিসার।
>> গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে চারজন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই/এএসআই ও তিন জন কনস্টেবল), দুই জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার ও ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।
>> নির্বাহী হাকিম: প্রতিটি ওয়ার্ডে একজনসহ ৪৭ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে দায়িত্বে নিয়োজিত।
>> বিচারিক হাকিম: ১৬ জন।
>> প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪-১৫ জন করে নিরাপত্তা সদস্য।
>> তফসিল: ৭ নভেম্বর সময়সূচি ঘোষণা। মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর; বাছাই ১ ডিসেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ৮ ডিসেম্বর।
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
রংপুরে উৎসবমুখর ভোট হচ্ছে: সিইসিপুরানো খবর:
সিসি ক্যামেরায় রংপুরের ভোট দেখছে ইসিপুরানো খবর:
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ডালিয়াপুরানো খবর:
রংপুর সিটি নির্বাচন: বেলা বাড়ছে, ভোটের লাইনওপুরানো খবর:
ভোট দিচ্ছে রংপুরপুরানো খবর:
সিসি ক্যামেরায় রংপুরের ভোট দেখছে ইসিপুরানো খবর:
রংপুর সিটি: ইভিএমে ভোট দেবেন যেভাবেপুরানো খবর:
ভোটে অনিয়ম হলে ‘তাৎক্ষণিক অ্যাকশন’: মোস্তফাপুরানো খবর:
রংপুরে ভোটের মাঠে থাকবেন ৪৯ ম্যাজিস্ট্রেটপুরানো খবর:
রংপুর সিটি নির্বাচন: প্রতীক পেয়ে প্রচারণা শুরুপুরানো খবর:
রংপুরে সিটি নির্বাচন: মেয়র পদে ১০ মনোনয়নপত্র বৈধপুরানো খবর:
রংপুর সিটিতে ২৮০ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহপুরানো খবর:
ইভিএমেও আস্থা আনতে হবে: ইসি রাশিদা