রাজধানীর বাবুবাজার সেতুর নিচে ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
Published : 18 Sep 2026, 07:34 PM
দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি, এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধাকে ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলার মানুষের আধুনিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এদিন বিকালে রাজধানীর বাবুবাজার সেতুর নিচে এ ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান হাসপাতাল বা ‘স্বাস্থ্য তরী’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতীতে বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাসমান হাসপাতালের ভালো কিছু নজির রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌ-পরিবহন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তা উপকূলবাসীর জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
“গ্রামে-গঞ্জে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মত গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দল গঠন করে জাহাজের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, “বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য চাইলেও জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাদের দোরগোড়াতেই সেবা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীসহ বিআইডব্লিউটি এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।