Published : 18 Sep 2026, 09:42 PM
সমুদ্রের নিচে ড্রোন বা মানুষবিহীন ডুবোযান পরিচালনায় বিশ্বে প্রথম বিশালাকৃতির জাহাজ নির্মান করছে চীন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই জলযানটিকে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের ‘মাদারশিপ’ বা ড্রোনবহনকারী বড় জাহাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে শুক্রবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, চীনের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় শহর সাংহাইয়ে অবস্থিত হুদং-ঝংউয়া শিপ ইয়ার্ডে জাহাজটি দেখা গেছে। এ শিপ ইয়ার্ডটিতেই আগে চীনের বিশাল উভচর আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজগুলো নির্মিত হয়েছিল।
ইন্ডিপেন্ডেন্টের মতে ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য জোরাল করার উদ্দেশ্যে বেইজিং যে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, এ মাদারশিপ নির্মান তারই অংশ।
খবরে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে এ মাদারশিপ হবে উভচর; যা চীনের অত্যন্ত গোপনীয় ‘এক্সট্রা-এক্সট্রা-লার্জ’ ড্রোন সাবমেরিনের (এক্সএলইউইউভি) অন্তত চারটি বহন করতে সক্ষম। এক্সএলইউইউভি মডেলের এই ডুবোযানগুলোর অন্তত দুটির কথা জানা যায়। এর মধ্যে একটির দৈর্ঘ্য ১১৫ ফুট; যা মার্কিন নৌবাহিনীর ‘অরকা’ ড্রোনের চেয়ে দ্বিগুণ বড়। অন্যটির দৈর্ঘ্য ১৪৮ ফুট।
নৌ বিশ্লেষক এইচ আই সাটন সম্প্রতি নেভাল নিউজে লিখেছেন, “এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হল, এটি বিশেষ কোনো ড্রোন সাবমেরিন মাদারশিপ। এই জাহাজের সম্ভাব্য ভূমিকা মূল্যায়নে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।”
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশালাকৃতির এই উভচর জাহাজের মূল বডি প্রায় ৬৭০ ফুট লম্বা এবং ৮৮.৫ ফুট চওড়া। এর পেছনের অংশে একটি ‘ওয়েট ওয়েল ডেক’ (আধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজের পেছনের অংশে পানির সমতলে অবস্থিত হ্যাঙ্গার বা বড় কক্ষের মত ডেক) এবং একটি ক্রেডল (বিশেষ কাঠামো বা ফ্রেম, যা জাহাজ, নৌকাকে শুকনো ভূমিতে সোজা ও নিরাপদে ধরে রাখতে, পানিতে নামাতে বা জলপথে পরিবহন করতে ব্যবহার করা হয়) রয়েছে, যা ১২টি উল্লম্ব জ্যাক আপ আর্মসের সাহায্যে পানির নিচে নামানো সম্ভব।
জাহাজটির আকার বিবেচনা করে নেভাল নিউজের অনুমান, এটি তার ভেতরের হ্যাঙ্গারে অত্যন্ত গোপনীয় অন্তত চারটি ড্রোন সাবমেরিন বহনে সক্ষম। ফলে এটি বেসামরিক বা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত কোন জাহাজ বলে ব্যাখা এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তি শক্ত হলেও তা চূড়ান্ত নয়। ব্রিটিশ রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সহযোগী সদস্য আলেসান্দ্রো আরদুয়িনো বলেন, “স্যাটেলাইট চিত্রগুলো এটি প্রমাণ করে না যে চীন বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য মাদারশিপ তৈরি করছে। নতুন এই জাহাজটি অটোমেটেড বা স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগেরই প্রতিফলন। এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য কেবল প্রথাগত নৌশক্তি বৃদ্ধি করা নয়, বরং সেই শক্তি কীভাবে বজায় রাখা হবে তার কৌশল পুরোপুরি বদলে দেওয়া।”
ভারতের তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রমানাথন চীনের এই জাহাজটি সম্পর্কে বলেন, “এটি একেবারেই নতুন ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের কোনো সাবমেরিনবাহী জাহাজ অন্য কোনো দেশের আছে বলে আমার জানা নেই।”