ওপারের যুদ্ধে বিরান হচ্ছে এপারের বসতিও

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত এলাকায় মঙ্গলবারও মার্টার শেল ও গোলার আঘাতে অন্তত পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

শংকর বড়ুয়া রুমিপালংখালী সীমান্ত থেকে ফিরে. কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 07:59 PM
Updated : 6 Feb 2024, 07:59 PM

“আমরা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে আছি। আজকেও রহমতের বিল এলাকায় বিভিন্ন ঘরের মধ্যে মিয়ানমার থেকে গুলি এসে পড়ছে। আমরা অত্যন্ত ভয়ের মধ্যে আছি।”

কথাগুলো বলছিলেন মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া কক্সবাজারের পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গফুর উদ্দিন। সামনের দিনগুলোতে কী হবে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনা ও বিদ্রোহীদের যুদ্ধের মধ্যে সীমান্তের এপারে এই আতঙ্ক চলছে গত কয়েক দিন ধরেই। সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠছেন।

কয়েকদিনের যুদ্ধের মধ্যে সাহস করেও যারা ভিটেমাটি আগলে পড়ে ছিলেন, মঙ্গলবার তারাও বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় গ্রামের পর গ্রাম বিরান হয়ে যাচ্ছে।   

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর আরও শতাধিক সদস্য এদিন পালংখালী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে ২৬৪ জন অনুপ্রবেশ করেছে বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘুমধুম ও পালংখালী সীমান্ত এলাকায় মঙ্গলবারও মার্টার শেল ও গোলার আঘাতে অন্তত পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অনেকের বাড়িঘরে এসে গুলি পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের বেলায় গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেলেও ঘুমধুম সীমান্ত মঙ্গলবার তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। অন্যদিকে পালংখালীর রহমতের বিল এলাকার পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। পরে রাতে ঘুমধুম সীমান্তের ওপারেও বড় ধরনের গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে।   

পালংখালীর চেয়ারম্যান গফুর বলেন, “আজকে রহমতের বিলের আনোয়ার নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আবার ঢেঁকিবুনিয়ায় মোবারকসহ আমাদের চারজন গোলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।”

এ অবস্থায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, কোণারপাড়া, পাশের পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, উত্তর রহমতের বিল, দক্ষিণ রহমতের বিল, আনজুমানপাড়া থেকে লোকজন চলে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।   

সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন। দুই জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সংলগ্ন ওইসব এলাকায় এক লাখের বেশি বাসিন্দা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আপাতত নিরাপদ দূরত্বে স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে তাদের রাখা হবে।

শনিবার রাতে বিদ্রোহীরা বিজিপির একটি ফাঁড়ি দখল করে নিলে রোববার সকালে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য। এরপর তিন দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২৬৪ জনে পৌঁছেছে।

তাদের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। তাদের নিরস্ত্র করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর এই সদস্যদের ফেরত পাঠানোর জন্য আলোচনা চলছে। তবে কীভাবে সেটা করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Also Read: আশ্রয়কেন্দ্র নয়, আত্মীয় বাড়ি ছুটছে আতঙ্কিত সীমান্তবাসী

Also Read: মিয়ানমারে যুদ্ধ: সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ

সীমান্ত ঘুরে যা দেখা গেল

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণ করা ১১১ জন সদস্যকে পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে বিজিবি সদস্যরা রয়েছেন, বাইরে শতাধিক গ্রামবাসীর ভিড়। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও রয়েছেন। তবে বিজিবি কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

বাইরে থেকে দেখা যায়, মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যদের এক এক করে তল্লাশি করা হচ্ছে। স্কুল ভবনের নিচতলায় তাদের পাশাপাশি বসিয়ে রাখা হয়েছে।

এক পর্যায়ে স্কুলের বাইরে থাকা লোকজনের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, শূন্যরেখায় সামরিক পোশাকে একদল লোক বিলের মাঝ দিয়ে অস্ত্রসহ হাঁটাহাঁটি করছে।

সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে রহমতের বিল বাজারের কাছে গিয়ে দেখা যায়, বড় এক জটলা। ৫০-৬০ জন মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। তারা জানান, কিছুক্ষণ আগে একজনকে ধরে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আরএসও (রোহিঙ্গা নাগরিকদের সশস্ত্র সংগঠন) সদস্য বলে দাবি করেন।

সেখান থেকে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গেলে লোকজন জানায়, মিয়ানমার থেকে আসা কয়েকজনকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলতে পারেনি। ঘরটির দরজা বন্ধ ছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী তাদের ‘রোহিঙ্গা’ বললেও স্থানীয়রা দাবি করছিলেন, তারা ‘আরএসও’।   

পালংখালী ইউনিয়ন থেকে ঘুমধুম বাজারের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। সীমান্তের মিয়ানমার-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়ক ধরে যেতে হয়। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় গণপরিবহন খুব কম চোখে পড়ে। রাস্তায় মানুষজন নেই বললেই চলে।

আশপাশের বাড়িঘরও অধিকাংশ তালাবন্ধ। মাঠে গরু-ছাগলও কম। অথচ কয়েকদিন আগেও দিনের বেলা মাঠে লোকজনদের কাজ করতে দেখা যেত।  

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, “ভয়ে কেউ কাজে যেতে চাইছে না। অধিকাংশ জমিই তো সীমান্ত বরাবর। যেভাবে গুলি এসে পড়ছে, মানুষ ভয়ে কাজে আসে না।”

যাওয়ার পথে দেখা যায়, মানুষজন ইজিবাইকে করে বাড়িঘর ছেড়ে যাচ্ছে। অনেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছাড়ছেন। কারও কারও সঙ্গে ছাগল, হাঁস-মুরগিও দেখা গেছে। তারা উখিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। 

বেলা আড়াইটার দিকে ঘুমধুম বাজারে গিয়েও খুব বেশি মানুষের দেখা মেলেনি। বাজারের অধিকাংশ দোকান ছিল বন্ধ। একপাশে একটি ওষুধের দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে।

বাজারের আরেকপাশে একটি ছোট চায়ের দোকান ও তার পাশে একটি কম্পিউটারের দোকান খোলা রয়েছে। তবে সেখানে লোকজন তেমন দেখা যায়নি। বরং ভরদুপুরে বাজারটিকে ভুতুরে বলে মনে হচ্ছিল।

এবং ‘আরএসও’

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলতাজ হোসেন বলেন, “আমাদের সামনে মিয়ানমারের ঢেঁকিবুনিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম আছে। গতকাল (সোমবার) রাত ৯টা থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর শতাধিক লোক এসে আত্মসমর্পণ করে। এখন তারা রহমতের বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেল্টার সেন্টারে আছেন।

এলাকার পরিস্থিতি জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আলতাজ বলেন, “অবস্থা তো খুবই খারাপ। আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘরে ঘুমাতে পারে না। সীমান্তের ওপার থেকে মর্টার শেল ও বিভিন্ন গোলা এসে পড়ছে। আজকে আবার মাঠে যাওয়ার পথে সাধারণ কৃষককে গুলি করে দিছে। আমরা নিরাপদে নাই। সরকারের কাছে নিরাপত্তার জোর দাবি জানাই।”

আলাপের এক ফাঁকে তিনি বলছিলেন, “আরএসও (রোহিঙ্গা নাগরিকদের সশস্ত্র সংগঠন) যারা ওপারে ছিল, তারা কিন্তু ক্যাম্পের ওইদিকে ঢুকে পড়ছে। অনেকে আসছে।”

রহমতের বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মোহম্মাদ হোসেন কালু (৪০) বলছিলেন, “নিজের চোখে দেখছি, অনেক রোহিঙ্গা আরএসও অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের রাস্তার ওপারে ওরা বৃষ্টির মত গুলি করছে। ওইদিক থেকেও বৃষ্টির মত গুলি আসতাছে। আমাদের স্থানীয় একজন গুলিবিদ্ধ হইছে। হাসপাতালে নিয়ে গেছে উনারে। মারাও যেতে পারে।

“সকালে মাঠে আমার কানের পাশ দিয়ে শাঁ করে দুইটা গুলি গেছে। লাফাইতে লাফাইতে পরান নিয়ে আসছি।”

রহমতের বিল এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক কবির হোসেন (৪৫) বলেন, “গোলাগুলির প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছে। সকালে দেখতাছি সীমানার কাছে গ্রামের পাশ দিয়ে মিয়ানমারের শতাধিক লোক আসতাছে। পরে তারা বিজিবির কাছে এসে আত্মসমর্পণ করেছে।

“এর কিছু পরে রহমতের বিল বড়পাড়া প্রজেক্টের কাছ দিয়ে আরও কিছু মানুষ আসছে। শুনতাছি তারা বার্মার আরএসও। এরা গোলাগুলি করতাছে, পালায়ে আসতাছে। এরকম একটা অবস্থা। পরে দেখলাম আরএসও আরও অনেকে জড়ো হয়ে আছে। অনেকে আহত, গুলি খাইছে। অনেকে পালাইয়া যাচ্ছে। তাদের হাতে অস্ত্র আছে। কেউ ধাওয়া দিলে যদি গুলি করে বসে, তাহলে তো আমার একটা প্রাণ গেল।”

শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, “রহমতের বিল, আনজুমান পাড়া, পালংখালীর যারা সীমান্তে একেবারে কাছে, তারা খুব ভয়ে আছি। কোন সময় জানি কী হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর আরাকান আর্মি যুদ্ধ করছে, আমরা কেন বিপদের মধ্যে পড়ব, মরব। আমাদের তো সীমান্ত রক্ষা বাহিনী আছে। তাদের কাছে আবেদন, আমাদের নিরাপত্তা দিক।”

পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো, গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা শুনতেছি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় আছেন। সম্ভবত তারা রোহিঙ্গা হবেন না। যদি রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক হত তাহলে তারা এতদিনে চলে আসত। তারা রাখাইন হতে পারে। কারণ, সেখানে যুদ্ধ চলতাছে। তারা আসার জন্য অপেক্ষমাণ। আমি শুনছিলাম, ৪০০ মত লোক মিয়ানমারের চাকমাপাড়ার এদিক আছে।”

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ছাড়া আর কারও অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়রা যাদের আরএসও বলছেন, তাদের পরিচয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও পুলিশ, জেলা প্রশাসন বা বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজিবির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আমরা একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে দেব না। দেশের স্বার্থে সরকারপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।”

অনুপ্রবেশের ব্যাপারে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে জানিয়ে বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কারও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে।”

অনেকের পরিবার সরেছে আগেই

জেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে যাওয়ার কথা বললেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে আগেই পরিবারকে দূরের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যারা আছেন, তারাও বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম (৫০) বলেন, “এখন জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের সরে যাওয়ার কথা বলছে। এরই মধ্যে বাড়িঘর থেকে অনেকে সরে গেছেন; দু-একজন হয়ত আছেন। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি আমরা। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।”

বেতবুনিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী কায়সার হামিদ বলেন, “আতঙ্কে আমাদের রাতে ঘুম আসে না। স্ত্রী ও ছেলেদের জেলা শহরে পাঠিয়ে দিয়েছি। বাড়িতে আমি গরু-ছাগল নিয়া একা আছি। সবার বাড়ির অবস্থা একই।”

ঘুমধুম উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এলাকার অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “বার্মা থেকে অনেক শেল এসে পড়ছে। আমার নিজের পরিবার সরাইয়া ফেলছি। এলাকাতেও লোকজন কম। ভাড়াও হচ্ছে না। দোকানপাট বন্ধ। তারপরও বাইর হইতে হইছে। কারণ খাবারের ব্যবস্থা তো করতে হবে। পেটের দায়।”

লোকজনের চলে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিনের বক্তব্যেও।

বিকালে তিনি ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, “এরই মধ্যে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। তুমব্রু বা আশপাশে ২৪০টির মত পরিবার রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, এরই মধ্যে দেড়শর মত পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি চলে গেছেন। বাকি যারা আছেন তারাও যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

“জলপাইতলীর ৪০ থেকে ৪৫টি পরিবারের সন্ধান আমরা পেয়েছি। সেখান থেকে ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার এরই মধ্যে সরে গেছে এমনটা নিশ্চিত হয়েছি। বাকি যারা আছেন তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা আছে।”