মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, “এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 06:35 AM
Updated : 4 Feb 2024, 06:35 AM

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির অন্তত ১৪ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

তাদের বান্দরবানের তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “ওরা ১৪ জনের মত। ওদের বিজেপি বা বর্ডার গার্ড পুলিশ বলে।

“আপনারা জানেন আরাকান আর্মির সাথে ওদের ফাইট হচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে।”

রোববার দুপুরে তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আরো তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে বিজিবির।

বাংলাদেশের পাশের দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) লড়াই চলছে গত কয়েক মাস ধরেই। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দখলে থাকা অনেক শহর ও এলাকা বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলেও খবর আসছে।

প্রভাব পড়ছে সীমান্তের এপারের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। ওপারের যুদ্ধের গুলি ও মর্টার শেল এপারে এসে পড়ায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে শনিবার রাতভার প্রকম্পিত হয় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রাম। রোববার সকালেও নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলি চলে।

এর মধ্যে ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হন। আতঙ্কে এলাকার অনেকই ঘর বাড়ি ও দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদে সরে যান।

আহত দুই বাংলাদেশিকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খালেদা বেগম।

স্থানীয়রা বলছেন, রাতের যুদ্ধে মিয়ানমারে বর্ডার গার্ড পুলিশের একটি ফাঁড়ি আরাকান আর্মির যোদ্ধারা দখল করে নিয়েছে বলে শুনেছেন তারা। সেই ফাঁড়ির কিছু সদস্যই পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে তাদের ধারণা। 

মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের ওই ১৪ জনের মধ্যে দুইজন গুলিতে আহত অবস্থায় এসেছেন বলে স্থানীয়রা খবর পেয়েছেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।