Published : 23 Aug 2022, 08:12 PM
দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় এক ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চা শ্রমিকরা; এতে সিলেটের পথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কুলাউড়ার স্কুল চৌমহনী এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন শত শত চা শ্রমিকরা। এ সময় তারা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেট অভিমুখী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন কুলাউড়া স্টেশনে আউটার সিগন্যালে আটকা পড়ে।
এর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। প্রায় সোয়া ঘণ্টা পর বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে তাদের রেললাইন থেকে তুলে দেয়। এরপর সিলেটের পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধে অংশ নেওয়া চা শ্রমিক স্বপন নাইডু বলেন, এতোদিন ধরে আমরা ধর্মঘট করছি কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে না। তাই আজ আমরা রেলপথ অবরোধ করেছি।
মৌলভীবাজার শমশের নগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক উত্তম দেব বলেন, “কুলাউড়া স্টেশনের আউটারে বিকেলে ৪টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এক ঘণ্টা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা ছিল।”

কুলাউড়া থানার ওসি মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, চা শ্রমিকরা রেললাইনের ওপরে এসে স্লোগান দিচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেই।
তিনি আরও জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকালে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন লোহাউনি চা বাগানের শত শত শ্রমিক।

তারা প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে এই পথে যানবাহন চালাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ওসি আব্দুছ ছালেক।
রোববার রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে চা শ্রমিক নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর জানানো হয়, শিগগির প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসে তাদের মজুরি নির্ধারণ করে দেবেন এবং দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেবেন।
এই আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আগের ১২০ টাকা মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের অধিকাংশ বাগানেই চা শ্রমিকরা কাজ থেকে বিরত থাকেন। কিছু বাগানে শ্রমিক কাজে যোগ দিলেও দুপুরের পর তারা আন্দোলনে যোগ দেন।

মঙ্গলবারও ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়া চা শ্রমিকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। হয় দাবি পূরণ, অথবা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস- এর বাইরে অন্য কারও আশ্বাসে কাজে ফিরবেন না সাধারণ শ্রমিকরা।
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৯ অগাস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন দেশের ১৬৭ চা বাগানের সোয়া লাখের বেশি শ্রমিক। ১৩ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন তারা।
আরও পড়ুন:
সিলেটে পঞ্চায়েত ও চা শ্রমিক নেতাদের বৈঠক, কর্মবিরতি থাকছেই
মজুরি বৃদ্ধির দাবি: হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত
সিলেটের ২৩টির মধ্যে কাজে ফিরেছেন চার বাগানের শ্রমিক
চা শ্রমিক ইউনিয়ন কাজে ফিরছে ১২০ টাকা মজুরিতেই
চা শ্রমিকের মজুরি বেড়ে ১৪৫ টাকা, আন্দোলন প্রত্যাহার
মজুরি ৩০০ টাকা করতে দুদিন সময় দিয়ে রাস্তা ছাড়ল চা শ্রমিকরা
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চা শ্রমিকদের অবরোধ, দীর্ঘ যানজট
শ্রমিক ধর্মঘট: মৌলভীবাজারে ফিনলে টি’র ৫ বাগানের জিডি
কর্মবিরতির মধ্যে শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে চা শ্রমিকরা
বাগানে বাগানে মিছিল, এমপিকে স্মারকলিপি চা শ্রমিকদের
ভরা মৌসুমে শ্রমিক ধর্মঘটে শঙ্কায় চা বাগান
মজুরি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান চা শ্রমিকরা
১২০ টাকায় কীভাবে সংসার চলে, প্রশ্ন চা শ্রমিকের
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা বাগানে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি