Published : 18 Aug 2022, 10:21 PM
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের ধর্মঘটের মধ্যে ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে মৌলভীবাজারে ফিনলে টি’র মালিকানার পাঁচটি চা-বাগান কর্তৃপক্ষ থানায় জিডি করেছে।
শ্রীমঙ্গল থানায় মঙ্গলবার ও বুধবার এই পাঁচটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় বলে ওসি শামীম অর রশিদ তালুকদার জানান।
শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চা ও রাবারের কষ নষ্ট হচ্ছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত শনিবার থেকে চা শ্রমিকরা ধর্মঘট করছেন। এর মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শামীম অর রশিদ তালুকদার জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট, ডিনস্টন, খেজুরী, আমরইল ছড়া ও বালিশিরা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপকরা শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে কাঁচা চা-পাতা ও রাবারের কষ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এনে জিডি করেছেন।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রাজঘাট চা-বাগানের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৫ কেজি, ডিনস্টন চা কারখানায় ৯৯ হাজার ২৫০ কেজি, বালিশিরা চা কারখানায় ৫০ হাজার ২০৭ কেজি, আমরইল চা কারখানায় ৫ হাজার ৬৮৩ কেজি কাঁচা চা-পাতা নষ্ট হয়ে গেছে।
শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকে কাজ বন্ধ রাখায় উত্তোলিত চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না; তাই এই কাঁচা পাতাগুলো কারখানায় থেকে নষ্ট হচ্ছে এবং এতে কোটি টাকার উপর ক্ষতি হচ্ছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফিনলে টি-এর সিইও ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের সদস্য তাহসিন আহমদ চৌধুরী বলেন, কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন ১২ কোটি টাকার চা ও রাবারের ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের কোম্পানির ৫টি বাগান থেকে ইতিমধ্যে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, অন্যগুলো প্রক্রিয়াধীন।
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘটের মধ্যে মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর কার্যালয়ে চা শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরীর দিনব্যাপী আলোচনা হয়। কিন্তু এতে সমঝোতা হয়নি। পরে বুধবার বিকালে ঢাকার শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তর ত্রিপক্ষীয় সভায় বসে। সেখানেও কোনো সমাধান আসেনি।
দৈনিক ন্যূনতম ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে গত ৯ অগাস্ট থেকে টানা চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করেন শ্রমিকরা। এরপর শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন, যা এখনও চলমান আছে।