Published : 25 Jun 2026, 03:00 PM
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় করা মামলার ঘটনায় ‘বিব্রত’ হয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুকে আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ মামলা সম্পর্কে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না এবং কে বা কারা এটি দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও তাঁর কোনো ধারণা নেই।
সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁর নির্বাচনি এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় চরমোনাই পীর সাহেবের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তাঁর আইনজীবীকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে সংঘটিত একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর যে অভিযোগ ছিল, তা তিনি সংসদেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা হয়রানিমূলক পদক্ষেপে তিনি বিশ্বাসী নন বলেও ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় আইন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে। ”
এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করা হয়।
জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খোকন নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তিনি যুবদলের কোনও স্তরেরই সদস্য নন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন-
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা, বাদীর পরিচয় নিয়ে