Published : 26 Jul 2026, 10:50 PM
বরিশালের হিজলা উপজেলায় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অন্তত ১২ আহত হয়েছেন।
হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, রোববার বিকালে হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের শাওড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন বেপারী এবং ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন বেপারীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আহত যুগ্ম আহ্বায়ক আলম শরীফ সিকদার, জসিম উদ্দীন সিকদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বাবুর্চি, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার মাঝিসহ অন্যদের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন বেপারীর ছেলে আমান বলেন, তার বাবা হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাই আছরের নামাজের পর শাওড়া বাজারে সৌজন্য সাক্ষাত করতে যান।
তিনি বলেন, “এ সময় ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লা, হিজলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রয়াত গাফফার তালুকদারের ছেলে তানভীর তালুকদার, মামুন দেওয়ানসহ সন্ত্রাসীরা হামলা করে। তারা বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার এক পা ভেঙে দিয়েছে। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্যদেরও পিটিয়ে-কুপিয়ে আহত করেছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহপাঠাগার সম্পাদক ইসমাইল মোল্লা। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি থানায় ছিলাম, পরে শুনতে পেয়েছি শাওড়া বাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা করছে আমি জানি না। ফরিদ বেপারী আমার অভিভাবকের মত। তার উপর আমি কেন হামলা করব।”
বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, মেঘনার তীরে মাছ ঘাট নিজেদের দখলে রাখতে হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির দেওয়ানের অনুসারী ফরিদ উদ্দিন বেপারী এবং উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন দপ্তরীর অনুসারী ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লার বিরোধ রয়েছে।
এ নিয়ে উভয় পক্ষ প্রায়ই হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে। এর আগে ফরিদ উদ্দিন বেপারীর সমর্থকদের হামলায় ইসমাইল মোল্লার পা ভেঙেছিল। তিনি সুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় যান। তখন বিরোধী পক্ষের লোকজন তার উপর হামলা করে এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
নেতাকর্মীরা বলেন, তখন পুলিশ হামলার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন বেপারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণ পায়নি বিরোধী পক্ষ। এ কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, “ঘটনাটি শোনার পর পরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাপেক্ষে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”