Published : 27 Jul 2026, 08:25 PM
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঞ্চয়ী হিসাব ও এফডিআর গ্রাহকদের দুই কোটি টাকার হদিস না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রোববার বিকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেট শাখাটি ঘেরাও করে রাখেন কয়েকশ গ্রাহক।
খবর পেয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করে স্থানীয় তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয় বলে জানান ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মতিউল ইসলাম।
এ ঘটনায় ওই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মো. মাহবুল ইসলাম দোষ স্বীকার করে এক মাসের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার মালিক মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, “সবুজ মিয়া ও মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে ৪৬ জন গ্রাহকের সঙ্গে এসব অপকর্ম করেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন তারা। এ অঙ্গীকার করায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।”
পুলিশ ও আমানতকারীরা জানান, সম্প্রতি রেশমা বেগম ওই শাখায় তার ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করে রাখা পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করতে যান। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানান তার একাউন্টে কোনো টাকা নাই। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে রোববার আসতে বলা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার একে একে প্রায় অর্ধশত গ্রাহক সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে এ শাখায় কোনো এফডিআর করা হয় নাই। এ সময় তারা টাকা জমা রশিদ ও এফডিআর চেক দেখান। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, জমা রশিদ ও এফডিআর চেকগুলো নকল।
অপরদিকে ব্যাংকের ওই শাখার সঞ্চয়ী হিসাবধারী একাধিক গ্রাহক এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের একাউন্টে জমা করা টাকার পরিমাণেও বিশাল গরমিল। পরে ভুক্তভোগীরা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
গ্রাহক রেশমা বেগম বলেন, প্রায় তিন বছর আগে এই শাখা পাঁচ লাখ টাকা (পাঁচ বছর মেয়াদি) ফিক্সড ডিপোজিট করেন তিনি। সম্প্রতি তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় বৃহস্পতিবার উত্তোলন করতে যান। তবে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তার একাউন্টে কোনো টাকা নাই।
তখন তিনি টাকা জমা রশিদ ও এফডিআর চেক দেখালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রোববার যেতে বলেন। রোববার গিয়ে জানতে পারেন জমা রশিদ ও এফডিআর চেক ভুয়া।
ওই শাখার অপর গ্রাহক হেলাল মণ্ডল বলেন, প্রায় তিন বছর আগে এ শাখায় চার লাখ টাকা এফডিআর করেন তিনি। রোববার তিনিও ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তার নামে এ শাখায় কোনো টাকা এফডিআর করা হয় নাই।
তিনি বলেন, “এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার মুহূর্তের মধ্যে প্রায় অর্ধশত গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করেন। তবে প্রত্যেকের কাছে থাকা টাকা জমা রশিদ ও এফডিআর চেক ভুয়া বলে জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।”
এজেন্ট ব্যাংকের মালিক ওয়ালিউর রহমান বলেন, “ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে এসব অপকর্ম করেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।”
পুলিশ পরিদর্শক মতিউল ইসলাম বলেন, “গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া টাকা এক মাসের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেরত দেবেন। গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই শর্তে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সমাধান হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী ব্যাংকের পীরগঞ্জ (রংপুর) শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাদিউল ইসলাম বলেন, “অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলাম সহায়তায় ওই শাখার ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া এফডিআর করতে আসা গ্রাহকদের আবেদন ফরম পুরন করিয়ে টাকা গ্রহণের পর ভুয়া জমা স্লিপ এবং স্ক্যান করা এফডিআর চেক প্রদান করেন।
“শুধু তাই নয় এসব গ্রাহকের প্রতি মাসে লাভের টাকাও প্রদান করেছেন তারা। এ ছাড়া সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে আসলে তাদের সরলতার সুযোগ নেওয়া হয়। তবে গ্রাহকরা যাতে তাদের আমানতের টাকা ফেরত পান, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”