১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে বৃদ্ধ দম্পতির দুর্দশার খবর প্রকাশের পর পাশে প্রশাসন, ঘর-অটোভ্যান উপহার

“ছেলের জন্য ব্যাটারিচালিত ভ্যান উপহার দিলাম, যাতে বৃদ্ধ দম্পতির ছেলের মাধ্যমে আয়ের একটি উৎস হয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Sep 2026, 02:22 PM

Updated : 18 Sep 2026, 02:22 PM

শেরপুরের ভাইরাল সেই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি সাজু শেখ ও নুরজাহান বেগম নতুন ঘর পেয়েছেন। পাশাপাশি তাদের ছোট ছেলের আয়ের উৎস হিসেবে দেওয়া হয়েছে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান।

বৃহস্পতিবার বিকালে শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া গ্রামে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন অটোভ্যানটি তাদের ছোট ছেলের হাতে তুলে দেন।

একই সঙ্গে জরাজীর্ণ পুরোনো ঘরটি ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। এ সময় দম্পতিকে নতুন কাপড়ও দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাংবাদিক রফিক মজিদসহ বিভিন্ন সংবাদকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ৮০-ঊর্ধ্ব সাজু শেখ ও তার শয্যাশায়ী স্ত্রী নুরজাহান বেগমের দুর্দশার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে একমুঠো খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার সেবায় সোহেল’ প্রথম তাদের পাশে দাঁড়ায়।

সংগঠনটি নগদ ১০ হাজার টাকা ও প্রায় ৪২ হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী দেয়। পরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।

এদিকে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, স্থানীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, জেলা যুবদল, রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও ওই দম্পতির পাশে দাঁড়ায়।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ওই দম্পতির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাদের শহরের বেসরকারি আবেদীন হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুদিন চিকিৎসা শেষে বুধবার তারা বাড়ি ফেরেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ফেইসবুকে ভাইরাল বৃদ্ধ দম্পতির খবর পেয়েই আমরা প্রাথমিকভাবে রোববার রাতেই খাদ্য ও নগদ অর্থ দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে নানা সাহায্য-সহযোগিতা আসছে।

“আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধ দম্পতির ঘর নির্মাণ এবং তার ছেলের জন্য ব্যাটারিচালিত ভ্যান উপহার দিলাম, যাতে বৃদ্ধ দম্পতির ছেলের মাধ্যমে আয়ের একটি উৎস হয়।”