Published : 27 Jul 2026, 05:11 PM
ফরিদপুরে এক লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান।
দণ্ডিত ৪৩ বছর বয়সী মনোজিত সরকার মধুখালী উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে। সাজার পাশপাশি তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন বিচারক।
জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা আদায় করে তা ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। এই দম্পতির নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের সময় চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি সোনা এবং ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে মনোজিতকে দেওয়া হয়।
এরপর ধাপে ধাপে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত নগদ আরও এক লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে তাকে দেওয়া হয়। সবশেষ ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে মনোজিত। এই টাকা দিতে না পারায় ২০ এপ্রিল বিকালে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্ত্রীকে হত্যা করে মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন মনোজিত। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছে। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় রমাকে হত্যা করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিতসহ তার ছয় স্বজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে রমাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুখালী থানার এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর মনোজিত ও তার ছয় আত্মীয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পিপি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এছাড়া এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের নিকট আত্মীয় মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। তারা হলেন- বিপুল সরকার (৫৩), সরজিৎ সরকার (৪৬), লিটন সরকার (৩৬), বিপ্লব সরকার (৩৩), সবুজ সরকার (৩০) ও দীপালী সরকার (৪৮)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী বলেন, “এ রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমবে।”