১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ থেকে উত্তর সাগর: সমুদ্রেই গড়ে উঠছে ভূরাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র

বিশ্বের সমুদ্রগুলো এখন শুধু বাণিজ্যের পথ নয়, ভূরাজনীতি ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মঞ্চ। হরমুজ থেকে দক্ষিণ চীন সাগর—কেন বদলে যাচ্ছে সামুদ্রিক বিশ্বব্যবস্থা? ‘দ্য গার্ডিয়ান’ থেকে অনূদিত সাইমন টিসডালের বিশ্লেষণ।

হরমুজ থেকে উত্তর সাগর: সমুদ্রেই গড়ে উঠছে ভূরাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র
ওমানের মুসান্দাম এলাকা থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি জাহাজ। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ২৪

লেখা: সাইমন টিসডাল | অনুবাদ: রাকিবুল রাকিব

Published : 27 Jul 2026, 03:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

হরমুজ প্রণালিতে নৌ টহল জোরদার করে ইরানি হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষার সামরিক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নয়। প্রায় দুই শতক আগেও তারা একই ধরনের নীতি অনুসরণ করেছিল। ১৮২৫ থেকে ১৮২৭ সালের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে গ্রিক জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শক্তিশালী নৌ কমান্ডার জন রজার্সকে।

তখন যুক্তরাষ্ট্র ছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত এক প্রজাতন্ত্র। অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গ্রিক জনতার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াইয়ে তারা জড়ায়নি। তাদের লক্ষ্য ছিল নিজ দেশের বাণিজ্য, বাজার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা। ইরানে জনগণের বিপ্লবের আশা ছেড়ে দেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতিও শেষ পর্যন্ত সেই পুরোনো মার্কিন বাস্তববাদে ফিরে গেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি, তবু সপ্তদশ শতকে ডাচ আইনবিদ হুগো গ্রসিয়াসের গড়ে তোলা অবাধ সমুদ্রনীতির পক্ষে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেয়। ইরানের টোল আদায়ের দাবিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশকে টোল বা ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না।”

কিন্তু ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান নেন; তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রও এমন টোল আরোপ করতে পারে। পরে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের অধীনে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ও ওমানের টোল আদায়ের বিষয়টি মেনে নেন। পুনরায় মার্কিন হামলা শুরু হয়েছে, ট্রাম্পের হুমকিও তীব্র হয়েছে। তবু ভবিষ্যতে নতুন কোনো সমঝোতা হলে, তার ভিত্তি এখনো সেই সমঝোতা স্মারক।

ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান সমুদ্রে অবাধ চলাচল নিয়ে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে দুর্বল করছে। এর সঙ্গে নড়বড়ে হয়ে উঠছে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিও। ট্রাম্পের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর রাষ্ট্র চাইলে নিজের স্বার্থে গভীর সমুদ্রের সম্পদ, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা বহুপক্ষীয় চুক্তিকে উপেক্ষা করেই এগোতে পারে।

কিন্তু এই মানসিকতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্য রাষ্ট্রও একই পথ অনুসরণ করতে পারে। সেই আশঙ্কাই ক্রমশ বাড়ছে। একুশ শতকের নৌ-সংঘাত বিসমার্কের যুগের জুটল্যান্ড বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিডওয়ের মতো বিশাল নৌবহরের মুখোমুখি লড়াই নয়। তবু সংঘাতের মূল প্রশ্নগুলো বদলায়নি; প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সীমান্ত, মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ক্ষমতার লড়াই আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালি; এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরু পথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

হরমুজ প্রণালি; এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরু পথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

আজকের সামুদ্রিক সংঘাতের বহু রূপ রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থা। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ। চলতি সপ্তাহে সেখানে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের প্রায় ২২ শতাংশই মালাক্কা প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। তাই হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় আটকে থাকবে না। ইন্দোনেশিয়া যদি মালাক্কা প্রণালিতে একই ধরনের টোল চালু করে, তুরস্ক যদি বসফরাস প্রণালিতে তা অনুসরণ করে, কিংবা স্পেন যদি জিব্রাল্টার প্রণালিতে একই দাবি তোলে, তাহলে এর প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বে। এমন নজির ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে; কারণ, বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য এখনো সমুদ্রপথেই পরিবাহিত হয়।

এদিকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান-সংলগ্ন জলসীমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির সামুদ্রিক অঞ্চলের অন্যতম। দক্ষিণ চীন সাগরের ছোট ছোট প্রবালপ্রাচীরের ওপর চীন কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করে সেগুলোকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। এ নিয়ে ফিলিপাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘাত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মানার ক্ষেত্রেও বেইজিং বেছে বেছে অবস্থান নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যতিক্রম নয়। ২০১৬ সালে ‘পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন’ রায় দেয়, দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় চীনের সার্বভৌমত্বের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই; কিন্তু বেইজিং সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে।

গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চীনের একটি ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ জাপানের ওকিনোটোরি দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে, জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে সরাসরি গোলাবর্ষণ করে। টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। তবে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে জাপান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করবে না। সেই বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য স্থল ও সমুদ্রপথের যৌথ অভিযান সামনে রেখে চীনের নৌ ও বিমানবাহিনী নিয়মিত মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

চীনা যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি রাশিয়ার একটি মাঝারি আকারের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এতে স্পষ্ট হয়, সমুদ্রকেন্দ্রিক এই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় মস্কোও সক্রিয়ভাবে নেমেছে। ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেইনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। একসময় পুতিনের সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই বহরের অনেক জাহাজ এখন বন্দরে আটকে আছে। কৃষ্ণসাগরে আগের মতো প্রভাব ধরে রাখাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ইউক্রেইনের ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে মস্কো সমুদ্রপথে হাইব্রিড তৎপরতা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগরের তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে ধরা হচ্ছে।

রাশিয়ার এই তৎপরতা অবশ্য বাল্টিক সাগরেই সীমাবদ্ধ নয়; উত্তর আটলান্টিক, উত্তর সাগর ও ইংলিশ চ্যানেলেও দেশটির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনের টহল জোরদার করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, ভবিষ্যতের অন্তর্ঘাতমূলক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই রাশিয়া সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অবস্থান ও দুর্বলতা শনাক্ত করছে। সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয় গত সোমবার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ রয়্যাল নেভির প্লাইমাউথ নৌঘাঁটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিরল সামরিক মহড়া চালায়।

ঘটনাটি ছিল ভয় দেখানো, উসকানি দেওয়া এবং ব্রিটেন ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যাচাইয়ের ধারাবাহিক আগ্রাসী তৎপরতার সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগের মাসে আইল অব ওয়াইটের অদূরে একটি ব্যক্তিগত প্রমোদতরীর কাছাকাছি রাশিয়ার একটি ফ্রিগেট সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করেছিল। প্রতিটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে হয়তো খুব বড় কিছু মনে হবে না। কিন্তু ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে দ্রুত বাড়তে থাকা সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে। তখন এগুলো আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না; একের পর এক অশনি-সংকেতে পরিণত হয়।

একই সময়ে সমুদ্র আইন অমান্য করার প্রবণতাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। মার্চে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বেআইনি ঘটনা, গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের জাহাজের তীব্র মুখোমুখি অবস্থান, ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ জোরপূর্বক দখলের ট্রাম্পের হুমকি এবং ভেনেজুয়েলার উপকূলে বেসামরিক নৌযানে বোমা হামলা—সবই একই ধারার অংশ। এ মাসে দক্ষিণ-প্রশান্ত মহাসাগরে চীন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালায়, যা অস্ট্রেলিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়াও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।

এই সামগ্রিক অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। তাই পুনর্গঠিত ব্রিটিশ সরকারের ওপর দুর্বল হয়ে পড়া রয়্যাল নেভিকে শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা ট্রাইডেন্টের আধুনিকায়ন অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে।

তবে বিষয়টি শুধু অস্ত্র প্রতিযোগিতার নয়। সমুদ্রকে ঘিরে চলমান এই বহুমাত্রিক সংঘাত আরও গভীর একটি পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামুদ্রিক সহযোগিতা ও যৌথ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মুক্ত বাণিজ্য, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নির্ধারণ, মৎস্যসম্পদ আহরণ, গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন কিংবা সামুদ্রিক দূষণ—এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনের কার্যকারিতা ক্রমশ ক্ষয় হচ্ছে।

এর ফলে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা সামনে আসছে, যেখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও কম সম্পদশালী দেশগুলোর মতামতকে তোয়াক্কা না করেই শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজ স্বার্থ ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সবার জন্য উন্মুক্ত ও যৌথ সম্পদের যে ধারণা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি ছিল, সেটিও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এক অর্থে, এটি উনিশ শতকের লর্ড পামারস্টনের গানবোট ডিপ্লোম্যাসির আধুনিক এবং আরও বিস্তৃত সংস্করণ। পার্থক্য শুধু এতটুকু—এবার সেই শক্তির প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠেছে বিশ্বের বিস্তীর্ণ সমুদ্রাঞ্চল।

লেখাটি দ্য গার্ডিয়ান’ থেকে অনূদিত; এর লেখক ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন টিসডাল ওই পত্রিকাটির সহযোগী সম্পাদক ও প্রধান ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমেন্টেটর কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি গার্ডিয়ানের ফরেন এডিটর ও ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ইউএস এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি মূলত ভূরাজনীতি, বিশ্ব নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং মানবাধিকার বিষয়ে তার ধারালো ও আপসহীন কলামের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।