Published : 26 Jul 2026, 07:26 PM
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের অত্যন্ত আপত্তিকর দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। আপাতদৃষ্টিতে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে অত্যন্ত কঠোর ও দায়িত্বশীল বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই পুরো কেলেঙ্কারির অন্তরালে যে রাজনৈতিক ঢাল, চরম অসঙ্গতিপূর্ণ কুযুক্তি এবং ধর্মের দোহাই দেওয়া নীতিবাগীশতার কঙ্কাল ফুটে উঠেছে—তা কেবল একজন ব্যক্তি মানুষের চরিত্রস্খলনের গল্প নয়; আমাদের দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় এবং ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সামাজিক ভন্ডামির দলিল।
এই ঘটনাটির গভীরতা অনুধাবন করতে হলে আমাদের শুরুতেই বুঝতে হবে ‘সেক্সটরশন’ (Sextortion) ধারণার প্রকৃত অর্থ কী। সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এবং আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে এটি এক ধরনের গুরুতর অপরাধ। সহজ কথায়, ‘সেক্সটরশন’ হলো নিজের অবস্থান, পদবী বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো কাছ থেকে যৌন সুবিধা আদায় করা। যখন কোনো উচ্চপদস্থ, প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর ব্যক্তি তার অধীনস্থ, সুবিধাভোগী কিংবা সাহায্যপ্রার্থী কোনো দুর্বল মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন—বিশেষ কোনো সরকারি চাকরি, পদোন্নতি, অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বা দেওয়ার বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য বা প্রভাবিত করেন—তখনই তাকে ‘সেক্সটরশন’ বলা হয়। এটি কোনো স্বাভাবিক সম্মতিভিত্তিক প্রেম বা শারীরিক সম্পর্ক নয়; বরং ক্ষমতার জোরে একজন মানুষের অসহায়ত্বকে ব্যবহার করার চরম অনৈতিক মাধ্যম।
বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় সেক্সটরশনকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও জেল খাটতে হয়েছে।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে নরওয়ের সাবেক মন্ত্রী সোয়েন লুডভিগসেন সেক্সটরশনের দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি দেশের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন তরুণ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ও নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সুবিধা আদায় করেছিলেন। আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাকে কাজে লাগিয়ে নেওয়া এই সুবিধা সরাসরি অপরাধ।
একই ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারক স্টিভেন এলিস। তিনি একজন অসহায় শরণার্থী নারীকে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিময়ে যৌন সুবিধা দাবি করেছিলেন। আদালত তাকে কঠোর সাজা দেয়।
আন্তর্জাতিক এই নজিরগুলো প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার বিনিময়ে শরীর বা যৌন সুবিধা আদায় করা কোনো ব্যক্তিগত রসালো বিষয় নয়, রীতিমতন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এখন প্রশ্ন আসে, সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামের কেলেঙ্কারিটি কীভাবে এই সেক্সটরশনের সংজ্ঞায় পড়ে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, ৭৫ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও ঘনিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অনেকে এটিকে দুটি মানুষের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেবে ভুল করতে পারেন। কিন্তু অনুসন্ধানে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা হলো—ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্ত বা চাকরির আবেদনপত্রে গাজী নজরুল নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে সুপারিশ করে স্বাক্ষর করেছিলেন। একজন সাবেক সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী জেলা নেতা এবং একটি সুসংগঠিত দলের বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের কাছে সাহায্য চাইতে আসা ১৮ বছরের এক উঠতি তরুণীর অবস্থান ছিল চরম অসহায়। সরকারি বা বেসরকারি চাকরির একটি সুপারিশপত্রের বিনিময়ে একজন বৃদ্ধ নেতা যখন সেই তরুণীকে নিজের ঘনিষ্ঠতায় টেনে নেন, তখন সেটি আর যা-ই হোক না কেন—‘পারস্পরিক সম্মতি’ থাকে না। গাজী নজরুল নিজের পদ ও প্রভাবকে একটি তরুণীর নৈতিক ও শারীরিক শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা সেক্সটরশনের পরিষ্কার দৃষ্টান্ত।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর বহু সমর্থক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করার চেষ্টা করছেন যে, এটি মোটেও কোনো সেক্সটরশন নয়; বরং সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে উভয়ের সম্মতিতে, এটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তাদের এই দাবির ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বিরাট রাজনৈতিক বিপরীতমুখী অসঙ্গতি। একটি দলের সংসদ সদস্য যখন কোনো চাকরির আবেদনে অফিশিয়াল স্বাক্ষর করেন, তখন সেটি দলের ও জনপ্রতিনিধির আমানত। সেই আমানত যদি অনৈতিক সম্পর্কের বিনিময়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটি ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর সবচেয়ে নাটকীয় মোড় নেয় গাজী নজরুল ও তার ঘনিষ্ঠদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার আগপর্যন্ত সাতক্ষীরা বা ঢাকার কেউ জানতেন না যে ১৮ বছর বয়সী সেই তরুণী নাকি ৭৫ বছর বয়সী এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’! বিপদে পড়ার পর রাতারাতি কাজী, কাবিননামা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর গল্প ফাঁদা হয়। কিন্তু এই বানানো গল্পে অসঙ্গতির পরিমাণ এতই বেশি যে, তা সাধারণ মানুষের চোখ এড়াতে পারেনি।
সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় কাগজপত্রে। যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গত ২২ জুনেও গাজী নজরুল যে তরুণীর জীবনবৃত্তান্তে স্বহস্তে স্বাক্ষর ও সুপারিশ করেছিলেন, সেই সিভিতে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল—‘অবিবাহিত’। যদি সমর্থক ও এমপির দাবি অনুযায়ী গত ১৭ জুনেই তাদের বিয়ে হয়ে থাকে, তবে ২২ জুনের অফিশিয়াল কাগজে ওই মেয়েকে কেন ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হলো? নিজের স্ত্রীকে চাকরির সিভিতে অবিবাহিত দেখিয়ে এমপির সুপারিশ করার এই চরম মিথ্যাচার প্রমাণ করে, স্ক্যান্ডাল ফাঁসের পরেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র নাটক সাজানো হয়েছে।
ঘটনাটি সামাল দিতে গিয়ে গাজী নজরুলের অন্ধ সমর্থক ও বট বাহিনীর সদস্যরা যে পরিমাণ পরস্পরবিরোধী ও হাস্যকর যুক্তি দাঁড় করিয়েছে, তা এক অনন্য রাজনৈতিক তামাশায় পরিণত হয়েছে। এখানেই চরম কৌতুকপ্রদ প্রশ্নটি উঠে আসে—যদি ওই তরুণী সত্যিসত্যিই তাদের প্রিয় নেতার ‘বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী’ হয়ে থাকেন, তবে কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মাদের মতো ‘এআই দিয়ে বানানো’ বা ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত ও হানিট্র্যাপ’ বলে চিৎকার করার প্রয়োজন পড়ল কেন? প্রকৃতপক্ষে, সত্য গোপন করার জন্য তারা একই সঙ্গে একাধিক মিথ্যা ন্যারেটিভ বাজারে ছেড়েছিল। কিন্তু এই গল্পগুলোর একটি অন্যটির বিরুদ্ধে চলে যাওয়ায় তাদের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে এবং প্রমাণ হয়েছে যে পুরো বিষয়টিই ছিল একটি সাজানো ঢাল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় বা নীতিবাগীশ দলগুলোর নেতাদের একটি সাধারণ প্রবণতা হলো সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, শালীনতা ও নীতিবিদ্যার পাঠ দেওয়া। গাজী নজরুল ইসলামও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। সম্প্রতি গাজী নজরুলের অতীতের কিছু বক্তব্য নতুন করে সামনে এসেছে, যেখানে তিনি নারীদের চলাফেরা ও সামাজিক ভূমিকা নিয়ে কড়া নসিহত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "মেয়েরা শালীনভাবে চলবে, মাথায় রাখবে পর্দা। আমরা চাই মেয়েরা শালীনভাবে চলুক... মেয়েরা একটু দূরে গেলে রক্তের সম্পর্কের কাউকে (মাহরাম) অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। একা চলাটা ঠিক না।"
যে রাজনীতিক প্রকাশ্যে নারীদের ঘর থেকে বের হতে হলে ‘মাহরাম’ বা পুরুষ অভিভাবক, যার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলে না, রাখার ওয়াজ করেন, যিনি নারীদের একা চলাফেরা নিয়ে নীতিবাক্য শোনান, তিনি নিজেই বন্ধ ঘরে এক তরুণীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটান। ক্ষমতার লোভ ও সুপারিশের মুলা ঝুলিয়ে একজন কমবয়সী মেয়েকে শোষণ করেন। সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর ধর্মের কঠোর নিয়মকানুন চাপিয়ে দেওয়া এই নীতিবাগীশদের ব্যক্তিগত জীবনের আড়ালে কত বড় নৈতিক স্খলন ও চরম ভন্ডামি লুকিয়ে থাকে, গাজী নজরুলের এই কেলেঙ্কারি তার নজির। মুখ আর মুখোশের এই তফাতই প্রমাণ করে তাদের প্রচারিত নীতিবাক্য মূলত সাধারণ মানুষকে শাসন করার হাতিয়ার, নিজেদের মেনে চলার জন্য নয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী তাদের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা (নৈতিক স্খলন) অনুযায়ী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে দল থেকে ছেঁটে ফেললেই কি একটি রাজনৈতিক দল তাদের সামগ্রিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে পারে?
আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের আমল থেকে শুরু করে অতীতের যেকোনো সময়ে যখনই অন্য কোনো রাজনৈতিক দল—যেমন বিএনপির—তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কর্মী বা নেতা কোনো অন্যায়, চাঁদাবাজি বা অপরাধে জড়িয়েছে, তখনই জামায়াত ও শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। তারা দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়েছে এবং পুরো দলকে অপরাধীদের আস্তানা বলেছে। তাহলে আজ যখন তাদের একজন সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও প্রবীণ নেতা এমন জঘন্য নৈতিক চরিত্রহীনতা ও সেক্সটরশনে হাতেনাতে ধরা পড়লেন, তখন কেন তারা বলবেন—‘এটি ব্যক্তির অপরাধ, দলের নয়?’ অন্যের বেলায় সামান্য অপরাধেও পুরো দল ও দলের প্রধানকে দায়ী করা, আর নিজের বেলায় ‘দল তো ব্যবস্থা নিয়েছে, ব্যক্তির দায় দল নেবে কেন’ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও চরম দ্বিমুখী নীতি। যদি বিএনপির কর্মীর অপরাধের দায় তারেক রহমানের ওপর বর্তায়, আমিও মনে করি তারেক রহমানকে দায় নিতে হবে, যেমন গাজী নজরুলের এই অনৈতিক অপরাধের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকেও সমানভাবে বহন করতে হবে।
গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বটে, কিন্তু সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের ভাবতে হবে—কেবল দলীয় বহিষ্কারই কি এই ধরনের অপরাধের যথেষ্ট শাস্তি হতে পারে?
১. আইনি ও ফৌজদারি বিচার: এটি কোনো সাধারণ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত সেক্সটরশন। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে একজন এমপির পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে তরুণীকে শোষণের নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত হতে হবে। নরওয়ে বা কানাডার মতো আমাদের দেশেও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই নেতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যারা সংবাদমাধ্যম ও জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ভিডিওটিকে ‘এআই জেনারেটেড’ বলে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে এবং ভুক্তভোগী তরুণীটির চরিত্রহনন করেছে, সেই দলীয় সাইবার ক্যাডারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
মনিরা নাজমী জাহান, পিএইচডি গবেষক, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য। ই-মেইল: [email protected]