০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশে কী হতে পারে, কী প্রস্তুতি দরকার

“বৃষ্টি ও বন্যার মৌসুমি পূর্বাভাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিতে পারবেন।”

এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশে কী হতে পারে, কী প্রস্তুতি দরকার

ছবি: মুস্তাফিজ মামুন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 01:37 AM

Updated : 08 Oct 2026, 02:01 AM

কয়েক দশকের মধ্যে এবারের এল নিনিও সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। জলবায়ুজনিত এ ঘটনার প্রভাব থাকবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বাংলাদেশে এর প্রভাব কতটা পড়তে পারে, আর সেজন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার—সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এবারের এল নিনিও দেড়শ বছরের মধ্যে অন্যতম ‘সুপার এল নিনিও’ হতে যাচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পর্যন্ত বাড়তে পারে।

১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালে যে এল নিনিও দেখা গিয়েছিল, সেসবে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ থেকে ২.৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনিও হয়েছিল ১৮৭৭-৭৮ সালে; তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৫৮ ডিগ্রি বেশি ছিল। এবার তার চাইতেও তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

এল নিনিও হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পূর্ব ও মধ্যভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার জলবায়ুজনিত ঘটনা। এটি সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পরপর ঘটে এবং কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি স্থায়ী হতে পারে।

এর ফলে কেবল প্রশান্ত মহাসাগর নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা, খরা, বন্যা ও ঝড়ের ধরনেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাণিজ্যিক বায়ু বয়ে যায়। এ বাতাস উষ্ণ পানিকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে নেয়, আর দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে নিচ থেকে ঠান্ডা পানি উঠে আসে।

এল নিনিওর সময় এ বাতাস দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে সরে আসে। এতে অঞ্চল ও ঋতুভেদে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, খরা, বন্যা ও ঝড়ের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এল নিনিওর কী প্রভাব বাংলাদেশে

এল নিনিওর প্রভাব অঞ্চলভেদে যে ভিন্ন হয়, সেই বাস্তবতার কথা জানিয়ে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, মূলত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ওপর এর প্রভাবই বেশি দেখা যাবে। কোথাও বন্যা হতে পারে, কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

তিনি বলেন, আবার কোনো কোনো এলাকায় শুষ্কতা বা খরা দেখা দিতে পারে। কোথাও তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। সমুদ্রের ক্ষেত্রে প্রবাল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা কোরাল ব্লিচিং এবং সামুদ্রিক তাপপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, এল নিনিওর উৎপত্তি প্রশান্ত মহাসাগরে হলেও বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকায় দূরবর্তী আবহাওয়াগত প্রভাব বা টেলিকানেকশনের মাধ্যমে এর প্রভাব এখানে পড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তীব্র খরা, তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগের শঙ্কা প্রকাশ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কিন্তু প্যাসিফিকে না। এল নিনিও ফেনোমেনাটা হল প্যাসিফিক। আমরা হচ্ছি ইন্ডিয়ান ওশানে; সেটার পার্ট হল বে অফ বেঙ্গল, নর্দার্নে ইন্ডিয়ান ওশানে।

জলবায়ুর এ আন্তঃযোগাযোগ মূলত বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গ ও মহাসাগরীয় স্রোতের মাধ্যমে ঘটে থাকে।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, “টেলিকানেকশনের মাধ্যমে আমরা প্রভাবিত হতে পারি এবং অতীতেও হয়েছি। তবে এল নিনিও হলেই নির্দিষ্ট কোনো প্রভাব নিশ্চিতভাবে ঘটবে—এমন নয়।

তিনি বলেন, এল নিনিওর সময় শুষ্কতা, খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বন্যা বা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি থাকবে না।

“হয়তো দেখা গেল সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে শক্তিশালী মানে ঘূর্ণিঝড় হল, এজন্য আমাদের ইউজুয়ালি যে প্রিপারেশন থাকে, সেটা নিতে হবে। যদি ড্রাই কন্ডিশন আরো বাড়ে, যেমন আগামী বছর হিটওয়েভ, ড্রাউট—এগুলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

এল নিনিও শক্তিশালী হলে পরোক্ষ প্রভাবও পড়তে পারে বলে জানান অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ধরেন অনেক সময় ডিজাস্টার থেকে যে ইমপ্যাক্টটা হয়, এটাকে আমরা ক্যাসকেডিং এফেক্ট (ধারাবাহিক প্রভাব) বলি। আর দুটা ডিজাস্টার একসাথে হলে যেমন ধরেন হিটওয়েভ, ড্রাউট তখন আমরা বলি কম্পাউন্ডিং।

“এই সেকেন্ডারি ইম্প্যাক্ট হলে কিন্তু অন্য সেক্টর ইম্পেক্টেড হয়। আমাদের থেকেও বেশি হবে ইন্দোনেশিয়ায়, ফিলিপিন্সে, জাপানে, ইস্ট এশিয়ায় বেশি হবে।”

দক্ষিণ আমেরিকাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে এল নিনিওর বড় প্রভাব পড়তে পারে জানিয়ে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এসব অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য থাকায় নানা ধরনের প্রভাব পড়বে। কোনো বড় উৎপাদনকারী দেশে এল নিনিওর কারণে ফসলের উৎপাদন কমে গেলে ওই দেশকে বাড়তি আমদানি করতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, হিটওয়েভ বাড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হিট স্ট্রেস বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পানির সংকট ও নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, শুষ্কতা বাড়লে সেচের চাহিদা বাড়বে। এতে সেচে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যের দামেও পড়তে পারে।

এ জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বলেন, যে দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেই দেশে যদি কোনো প্রভাব না-ও পড়ে, অন্য কোনো দেশে প্রভাব পড়তে পারে। তখন ওই দেশ থেকেও আমদানি করতে হবে। এর ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বা সংকট দেখা দিতে পারে। এখন পৃথিবীর এক জায়গায় কোনো প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকে না; ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বিভিন্ন জায়গায় এর প্রভাব পড়ে।

তাপমাত্রা ঝুঁকি, কী করা উচিত

গবেষণা সংস্থা হাইড্রো-ক্লাইমেট অ্যান্ড ওশান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহন কুমার দাশ বলেন, এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এর প্রভাব সব অঞ্চল ও ঋতুতে একরকম নয়।

বিভিন্ন গবেষণায় বাংলাদেশের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক সময়ের সঙ্গে এল নিনিও এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার নয়টি দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পেশাজীবী ও গবেষকদের সংগঠন সাউথ এশিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মোহন কুমার।

তিনি বলেন, ১৯৫১–২০১৭ সালের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাঁচটি উপকূলীয় জেলার ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, এল নিনিওর বছরে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। একই গবেষণায় এল নিনিওর সময়ে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় বৃষ্টিপাতও কম পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতি কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

আরেক গবেষণায় ১৯৪৮–২০১২ সালের বাংলাদেশের ৩৫টি আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে এল নিনিওর সম্পর্ক সব অঞ্চল ও সময়ে একই রকম নয়।

ভারত মহাসাগরের এক পাশে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ এবং অন্য পাশে তুলনামূলক ঠান্ডা হয়ে গেলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটিই ভারত মহাসাগর ডাইপোল। এর সঙ্গে দেশের কিছু অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পরিবর্তনের বড় জলবায়ু ব্যবস্থা হচ্ছে এনসো, যার তিনটি পর্যায় রয়েছে (এল নিনিও, লা নিনিয়া ও নিরপেক্ষ অবস্থা)।

বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত বোঝার ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরের এনসোর পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের অবস্থান ও মৌসুমি বায়ুর গতিবিধিও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন মোহন কুমার দাশ।

১৯৫৮–২০১৭ সালের তথ্যভিত্তিক আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনিওর প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এল নিনওর ধরনও এই প্রভাবের পার্থক্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষক মোহন কুমার জানান, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ১৯৮৫–২০২২ সালের ৩৪টি আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের প্রবণতা যথাক্রমে ৮২.৩৫, ৭৩.৫৩ ও ৫০ শতাংশ। গবেষণাটি একই সঙ্গে এল নিনিও, লা নিনা ও নিরপেক্ষ অবস্থায় শুষ্ক সময়ের পার্থক্যও বিশ্লেষণ করেছে।

“তাই এল নিনওর পূর্বাভাস পাওয়া গেলে আগেভাগেই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পরিকল্পনা, পানি সংরক্ষণ, কৃষকদের সময়োপযোগী ফসল ব্যবস্থাপনা পরামর্শ এবং তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকির প্রস্তুতি জোরদার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর এবং মৌসুমি বায়ুর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।”

ড. মোহন কুমার দাশ বলেন, বাংলাদেশে এল নিনিওর প্রভাব বুঝতে কেবল একটি সূচকের ওপর নির্ভর না করে অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়া তথ্য, সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

মৌসুমি পূর্বাভাস দরকার

এল নিনিওর প্রভাব তুলে ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, “কখনও কখনও ইন্ডিয়ান ওশেন, বে অব বেঙ্গল এবং এরাবিয়ান সি—এখানকার ওশান টেম্পারেচারটা বেড়ে যায়। নরমালি ৩০-৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন দুয়েক ডিগ্রি বেড়ে যায়।

“আমাদের এখানে ওয়েদার সবসময় এল নিনিওর সাথে কোরিলেট হবে তা নয়। দেখা গেছে, এল নিনিও ইয়ারে নরমালি বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের যেকোন জায়গায় ওয়েদারটা ড্রাই থাকবে। অ্যাবনরমাল বৃষ্টি কোথাও কোথাও হতে পারে, কিন্তু বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ার কথা।”

প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে যে বড় ধরনের জলবায়ুগত পরিবর্তন ঘটায় সেটি লা নিনা নামে পরিচিত। তখন এ অঞ্চলে বৃষ্টি ভালো হয় বলে জানান ড. সমরেন্দ্র।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, এল নিনিওর বছরে বৃষ্টিপাত কম হয়। কিন্তু ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বড় বন্যা হয়েছিল এল নিনিওর বছরেই। এটা কেন হয়—কোথাও কম বৃষ্টি হয়, আবার কোথাও অনেক বেশি বৃষ্টি হয়।

“আর এই বৃষ্টি যদি বাংলাদেশের উত্তরে, হিমালয়ের পাদদেশের কাছাকাছি এলাকায় হয়, তাহলে সেই পানি ক্যাচমেন্ট এলাকায় জমা হয়ে পরে বাংলাদেশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মেঘনা নদী দিয়ে নেমে আসে। ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। এই তিনটি নদীর পানি যদি একই সময়ে বেড়ে যায় বা তাদের প্রবাহ একসঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বন্যার তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।”

ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, বাংলাদেশে কখনো কখনো মৌসুমি বায়ুর সময়ে দেশের ভেতরে বৃষ্টিপাত কম হলেও বন্যা হয়েছে। এর কারণ, দেশের উত্তরে বা নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এল নিনিওর বছরে বৃষ্টিপাতের ধরন অনেকটা অনিয়মিত হয়ে যায়। অর্থাৎ বৃষ্টিপাতের সমতা থাকে না—কোথাও বেশি বৃষ্টি হয়, আবার কোথাও কম। কোনো কোনো এলাকায় খরাও দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার মৌসুমি পূর্বাভাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিতে পারবেন। যেমন, মার্চ-এপ্রিল বা মে মাসে খরা হতে পারে—এমন পূর্বাভাস আগে থেকে দেওয়া গেলে মানুষকে, বিশেষ করে কৃষকদের সতর্ক করা সম্ভব। যদি জানা যায় ওই সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকবে, বৃষ্টিপাত কম হবে এবং খরা দেখা দিতে পারে, তাহলে কৃষকরা আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরের ধাপে আগামী বছর সম্ভাব্য বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে পারে, খরা দেখা দিতে পারে এবং স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত।

“কৃষকদের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জ্বালানির দাম তো ইতোমধ্যে বেড়েছে। তাই এখন সৌরচালিত পাম্পসহ সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে যাওয়া উচিত।”

পুরানো খবর:

সুপার এল নিনিও: যেভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ
৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনিওর শঙ্কা
বদলাচ্ছে তাপদাহের মানচিত্র
এক দশকে ঢাকার মানচিত্র থেকে সবুজ কমেছে ৩১%
পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও দ্রুত বাড়ছে, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ৪ বৈশ্বিক পদক্ষেপ চান প্রধানমন্ত্রী
অগাস্টের বন্যার এমন ভয়াল রূপ কেন?
বন্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে কেন?
নদী-খালে যেতে না পেরে ঢাকা-চট্টগ্রামকে ডুবিয়েছে বৃষ্টির পানি