জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ৪ বৈশ্বিক পদক্ষেপ চান প্রধানমন্ত্রী
“বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতি একা মোকাবেলা করতে পারবে না,” বলেন সরকারপ্রধান।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ‘সহজলভ্য অর্থায়ন’ নিশ্চিত করাসহ ৪ বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে এ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়েছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
“আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে আসব; ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেব। কোনো দেশ যেন একা সমুদ্রপৃষ্ঠর উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যার মুখোমুখি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য আমি ৪টি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম আহ্বানে বলেন, “বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের হার আরও দ্রুত, আরও ব্যাপকভাবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গতভাবে কমাতে হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমার মধ্যে রাখতে হবে।“
তারেক রহমানের দ্বিতীয় আহ্বান হলো, “জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উপকূলীয় অভিযোজন কার্যক্রমে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য উপাত্ত এবং আগাম সর্তকীকরণ ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।”
আর চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ। শত শত নদী আমাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। আমাদের মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করে। আমাদের সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রায় ১ কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে। সীমিত সম্পদ নিয়েও আমরা এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে আমরা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছি এবং উপকূল রক্ষায় বিনিয়োগ করেছি।”
তিনি বলেন, “জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুদের জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে তিস্তা ব্যারেজের আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করেছি।
“একই সঙ্গে আমরা সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
