০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলের নির্বাচনে কি হারবেন নেতানিয়াহু? জরিপে বিরোধীদের জয়ের পূর্বাভাস

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এর পূর্বভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে মধ্যপন্থি জায়নবাদী দল ‘ইয়াশার’ এর প্রধান গাডি আইজেনকোটের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪৮ শতাংশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ।

ইসরায়েলের নির্বাচনে কি হারবেন নেতানিয়াহু? জরিপে বিরোধীদের জয়ের পূর্বাভাস

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 01:21 AM

Updated : 08 Oct 2026, 01:21 AM

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তার নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী জোট সরকার পতন বা ভেঙে যাওয়া ছাড়াই টানা চার বছরের পুরো মেয়াদ সম্পন্ন করেছে, যা গত আধা শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউওন লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের পর নেতানিয়াহুই একমাত্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী, যিনি আগাম পতন এড়িয়ে সফলভাবে পুরো পার্লামেন্টারি মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন।

অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিরতা দিয়ে মেয়াদ শুরু হলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের আকস্মিক হামলা, গাজা যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মতো নজিরবিহীন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি সরকারকে টিকিয়ে রাখেন।

ইসরায়েলের ২৫তম নেসেট (পার্লামেন্ট) গত ১৭ জুলাই নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, চার বছরের মেয়াদ শেষে বিলুপ্ত হয়, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম দেশটির কোনও পার্লামেন্ট নির্ধারিত সময়ে স্বাভাবিক মেয়াদ পূর্ণ করল।

কিন্তু ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কি আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন নেতানিয়াহু? নাকি বিদায় নিতে হবে তাকে?

ইউওনের-এর এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেকর্ড সপ্তম মেয়াদের জন্য নেতানিয়াহু আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে জনমত জরিপ এবং বাজির বাজারগুলোতে (প্রেডিকশন মার্কেট) স্পষ্ট কিছু সংকেত মিলছে।

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও মাত্র এক বছর আগে গঠিত মধ্যপন্থি জায়নবাদী দল ‘ইয়াশার’ এর প্রধান গাডি আইজেনকোট বর্তমানে জনপ্রিয় বাজির বাজারে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশ ভাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এর পূর্বভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে আইজেনকোটের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪৮ শতাংশ, যেখানে নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ।

তালিকায় থাকা অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের পক্ষে প্রায় ১০ শতাংশ এবং অ্যাভিগডোর লিবারম্যানের পক্ষে ২ শতাংশের নিচে বাজির দর উঠেছে।

আরেক শীর্ষ প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’-তেও আইজেনকোটের জয়ের পক্ষে ৪৯ শতাংশ বাজি ধরা হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর (৩৪ শতাংশ) চেয়ে অনেকটাই বেশি। কালশিতে বেনেটের পক্ষে রয়েছে ৮ শতাংশ।

এছাড়া ‘নেতানিয়াহুর পর ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন?’, এমন পূর্বাভাসে কালশি প্ল্যাটফর্মে আইজেনকোটের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।

বাজির বাজারের মতো এতটা ব্যবধান না হলেও জনমত জরিপগুলোতে কম ব্যবধানেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের ইশার এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ দুই দলই গড়ে ২১ থেকে ২৩টি আসন নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অবস্থানে আছে।

নাফতালি বেনেটের দল গড়ে ১১টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস ৯-১০টি, লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৮-৯টি এবং কট্টর ডানপন্থি বেন-গভিরের ওৎজমা ইহুদিত প্রায় ৮টি আসন পেতে পারে।

কান, এন১২ ও চ্যানেল ১৩-এর সাম্প্রতিক জরিপে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে অথবা সমান অবস্থানে রয়েছেন। আর বেনেট স্পষ্টতই নেতানিয়াহুর পেছনে আছেন।

১২০ আসনের নেসেটে কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারও জোট সরকার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোটের দলগুলো- যেমন:লিকুদ, রিলিজিয়াস সিওনিজম, ওৎজমা ইহুদিত, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম- সব মিলিয়ে ৫১ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে।

কেবল ডানপন্থি চ্যানেল ১৪-এর জরিপেই লিকুদ জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বভাস মিলেছে। ইহুদি বিরোধীদলগুলোও ৫০ থেকে ৫৫টি আসনের মধ্যে আটকে আছে, আর আরব দলগুলো পাচ্ছে গড়ে প্রায় ১৩টি আসন।

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনও জোটই এককভাবে সেই জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারছে না। ফলে নির্বাচনের পর আবারও শুরু হতে পারে জোটের হিসাব বা জোটগত সমীকরণ।

নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনে লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ও নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনার ওপর।

সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে, এই বিষয়ে নেতানিয়াহু একেবারেই নতুন নন। তিনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে উৎরাতে হয় তা তিনি খুব ভাল করেই জানেন।