০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আইজেনকোটের সামনে কী চ্যালেঞ্জ, অন্য চেহারার ইসরায়েলকে দেখা যাবে?

সরকার গঠনের জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন, আর প্রয়োজনে হারজগ তাকে আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারবেন।

আইজেনকোটের সামনে কী চ্যালেঞ্জ, অন্য চেহারার ইসরায়েলকে দেখা যাবে?

গাদি আইজেনকোট। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Nov 2026, 12:17 AM

Updated : 09 Nov 2026, 12:17 AM

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

অস্থির এক রাজনৈতিক জোটের নেতা হিসেবে নির্বাচনের আগে আগে আলোচনায় আসা সাবেক এ সেনাপ্রধানের হাত ধরে কি অন্য এক ইসরায়েলকে দেখতে পাবে বিশ্ব?

‘ইয়াশার’ পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রোববার। সরকার গঠনের জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন, আর প্রয়োজনে হারজগ তাকে আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারবেন।

আইজেনকোট যদি ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী সুযোগটি নেতানিয়াহুকে দেওয়া হতে পারে। দুই জনই যদি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তাহলে নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে।

Image

জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে আইজ্যাক হারজগ (ডানে) । ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

এমন প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু তার ডানপন্থি নীতির এজেন্ডা বাস্তবায়নে যে ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারকে কাজে লাগিয়েছেন, আইজেনকোটের পক্ষে তেমন সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে।

সরকারের বাইরে থাকা আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে হলে বিরোধী জোটের বেশি ডানপন্থি অংশের কয়েকজনকেও রাজি করানো তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এ ক্ষেত্রে আইজেনকোট কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কারণ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রায়ই যে ছলচাতুরী ও রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, আইজেনকোটের মধ্যে সেই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।

Image

নির্বাচনের তিন দিন আগে নেতানিয়াহু বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। ছবি: ফ্ল্যাশ৯০

রাজনীতির শিক্ষার্থী

এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন না জানিয়ে তার দীর্ঘদিনের মিত্র ‘শাস’ পার্টি থেকে সরে আসা কট্টরপন্থি ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টির সমর্থন পেতে হলে আইজেনকোটকে একটি শর্ত মেনে নিতে হতে পারে। তা হল, সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো তরুণ কট্টরপন্থি ইহুদিদের কার্যত যে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়, তা অব্যাহত রাখা।

ইসরায়েলের নাগরিক ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থনও পেতে পারেন আইজেনকোট। তবে সরকারে যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দিলেও এর বিনিময়ে ইসরায়েলের ভেতরে ফিলিস্তিনি জনপদগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সহিংস অপরাধের লাগাম টানতে অন্তত কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে তাকে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়া ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বন্ধ করতে চাইবে দলগুলো।

তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকারের অংশীদার, বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোতরিচের সক্রিয় মদদেই এসব হামলা চলছে।

ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের বামপন্থি ‘হারদাশ’ পার্টি সদস্য আইদা তৌমা-স্লিম্যান বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে যে আইজেনকোট ফিলিস্তিনি ভোটারদের ওপর নির্ভর করতে চাচ্ছেন না।

ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এর এই সদস্য বলেন, “সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক তালিকাভুক্তি বিষয়ক আইন নিয়ে আরবদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে আইজেনকোটকে কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।”

Image

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় গাজা। ছবি: রয়টার্স

বিষাক্ত অতীত

ভবিষ্যতে ইসলায়েলকে নেতৃত্ব দেবেন যিনি, তাকে প্রথমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলা করতে হবে, তার অন্যতম হল যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালানো এবং ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি তলানিতে নেমে এসেছে।

নেতানিয়াহু ইরানে হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছেন, এমন অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে ওঠা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন তিনি ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ঐতিহাসিক পরাজয়ের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন।

কার্নেগি এনডাউমেন্টের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলার স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। আইজেনকোটকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তবে জনসমক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে তার অস্বস্তি এবং ইংরেজিতে কথা বলতে অনীহার কারণে কাজটি তার জন্য কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, “ইসরায়েল সম্পর্কে এক ধরনের ধারণা মানুষের মনে বেশ দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেছে। মূলত ২০২৩ সাল থেকে এ অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ মার্কিন জনগণ দুই পর্দায় দেখছে। এক পর্দায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের চালানো হত্যাযজ্ঞ, অন্য পর্দায় এর জবাবে ইসরায়েলের শুরু করা হামলায় মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ।”

ডেভিড মিলার আল জাজিরাকে বলেন, “আইজেনকোটের সামনে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের এমন এক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, যার মুখোমুখি আগে কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হতে হয়নি।”

Image

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। ছবি: রয়টার্স

নেতানিয়াহু আর আইজেনকোটের মধ্যে যেখানে পার্থক্য

আপাতত সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলির সমর্থন পাচ্ছেন আইজেনকোট। তিনি কী, তার চেয়ে কী নন—এটাই তার সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আল জাজিরা লিখেছে, সুবিধাভোগী আশকেনাজি ইহুদি (মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ থেকে আসা) পরিবারের সন্তান নেতানিয়াহু বেশ পরিপাটি ভাবমূর্তির অধিকারী। তিনি মিজরাহি (পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোতে থাকা আদি ইহুদি সম্প্রদায়) ইহুদিদের বঞ্চনা ও ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে, আইজেনকোটের পরিচয়কে অনেক বেশি অকৃত্রিম বলে মনে করা হয়। মরক্কোর মারাকেশ ও কাসাব্লাঙ্কা থেকে আসা বাবা-মায়ের ঘরে তিবেরিয়াসে জন্ম তার। বেড়ে উঠেছেন দক্ষিণের তুলনামূলক দুর্গম বন্দরনগরী ইলাতে। ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে একসময় ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের পদে উন্নীত হন।

এরপর ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসার চেনা পথ অনুসরণ করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর নেতানিয়াহুর গঠিত জাতীয় ঐক্যের সরকারেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মিত্র ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছেই আইজেনকোট ‘ভদ্র’ ও ‘অপরিপাটি’ হিসেবে পরিচিত। তার ক্লান্ত ও জীর্ণ চেহারার মধ্যে ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার ছাপ দেখেন কিছু ভোটার।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তার ছেলে গাল নিহত হন। এর এক দিন পর নিহত হন তার ভাতিজা মাওরও।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় নিহত হন আইজেনকোটের আরেক ভাতিজা ইয়োগেভ পাজিও। এসব ঘটনা তার চারপাশে এমন এক ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, যা নেতানিয়াহুর পরিবারের একেবারেই বিপরীত। নেতানিয়াহুর পরিবারের তুলনামূলক চাকচিক্যময় জীবনযাপন ইসরায়েলিদের বর্তমান বাস্তবতা থেকে অনেক দূরের বলে মনে হয়।

চ্যাথাম হাউজের সিনিয়র ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, “তার (আইজেনকোট) চালচলনে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বেশ স্থির স্বভাবের মানুষ। সব সময় তার মনে কী চলছে, তা বোঝা যায় না।”

তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, এমন একটি বিষয়কেই তিনি সামনে আনছেন, তা হল —স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি এবং এই উপলব্ধি যে কিছু নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এমনকি সরকারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়।”

Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুই হাজারের বেশি শিশু ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার তথ্য দিয়েছে ‘প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি’। ছবি: রয়টার্স

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কী হবে?

ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর অসম মাত্রার শক্তি প্রয়োগ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নীতির (দাহিয়া ডকট্রিন) প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন ঘটবে?

আল জাজিরা লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটের নিয়োগ ইসরায়েলের ইহুদি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে অধিকারের যে বিশাল বৈষম্য রয়েছে, তাতে আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

জাতীয় ঐক্যের সরকারে আট মাস দায়িত্ব পালনের সময় ইতমার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোতরিচের মতো কট্টর ডানপন্থি নেতাদের পাশে বসতে হওয়ায় আইজেনকোট অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ফিলিস্তিনি ও আরব জনগোষ্ঠীর ওপর কঠোর নীতি বাস্তবায়নেও তার ভূমিকা ছিল।

সেনাপ্রধান থাকাকালে গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নৃশংস সামরিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা এবং সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও তদারক করেছিলেন আইজেনকোট।

সেনাপ্রধান হিসেবে আইজেনকোটের কার্যালয়ের সঙ্গে যে বছরগুলো মিলে যায়, সেই ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অথবা সংঘাতের ঘটনায় প্রায় ৬৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা বলছে জাতিসংঘের পরিসংখ্যান।

এর মধ্যে শুধু ২০১৮ সালেই নিহত হন ২৯৫ জন। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন গাজায় ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভ চলাকালে।

পরে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানায়, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। এসব লঙ্ঘনের কিছু যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

২০০৬ সালে লেবানন যুদ্ধের সময় আইজেনকোট ‘দাহিয়া ডকট্রিন’ প্রণয়নের কৃতিত্ব পান। ওই যুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় ১ হাজার ১০৯ জন নিহত হন, যাদের প্রায় ৮৬০ জনই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

এরপরের বছরগুলোতে আইজেকোটের অনুসৃত কৌশলে নিহত কয়েক হাজার মানুষের কোনো পরিসংখ্যান নেই।