২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচনে ইসরায়েলি ইহুদিদের অপ্রত্যাশিত সমর্থনে সংকট উৎরে গেলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার ফল বলছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাজনৈতিক পরাজয় এড়িয়ে আপাতত নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন।

নির্বাচনে ইসরায়েলি ইহুদিদের অপ্রত্যাশিত সমর্থনে সংকট উৎরে গেলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কানে কানে কথা বলছেন তার এক সহযোগী। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 08:37 PM

Updated : 28 Oct 2026, 08:37 PM

ইসরায়েলে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে কোনও পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ইসরায়েলি ইহুদিদের অপ্রত্যাশিত সমর্থনে রাজনৈতিক সংকট আপাতত উতরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আপাতত তার অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকার বিষিয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

বুধবার ইসরায়েলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর ডানপন্থি, কট্টর ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ব্লকের ঝুলিতে যাচ্ছে ৫৩টি আসন।

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পাচ্ছে ৪৮টি আসন, যা নির্বাচনের আগের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে উঠতে পারেনি।

আর ইসরায়েলি-আরব প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে চলেছে ১৯টি আসন। ভোট গণনা এখনও চলায় চূড়ান্ত ফলাফলে আসন কিছুটা রদবদল হতে পারে।

তবে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম থেকে কট্টর ডানপন্থি বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত শেষ হয়ে গেছে।

হিসাব অনুযায়ী, কোনও জোটই সরাসরি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন কোয়ালিশন বা জোট সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন।

যদি শেষ পর্যন্ত দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছর আবারও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে নেতানিয়াহুই থেকে যাবেন।

ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রাত ৩টার পর (গ্রিনিচ মান সময় ০১০০) জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির নির্বাচনী কার্যালয়ে ভোররাতের ভাষণে নেতানিয়াহু সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি ‘শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের ডাক দেন।

ভাষণে ইসরায়েলের সামরিক সাফল্যগুলোর কথা তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আবার যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের পরম মিত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাশে পেয়ে ইরানের অস্তিত্বের হুমকি চিরতরে মুছে ফেলার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। তবে কোনও গোপন অভিসন্ধি যেন আমাদের এই পবিত্র লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না করে।”

ইরানে ‘কাজ শেষ করার’ তাগিদ দিয়ে নেতানিয়াহুকে ভোট দিতে ইসরায়েলিদের আগে আহ্বান জানিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস রাজ্যের এক নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দাবি করেন, তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে জয় পেতে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং দাবা খেলার মতো এই কঠিন লড়াইতে টাই হওয়া বা সমানে-সমান থাকাও এক ধরণের জয়।

ওদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট তাকে ক্ষমতা ছেড়ে অবসরে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে গাদি আইজেনকোট বলেন, “নেতানিয়াহু এখন কেবলই একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী, তার কোনও জনসমর্থন বা রাজনৈতিক বৈধতা নেই।”

নিরাপত্তা প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আপনারা কেবল রাষ্ট্রের ও নাগরিকদের সেবক। যে কোনও চাপের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকুন, আপনাদের প্রতি আমার পূর্ণ নিঃশর্ত সমর্থন রয়েছে।”

এরপর সরাসরি নেতানিয়াহুর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইজেনকোট বলেন, “নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দুঃসাহস করবেন না।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার ঘটনার পর এটিই ছিল ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

এর পর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে পুরো ভূখণ্ড ধূলিসাৎ হয়ে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল চরম একঘরে হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং নিজ দেশেও তিনি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি।

তবে এতসব বিতর্কর পরও ইসরায়েলি ইহুদিদের শেষ মুহূর্তের বিশাল সমর্থনে নেতানিয়াহু নিজের ক্ষমতা আপাতত টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হলেন।