তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে আমরা কতটা চিনি
‘না, নিউজ সরবে না’—প্রবল চাপের মুখে সম্পাদকের এই চার শব্দের সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছিল এক তরুণ সাংবাদিকের পথচলা। তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে নিয়ে সাবেক সহকর্মী মুনীরুল ইসলামের স্মৃতিচারণ।
‘না, নিউজ সরবে না।’
কিছু কিছু বাক্য খুব ছোট্ট। অথচ কোনো কোনো মুহূর্তে তাই হয়ে ওঠে বড় আশ্রয়।
২০১৮ সালের ৬ জুনের কথা। একটি সংবাদ প্রকাশের পর একটি তথ্য নিয়ে প্রবল চাপ আসছিল। সংবাদটি সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছিল বারবার। একরোখা হয়ে তা উপেক্ষা করে যাচ্ছিলাম। একটা সময় মনে হলো— ভুল করছি না তো? ফোন করলাম প্রধান সম্পাদককে।
প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদের নিউজে কি কোনো ভুল আছে?’
‘না।’
‘কনটেক্সটের বাইরে কি কিছু লিখেছি?’
‘না।’
শুনে বললেন— ‘না, নিউজ সরবে না।’
কিছুক্ষণ পর ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেল। উৎকণ্ঠা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জানালাম তাকে। তিনি বললেন, ‘ফেইসবুকে একটা ঘোষণা দিয়ে দাও। বাকিটা আমি দেখছি।’
খানিকক্ষণ পর আবার ফোন- ‘অফিসের গাড়িতে উঠে আমার বাসায় চলে আস।’
চলে গেলাম। পরে জেনেছিলাম, আমার নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি আমাকে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
এটাই তৌফিক ইমরোজ খালিদী— আমার সম্পাদক, আমাদের সম্পাদক। আমরা তৌফিক ভাই নামেই ডাকি তাকে।
সেদিনের চার শব্দের এক বাক্যটি শুধু একটি সিদ্ধান্ত ছিল না, ছিল সাহস, তা সাংবাদিকতার সাহস। প্রবল চাপের মুখে অনমনীয় হয়ে থাকার সেই মানসিকতা গড়ে দিয়েছিলেন তিনিই।
শুধু আমার নয়, আমার মতো আরো অনেককেই। তাকে হারিয়ে ফেলার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এককালের সহকর্মী প্রদীপ চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দিলেন আরেকটি ঘটনা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার একটি প্রতিবেদন নিয়ে চাপ আসছিল, তাকে তলব করা হয়েছিল। যেখান থেকে চাপ আসছিল, সেখানে ফোন করে তৌফিক ভাই বলেছিলেন, ‘মিস্টার জেনারেল, আমার রিপোর্টার সঠিক রিপোর্ট করেছে, ও যাবে না। প্রয়োজন হলে আমি আসব।’
তৌফিক ভাইয়ের নাম জানতাম আগে থেকেই। বিবিসিতে কাজ করেছেন, বিবিসি বাংলায় তার কণ্ঠও শুনেছি। তবে প্রথম দেখা ২০০৬ সালের অক্টোবরের এক সন্ধ্যায়। তিনি তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম গড়ে তুলছেন।
ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের অফিস। সেই ভবনের নিচে ‘অ্যাটসেটরা’ নামে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। সেখানেই বসে কথা হয়েছিল।
তখন ইন্টারনেট সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার যথেষ্ট সংশয়। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনি কি ভবিষ্যতে কোনো সংবাদপত্র প্রকাশ করবেন?’
তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘দেখবেন, ভবিষ্যতে অন্য সব সংবাদপত্র আমাদেরই অনুসরণ করবে।’
বিশ্বাস হচ্ছিল না। তবে তখন নিজের কর্মস্থল যায়যায়দিনের আকস্মিক বিরূপ পরিস্থিতিতে অচেনা-অজানা সেই নতুন উদ্যোগেই যোগ দিলাম। তাতে যাত্রী হয়ে গেলাম বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের নতুন এক যাত্রার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পথ ধরে অনলাইন সাংবাদিকতা দ্রুত বিস্তৃত হলো। প্রথাগত সংবাদপত্রগুলোও একসময় সেই পথে এল। সেই পরিবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নাম তাই মনে রাখতেই হবে।
তবে তার বড় অবদান শুধু একটি নতুন মাধ্যম তৈরি করা নয়; দেশে সংবাদ প্রকাশের একটি মানদণ্ডও তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি।
তখন অনামা সূত্রের বরাতে উড়ো খবরও সংবাদ হয়ে ছাপা হতো দেদারসে। তৌফিক ভাই সেই ধারা বদলে দিলেন। শেখালেন, কোনো খবর সম্পাদনার কষ্টিপাথরে যাচাইয়ের আগে সংবাদ হয়ে ওঠে না। তথ্য যাচাই করতে হবে, প্রমাণ দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ভুল, আংশিক তথ্য দিয়ে পাঠকের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। এভাবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তাই হয়ে উঠল বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ঠিকানা।
কাজ শুরু করার পর একদিন কথায় কথায় তাকে জানিয়েছিলাম, আমি আগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।
তিনি জানতে চাইলেন, ‘এখন করছ না তো?’ ততদিনে সম্বোধন নেমে এসেছে তুমিতে।
‘না’- উত্তর শুনে তিনি বললেন, ‘তাহলে সাংবাদিকতা করতে পারবে।’
সেদিনই তার মুখে শুনি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের কথা, বাংলা করলে দাঁড়ায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব।
তার কাছ থেকেই শিখেছিলাম, সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু পেশাগত দায়িত্বে তার ছায়া পড়া চলবে না। সাংবাদিকদের কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়া চলে না, যায় না উপহার নেওয়া, কারো অর্থে সফর করা।
বিজ্ঞাপন ও সংবাদকে আলাদা রাখার ক্ষেত্রে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। রিপোর্টার কোনো বিজ্ঞাপনী কাজে যুক্ত হবে না, এটা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তৌফিক ভাইকে স্মরণ করতে গিয়ে সাবেক সহকর্মী কাজী সাজিদুল হক নিজের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তার লেখায়। তার একটি রিপোর্টের জন্য বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ায় তিনি বিব্রত হয়েছিলেন।
কিন্তু তৌফিক ভাইয়ের কথা ছিল- ‘তুমি রিপোর্টার। তোমার তো সেলসের কথা জানার কথা নয়। আমার প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টার নিউজ পেয়েছে। সেই নিউজে কোনো কমতি নেই। যথাযথ প্রমাণ আছে, সবার বক্তব্য আছে। কিছু টাকার জন্য যদি সেই নিউজ না প্রকাশ করি, তাহলে আমি তোমার কাছে কী জবাব দেব? কী আর হবে, একটু কষ্ট হবে না হয়। পারবে না কষ্ট করতে?’
একবার বিতর্কিত বড় একটি প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব দিল। বিজ্ঞাপনটি নিলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট অনেকটাই কমত। তিনি একা সিদ্ধান্ত নিলেন না। নিউজরুমে এসে সবার মতামত চাইলেন।
অধিকাংশই না নেওয়ার পক্ষে মত দিল। শুনে তিনি বললেন, ‘তাহলে আমরা এই বিজ্ঞাপন নিচ্ছি না।’
তার আগে আরেকবার বড় এক বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর চুক্তি বাতিল হয়ে গেল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আর্থিক সঙ্কটে পড়ল। সেই সময় মাসের শুরুতে তৌফিক ভাইকে অনেক সময় অফিসে দেখা যেত না। এলেও নিউজ রুম এড়িয়ে চলতেন। পরে জেনেছিলাম, বেতন দিতে না পারার সঙ্কোচ থেকে তার এই এড়িয়ে চলা।
আবার একবার ঈদের আগে বেশ ভালো বিজ্ঞাপন এল, সেবার আচমকা ডাবল বোনাস দিয়ে দিলেন তিনি। হাতে টাকা আসা মাত্র খরচ করতে হাত নিশপিশ করত তার। তবে তা অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের জন্য। হয়তো বলতেন, তোমাদের কম্পিউটারগুলো পুরোনো হয়ে গেছে, নতুন দিতে বলছি। রিপোর্টারদের ল্যাপটপগুলো বদলে দিতে হবে। কিংবা অফিসের চেয়ারগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে, নতুন আনতে হবে। এমন সব।
সংবাদ সম্পাদনা কিংবা প্রকাশের ক্ষেত্রে গাফিলতি হলে বকা দিতে যেমন কসুর করতেন না, আবার কারো কোনো বিপদ হলে সেই দায়িত্ব নিতেও পিছপা হতেন না।
ব্যক্তি নিজেকে অনেকটা আড়াল করেই রাখতেন তৌফিক ভাই। সাবেক সহকর্মী তাবারুল হক জানালেন একটি ঘটনার কথা। এক নারী অটোরিকশাচালকের দুর্দশার কথা শুনে তাকে অটোরিকশা কিনে দেওয়ার জন্য ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তৌফিক ভাই। কাউকে বলেননি। সংবাদও চাননি।
তৌফিক ভাইয়ের বাবার মৃত্যুর সংবাদটি প্রকাশ হয়নি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে। তার বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তার মৃত্যুর খবরটি জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে খবর হয়ে ওঠার মতো যথার্থ নয় বলেই তা প্রকাশ করতে চাননি, বলতে গেলে দেননি তৌফিক ভাই।
আবার আমাদেরই এক সহকর্মীর বাবা মারা গেলে সেই সংবাদটি প্রকাশ করতে বললেন তিনি। আমাদের কাছে অচেনা হলেও তৌফিক ভাই বললেন, মুক্তিযুদ্ধে উনার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ছাত্রজীবনে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৌফিক ভাই। সরাসরি বলতেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবল পক্ষপাতের কথা। কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সরিয়ে রেখেই বসতেন সংবাদ কক্ষে। বলতেন, ‘তুমি তাদের পছন্দ নাও করতে পার। কিন্তু তারা পাবলিক ফিগার। তাদের খবর তোমাকে দিতেই হবে। পাঠককে তো তুমি বঞ্চিত করতে পার না।’
সম্পাদকীয় স্বাধীনতা কতটা চর্চা করা যায়, তার আদর্শ নজির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। মালিক পক্ষ কিংবা বিজ্ঞাপনদাতার কোনো চাপই বার্তাকক্ষে অনুভব করতে দিতেন না তৌফিক ভাই।
মাঝেমধ্যে তার মেইল থেকে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা বিবৃতি আসত। ফোন করে বলতেন, ‘নানা জন আমাকে পাঠায়। আমি তোমাদের পাঠালাম। তোমরা দেখো, যদি প্রকাশের মতো হয়, প্রকাশ করতে পার।’
তারপর আর কোনো প্রশ্ন নেই। তার স্থির করা মানদণ্ড অনুসরণ করে আমরা সেই স্বাধীনতার সুযোগ পুরোটাই নিতাম। কোনোটি প্রকাশ করা না হলে কখনো জানতে চাইতেন না, কেন প্রকাশ হলো না।
বার্তাকক্ষকে তিনি এমনভাবে গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে উৎসাহিত করা হতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার, বিনা প্রশ্নে কিছু মেনে না নেওয়ার।
র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার কথাই বলা যাক। সীমাবদ্ধতার কারণে নিহতদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া না গেলে তৌফিক ভাই বলতেন, এটাকে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধ’ বলতে হবে। আমাদের অনুসন্ধানের সীমাবদ্ধতা থাকলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে কর্তৃপক্ষীয় ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তা লিখতে হবে। ২০১২ সালে নরসিংদীতে এমন কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হওয়ার পর ঢাকা থেকে রিপোর্টার পাঠিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমই কর্তৃপক্ষীয় ভাষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছিল।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বরাবরই ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তবে দায়িত্বহীন মুক্তমত প্রকাশ নিয়েও তার ছিল স্পষ্ট আপত্তি। এনিয়ে কারো করো সমালোচনায়ও পড়তে হয়েছিল তাকে। তারা তার কথাকে এভাবে দেখাচ্ছিলেন যে তিনি মুক্ত মত প্রকাশের বিরোধী।
কিন্তু তৌফিক ভাই বলতেন, সাংবাদিকের কলম তাকে যা ইচ্ছা, তাই লেখার স্বাধীনতা দেয় না। একটি নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। স্বাধীতার মানে এই নয় যে আমি আমার হাত-পা বিস্তৃত করে অন্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারব। তাই একটি নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। আবার তা যেন নিয়ন্ত্রণ না হয়, তাও বলতেন তিনি।
দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে স্যুট-টাই পরা অবস্থায়ই বেশি দেখেছেন সবাই। এতে তিনি স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন। কিন্তু সেই তিনিই স্যুট-টাই পরা মানুষ দেখলে গলে না পড়ার কথা বলতেন।
স্যুট-টাই পরা যে কারোর চেয়ে লুঙ্গি পরা একজন রাজনীতিক বেশি গুরুত্ব পেত তার কাছে। তিনি মনে করতেন, তথাকথিত সুশীল সমাজ না, দেশ চালানোর দায়িত্ব সেই রাজনীতিকদেরই। মাঝে মধ্যেই তিনি উদাহরণ টানতেন ভারতের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের। বলতেন, দেখ, ধুতি পরা একজনকে জেনারেলরা কীভাবে ‘স্যার স্যার’ করছে। বিদেশি একজন ব্যারিস্টারের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একজন রেমিটেন্স যোদ্ধার গুরুত্ব কতটা বেশি, সেটা তুলে ধরে বলতেন, দেখ এরাই কিন্তু দেশের অর্থনীতিটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
কাউকে তোয়াজ করে চলাটা ছিল তার স্বভাববিরুদ্ধ। সেই কারণেই তাকে গত এক দশকে দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এড়িয়ে যেতে। না পারতে কয়েকটিতে গিয়েছিলেন। তবে যেতে চাইতেন না। একবার বলেছিলেন, ‘সেখানে গেলে একটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়- প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে যে এত তোষামোদ করা হয়, এটা কি আপনার ভালো লাগে?’
ভুল যে করতেন না, তা নয়। একবার যখন একটি টেলিভিশন স্টেশনের দায়িত্ব নিয়ে গেলেন, তখন জানতে চেয়েছিলেন, কেমন হবে বিষয়টা। আমি বলেছিলাম, ঠিক হবে না, সেখানে পারবেন না। কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, নিজের মতো করে পারবেন। কিন্তু তা হয়নি। শেষে ছেড়ে আসার পর একদিন বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছিলে।’
সবকিছু মিলিয়ে তৌফিক ভাই নিজেকে এত উঁচুতে নিয়ে গিয়েছিলেন যে সেখানে পৌঁছে ক্রমশ নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছিলেন। আবার যে মামলায় তাকে জড়ানো হলো, তা ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।
স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য যে কোনো লড়াই চালানোর সাহস তার ছিল, কিন্তু তাকে হেনস্থা করতে যখন তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলো, তেমন লড়াইয়ের জন্য তো তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেননি কখনো।
তিনি বরাবরই বলতেন, ‘দেখ, আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অর্থ সৎভাবে উপার্জন করি, এরপর এক টাকা করও ফাঁকি দিই না।’ একথা যিনি বলতেন, তার পক্ষে দুর্নীতির অপবাদ মেনে নেওয়াটা কতটা কষ্টের, তা সহজেই অনুমেয়। শারীরিক কিছু সমস্যার সঙ্গে মামলার চাপ অনেকটাই নাজুক করে তুলেছিল তাকে।
২০২২ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ছেড়ে আসার পরও কথা হতো তার সঙ্গে। ‘দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার অবস্থা তো নেই’- আমি বলতাম। তিনি বলতেন, ‘চলে এসো। তুমি কি ভাবছ, এদিনই শেষ? আবার আমরা আগের মতো সাংবাদিকতা করব।’
মৃদু হেসে কথাটা তখন এড়িয়ে গিয়েছিলাম। এখন সেই কথাটিই ভারী হয়ে ঠেকছে।
মুনীরুল ইসলাম: অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর, দৈনিক আগামীর সময়; সাবেক কর্মী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
