২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাইফুল হক

সাইফুল হক

বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং বর্তমানে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার সূচনা হয় এবং ছাত্রজীবনে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ঐক্য ফোরামের সঙ্গে যুক্ত থেকে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পর গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার অন্যতম উদ্যোক্তা ও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পর্যায়ক্রমে তিনবার মঞ্চের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের ৩১ দফা প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির অন্যতম নেতা ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দলের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নে দায়িত্ব পালন করেন।

পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার পুলিশি নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন এবং কয়েকবার গ্রেপ্তার হন। সর্বশেষ ২০১১ সালে সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। রাষ্ট্র, ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও সমকালীন রাজনীতি নিয়ে তার রচিত বহু গ্রন্থ ও প্রবন্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং সম্প্রতি তার ৪৫ বছরের নির্বাচিত রচনাবলি আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

ই-মেইল: [email protected]