Published : 26 Jun 2026, 08:53 PM
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ফেরার লড়াইয়ে আছেন কেউ কেউ, কয়েকজন চেষ্টা করছেন দুয়ারে কড়া নাড়তে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ প্রায় সবাই। লড়াই কিছুটা করলেন কেবল জাকের আলি। কিন্তু বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের অধিনায়কও পারলেন না ম্যাথু ক্যাম্পবেল, আন্তুম নাকভির মতো বড় ইনিংস খেলতে।
দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে বড় লিড নেওয়ার পথে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটির তিন দিন চলে যাওয়ায় ম্যাচ ড্র হওয়ারই পথে।
আগের দিন ম্যাথু ক্যাম্পবেলের সেঞ্চুরির পর তৃতীয় দিনে শতরানে পৌঁছে যান নাকভি। ৮ উইকেটে ৩৫৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ে ‘এ।’ বাংলাদেশ ইমার্জিং দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ২০০ রান নিয়ে।
দলের প্রথম আট ব্যাটসম্যানের সাতজনই দু অঙ্ক স্পর্শ করেন। কিন্তু ফিফটি করতে পারে কেবল জাকের। তিনিও আউট হয়ে যান ৬১ রানে।
জিম্বাবুয়ে দিন শুরু করে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান নিয়ে। দ্বিতীয় নতুন বলে দিনের তৃতীয় ওভারে এনামুল হক বোল্ড করে দেন ভিনসেন্ট মাসেকেসাকে।
তবে ৫৮ রানে দিন শুরু করা নাকভি এগিয়ে যান শতরানের দিকে। তাকে সহায়তা করে মাইকেল ফ্রস্ট।
২৪ রান করা ফ্রস্টকে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড করেন মুশফিক হাসান। তবে নাকভিকে থামাতে পারেননি কেউ।
বাঁহাতি স্পিনার আশরাফুল হাসান রোহানকে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে ৯৪ থেকে শতরানে পৌঁছান নাকভি। বেশ খ্যাপাটে উদযাপন করতে দেখা যায় তাকে।
বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই হারায় ওপেনার শাহাদাত হোসেনকে। ছয় টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান চারটি চারে ১৩ বলে ১৬ রান প্রথম স্লিপে ধরা পড়েন টিনোটেন্ডা মাপোসার অনেক বাইরের বল তাড়া করে।
তিনে নামা ইফতিখার হোসেন ইফতির (১০) বিদায়ও একইরকম। মাপোসারই অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে ধরা পড়েন গালিতে।
চারে নেমে প্রিতম কুমার শুরু করে করেছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু সেই মাপোসারই ভেতরে ঢোকা বলে ফ্লিক করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ১৭ রানে।
আরেকপ্রান্তে বেশ ঠাণ্ডা মাথায় ইনিংস গড়ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি। কিন্তু ভিনসেন্ট মাসেকেসার লেগ স্পিনে হুট করে ধৈর্য হারিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় হারান উইকেট। ৮৯ বল খেলে রান করেন তিনি ৩৮।

বাংলাদেশের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ১০৮ ম্যাচ খেলা আফিফ হোসেন ক্রিজে গিয়ে বেশ আগ্রাসী শুরু করেন। কিন্তু টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। মাসেকেসার টার্নিং ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ২ চার ও ১ ছক্কায় রান করেন ১৬।
জাকেরকে সহায়তা করার বদলে নাকভির স্পিনে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে ফেরেন আশরাফুল।
স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জাকের। তাকে সঙ্গ দেন এনামুল।
এই জুটি বেশি বড় হয়নি জাকেরের বিদায়েই। মাসেকেসার লেগ স্পিনারে স্লিপে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তারিসাই মুসাকান্দা।
একটু পর মুশফিককে বোল্ড করে চতুর্থ শিকার ধরেন চার টেস্ট খেলা মাসেকেসা।
গত বছর টেস্ট অভিষেকে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এনামুল ও নাঈম আহমেদ দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন। ৬৭ বলে ২৩ রানের ইনিংসে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন এনামুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ ১ম ইনিংস: ৯৪.১ ওভারে ৩৫৭/৮ (ডি.) (মুসাকান্দা ২১, মাকোনি ৩৩, ক্যাম্পবেল ১১৯, মায়ার্স ১৭, নাতভি ১০০*, মাডান্ডে ০, মাসেকেসা ৩, ফ্রস্ট ২৪, মাপোসা ১*; গালিব ১৪-১-৫৩-০, এনামুল ১৬-২-৫৮-৩, মুশফিক ১৭-০-৬৯-৩, ইফতি ৩-১-৫-০, আশরাফুল ২৩.১-০-৭৭-১, নাঈম ১৫-২-৭৫-১, আফিফ ৬-০-১৬-০)।
বাংলাদেশ ইমার্জিং ১ম ইনিংস: ৬৪ ওভারে ২০০/৮ (শিবলি ৩৮, শাহাদাত ১৬, ইফতি ১০, প্রিতম ১৭, জাকের ৬১, আফিফ ১৬, আশরাফুল ১, এনামুল ২৩*, মুশফিক ১, নাঈম ৫*; মাসুকু ৯-৩-২০-০, মাপোসা ১২-১-৪৮-৩, মায়ার্স ৫-০-২৭-০, ফ্রস্ট ১০-৩-২৯-০, মাসেকেসা ১৭-৩-৪৮-৪, নাকভি ১১-৩-১৭-১)।