Published : 20 Jul 2026, 01:19 PM
কোচ ড্যারেন স্যামি স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে সামনে। দর্শকদের অনেকেই হতবাক, অনেকের মাথায় হাত। বোলার জেডেন সিলস তো হতাশায় হাত-পা ছড়িয়ে ক্রিজেই শুয়ে পড়লেন। কেউই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সিলসের দারুণ এক স্লোয়ারে বিভ্রান্ত মিচেল স্যান্টনার তুলে দিলেন ক্যাচ। বল বাতাসে ভেসে রইল বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু ক্যাচ নিতে দুই দিক থেকে ছুটে যাওয়া আকিম ওগিস ও জাস্টিন গ্রেভসের লেগে গেল ধাক্কা। বল গেল ফসকে, ম্যাচও!
ক্যাচটি মুঠোবন্দি হলেই দুই রানে ম্যাচ জিতে যেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যাচ ছাড়ায় উল্টো রান হলো দুটি। একটু পরই ম্যাচ শেষ করে দিলেন স্যান্টনার। ১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে নিউ জিল্যান্ড নিশ্চিত করল সিরিজ জয়। ম্যাচটি জিতে সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্সের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর ইচ্ছের কথা বলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শেই হোপ। কিন্তু ছোট পুঁজি নিয়ে দারুণ লড়েও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পুড়তে হলো তাদের।
সোবার্সেরই আঙিনা বারবাডোজেই ছিল ম্যাচ। অসম বাউন্সের ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১৮৮ রানে। নিউ জিল্যান্ডের রান তাড়ায় ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্ক চ্যাপম্যান। তার পরও ম্যাচ হারের মুখে ছিল তারা। কিন্তু অধিনায়ক স্যান্টনার শেষ সময়ে দারুণ খেলে ও প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে জিতিয়ে দেন দলকে।
বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৩৪ রান করে ম্যাচের সেরা স্যান্টনার। রান তাড়ায় শেষ ১৮ রানের পুরোটাই এসেছে তার ব্যাট থেকে।
বলতে হবে জেডেন লেনক্সের কথাও। নিউ জিল্যান্ডের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান কোনো রান করতে পারেননি। তবে স্যান্টনারকে সঙ্গ দিয়ে ১০টি বল তিনি ঠেকিয়ে দেন। বিশেষ করে, দুই দলের রান যখন সমান, গোটা একটি ওভার নির্বিঘ্নে পার করে দেন তিনি।
বিফলে যায় গুডাকেশ মোটির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। বিপর্যয়ের মথ্যে ৪১ রানের ইনিংস খেলার পর বাঁহাতি স্পিনার স্বাদ পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের।
ওয়ানডেতে নিউ জিল্যান্ডের ১ উইকেটের জয় এটি অষ্টম, এই ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয় নবম।
কিউইদের রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই বিদায় নেন হেনরি নিকোলস, তৃতীয় ওভারে নিক কেলি। শুরুটা ভালো করলেও ২০ রানেই থেমে যান উইল ইয়াং। আগের দুই ম্যাচে রান তাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলা টম ল্যাথাম ফেরেন ৫ রানেই।
মিডল অর্ডারের বড় ভরসা ড্যারিল মিচেল এ দিন ছিলেন না। দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন চ্যাপম্যান। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হলেও স্বভাবজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পথই বেছে নেন তিনি। মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে তার ৫৩ বলে ৬৫ রানের জুটি ম্যাচে ফেরায় দলকে।
এই জুটির সময় মনে হচ্ছিল, অনায়াসেই জিতে যাবে নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু আবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোটি। তার বলে শেরফোন রাদারফোর্ডের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন ৮২ বলে ৮০ রান করা চ্যাপম্যান। একটু পর তিনি বোল্ড করে দেন ব্রেসওয়েলকেও (৩১ বলে ৩২)।
তখনও প্রয়োজন ৪০ রান। স্যান্টনার সেখান থেকে এগিয়ে নেন দলকে। লোয়ার অর্ডারে তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন ন্যাথান স্মিথ। পরে জেকব ডাফি ও ম্যাট ফিশারকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি মোটি আশা জাগান দারুণ এক জয়ের।
কিন্তু নিজেরা এমন ক্যাচ ছাড়লে জয় ধরা দেবে কীভাবে! ৫৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন স্যান্টনার।
ম্যাচের প্রথম ভাগে তিন পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভুগেছে ব্যাটিংয়ে। ওপেনিংয়ে আকিম ওগিস ৫০ বলে ৩৩ করলেও টপ অর্ডারে দাঁড়াতে পারেননি আর কেউ। এক পর্যায়ে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল তারা। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করে আমির জাঙ্গু ও মোটি।
সপ্তম উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়েন দুজন। একাদশে ফেরা জাঙ্গু করেন ৫১ রান, মোটি ৪১। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাতে লড়ার মতো পুঁজি পায়।
কিন্তু লড়াই হলেও ম্যাচ জেতা হলো না একটুর জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৪.৪ ওভারে ১৮৮ (ওগিস ৩৩, গ্রেভস ১০, কার্টি ১৩, হোপ ২, জাঙ্গু ৫১, রাদারফের্ড ৬, ফোর্ড ৭, মোটি ৪১, জোসেফ ৯*, সিলস ৭, লজ ১; ডাফি ৬-১-১৬-০, স্মিথ ৫-০-২৮-১, স্যান্টনার ১০-১-৩৬-২, ফিশার ৮-০-৪০-৩, ব্রেসওয়েল ৮.৪-১-৩৫-২, লেনক্স ৭-০-৩০-১)।
নিউ জিল্যান্ড: ৪৪.১ ওভারে ১৮৯/৯ (নিকোলস ০, ইয়াং ২০, কেলি ৩, চ্যাপম্যান ৮০, ল্যাথাম ৫, ব্রেসওয়েল ৩২, স্যান্টনার ৩৪*, স্মিথ ৮, ডাফি ১, ফিশার ১, লেনক্স ০*; ফোর্ড ৯-১-৪৪-২, সিলস ৯.১-২-৪২-১, লজ ৬-১-৩২-০, জোসেফ ১০-১-২৩-১, মোটি ১০-০-৪৭-৫)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মিচেল স্যান্টনার।