২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর (ইউসিএসডি) নিউরোসায়েন্স বিভাগে গবেষক হিসেবে কর্মরত। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড অ্যাডভান্সড সায়েন্স বিভাগ থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের এই প্রাক্তনি স্কুলজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপান প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা, উচ্চশিক্ষানীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের প্রশ্নে তার নিবিড় আগ্রহ রয়েছে। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণার উন্নয়ন এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত লিখে আসছেন।
যে দেশ আজও একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি, উল্টো তাদের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসকে বিকৃত করে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘দাঙ্গাবাজ’ বানাচ্ছে—সেই পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ‘ব্যাপক উন্নয়নে’ মুগ্ধ আমাদের শিক্ষামন্ত্রী! কিন্তু ইউনেস্কো, নেচার ইনডেক্স কিংবা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর বাস্তব পরিসংখ্যান কী বলছে?
যে সরকার এসেছিল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে, তারা বিদায় নিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভাজনের রেখাটি টেনে দিয়ে! এই বিভাজনের রাজনীতি কি তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অবধারিত নিয়তি ছিল?
একদিকে প্রধান উপদেষ্টার ‘উন্মুক্ত সমালোচনা’র আহ্বান, অন্যদিকে প্রথিতযশা সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে’ গ্রেপ্তার এবং কারাগারে ন্যূনতম বিচারিক সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ। আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার সতর্ক করার পরও কেন টনক নড়েনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের?
‘আমি ওটাকে মব বলছি না, বলছি প্রেশার গ্রুপ।’—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই আশকারাই কি দেশটাকে মবের মুল্লুক বানিয়ে দিয়েছিল?
দশকের পর দশক ঘৃণার রাজনীতি আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখাচ্ছে—মানবিকতার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখা যায় না।
যেখানে ইতিহাসের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা সম্ভাবনার সিঁড়ি হয়ে ওঠে—সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ কি সম্ভব?