Published : 31 May 2026, 08:02 AM
‘সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি, আপনারা মন খুলে আমাদের সমালোচনা করেন। আমরা সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ কথাগুলো ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে জাতির উদ্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তির ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে কথা বলার স্বাধীনতা নেই বলে যারা কার্যত মত প্রকাশে বিরত ছিলেন, ড. ইউনূসের এই বক্তব্যের পর তাদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় নীতিকে সবাই শ্রদ্ধা জানায়। সংবাদমাধ্যমগুলো কিছুটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও পরবর্তী সময়ে সেই আশার গুড় বালিতে পরিণত হয়। একটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম যে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে, সেই নির্যাস গ্রহণ থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার কিছুটা বঞ্চিত হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুরোনো কাঠামোয় সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অভিযোগ বেশ দগদগে হয়ে প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। মুহাম্মদ ইউনূস কেন এই পথ বেছে নিয়েছেন? সাংবাদিকরা কেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় পড়লেন, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সাংবাদিকদের নামে ‘মামলা’ ও বাস্তবতার ফারাক
অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশজুড়ে সাংবাদিকদের নামে গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে কয়েকশত মামলা হয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে, মামলাগুলো দেশের কোনো নাগরিক করলে তাদের করবার কিছু নেই; তবে সেই মামলা ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থাও সরকার করেনি। জামিন না দিয়ে বরং এই সব মামলায় মাসের পর মাস বেশ কিছু সাংবাদিক জেলে আছেন। বিচারব্যবস্থার ন্যূনতম সুবিধা এই সব সাংবাদিকরা পাচ্ছেন না বলে পরিবারগুলো থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ) এবং ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার নিজস্ব তথ্যে দাবি করা হয়েছে, জুলাই ও অগাস্টের ঘটনা-সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় কমপক্ষে ২৬৬ জন সাংবাদিককে জড়ানো হয়েছে (ডেইলি স্টার, ৩ মে ২০২৫)।
গত বছর ডিসেম্বরে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। চার সাংবাদিক—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তের মুক্তি দাবি করে সেই চিঠিতে সংস্থাটি বলেছিল, তথ্য-উপাত্ত অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে হত্যার অভিযোগে চার সাংবাদিক কারাগারে আটক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সপক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ঘাটতি আছে। মনে হচ্ছে, তাদের সংবাদ প্রতিবেদন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে প্রতিহিংসামূলকভাবে এসব মামলা করা হয়েছে (প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪)।
হুজুগে মামলা ও মবের ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে নতুন মালিকানাসহ শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়। মালিকানা ও শীর্ষ পদে কে কোন রাজনৈতিক দল থেকে এসেছেন, তা নিয়ে খবর প্রকাশ করে ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যম কমিশন বিষয়টি সামনে আনে। আর এই পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমগুলোতে সেই সেকেলে রাজনৈতিক মতাদর্শিক ও সরকারকে তুষ্ট করার খবর প্রকাশেই বেশি আগ্রহ দেখা যায়।
অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল
বাংলাদেশে সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের জন্য ইস্যু করা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে বাতিল করে দেওয়া হয়। তিন দফায় অন্তত ১৬৭ জনের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের এই নজির অতীতে কেউ দেখেনি, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেকটাই অযৌক্তিক ব্যাখ্যায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করে (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৫ নভেম্বর ২০২৪)। যদিও এই সব বাতিল তালিকায় থাকা অনেক সাংবাদিকই সচিবালয়ে যান না, তবে গণহারে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি বলে অনেকেই মনে করেন (বিবিসি বাংলা, ২৯ নভেম্বর ২০২৪)। দেশের সম্পাদক পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠন বিষয়টি নিয়ে নিন্দা জানানোর পরও সরকার তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেনি। সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের এই চেষ্টার মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চারদিকে সমালোচনার জন্ম দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
চাপে সাংবাদিক ছাঁটাই
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি চব্বিশের ২৪ ডিসেম্বর এক প্রতিবেদনে বলছিল, বেসরকারি ‘সময়’ টেলিভিশনের মালিকপক্ষের কাছে এক ছাত্রনেতা ১০ জনের নামের একটি তালিকা দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করতে চাপ দেওয়ার পর পাঁচজনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রনেতা বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরের বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে প্রশ্ন করার পর তিন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে (আমাদের সময়, ২৯ এপ্রিল ২০২৫)। যদিও বিষয়টি নিয়ে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করতে বলছে না’ বলে দাবি করেন (ডেইলি স্টার, ২ মে ২০২৫)। প্রকাশিত এই সব খবরের বাইরে অনেক সংবাদমাধ্যমই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে—বিশেষ করে সংবাদটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে গেছে এমন সংবাদের কারণে—প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করে ওই সাংবাদিকদের ছাঁটাই করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে (জাগো নিউজ, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিক হেনস্তা
গত বছর ২৮ অগাস্ট ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক একটি আলোচনায় দেশের বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ নাগরিক অংশগ্রহণ করেছিলেন; যাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠান চলাকালে একদল মানুষ সেখানে গিয়ে হামলা করে এবং পুলিশ গিয়ে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে অনুষ্ঠানস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাও ছিলেন, যিনি অধ্যাপক ইউনূস সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করে আসছিলেন। ‘সন্ত্রাসবাদের’ রসদ জোগান দেওয়া হয়েছে দাবি করে সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দেয়। এই একই ধরনের নিপীড়নমূলক মামলায় গত বছরের ডিসেম্বরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ আইনে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে (প্রথম আলো, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫); যার মুক্তি দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। আনিস আলমগীরের আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর গোপালগঞ্জের ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয় (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৬ নভেম্বর ২০২৫)। গত বছরের ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রমবর্ধমানভাবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই সব গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সরকারকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু ইউনূস সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। মনজুরুল আলম পান্না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষের দিকে এবং আনিস আলমগীর সরকার পরিবর্তনের পর জামিনে মুক্তি পান।
প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কেন ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’কে সেই আগের সরকারগুলোর মতো সাংবাদিক দমনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর মবের চাপে কাউকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মামলা না থাকলেও গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে।
পুরাতন নিয়মে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
পুরাতন কাঠামো থেকে গণমাধ্যমকে বের করে আনার জন্য গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। সাংবাদিক কামাল আহমেদকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিশন এমন সব সুপারিশ এনেছে, যার ৪০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করা যেত, তাহলে ওই সরকারকে সাংবাদিকরা অনেক দিন মনে রাখতেন। পেশা সাংবাদিকতা, কিন্তু জীবিকা নির্বাহ করেন অন্য পেশায়—এমন সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষানীতি প্রণয়নে আগ্রহী কমিশনের সুপারিশমালাকে একপ্রকার কর্ণপাতই করেননি নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ফলশ্রুতিতে ‘কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পর বাংলাদেশের যতজন সাংবাদিক যত জায়গায় লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন, আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের’ বলে দাবি করেন কামাল আহমেদ (ইত্তেফাক, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬)।
কারা, কীভাবে গণমাধ্যমের লাইসেন্স পাবে, তা স্পষ্ট করার ব্যাপারে সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে এমন কিছু ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যাদের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক মদদপুষ্টদের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের (টিভি) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে; ‘নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’ নামক এই চ্যানেল দুটির মালিকেরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) করেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে (প্রথম আলো, ৯ অক্টোবর ২০২৫)।
মবের শিকার গণমাধ্যম
যেকোনো দেশের ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ সেই দেশের গণতন্ত্রের আস্থার প্রতীক বলে স্বীকৃত হয়ে আসছে। যে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যত মুক্ত, সেই দেশের সমাজ তত বেশি অগ্রসরমাণ। সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা তৈরি করে কোনো সরকারই ইতিহাসে টিকতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবাদমাধ্যমকে মবের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি, উল্টো মবের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সরকারের সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে মবের শিকার হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের শীর্ষ দুই পত্রিকা ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ ভয়াবহ ‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামে অপপ্রচারের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর গরু জবাই করে জিয়াফত আয়োজন করে ‘বাংলাদেশের জনগণ’ নামের একটি সংগঠন (বাংলা ট্রিবিউন, ২৪ নভেম্বর ২০২৪)। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আঘাত সরকার সহ্য করবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও উন্মত্ত জনতাকে শান্ত রুখতে ব্যর্থ হয়।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বন্ধু-সহকর্মীসহ দেশের মানুষ যখন শোকাহত, তখন বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকা দুটির অফিসে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। 'পরিকল্পিত'ভাবে পত্রিকা দুটির কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের মেরে ফেলার বন্দোবস্ত পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল (প্রথম আলো, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ন্যক্কারজনক এই কর্মকাণ্ড ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। দেশের শীর্ষ এই দুই দুটি সংবাদপত্র 'মব' সন্ত্রাসের কবলে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে যখন ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, তখন সরকার নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে।
মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন একজন সাংবাদিক। কিন্তু এই মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের স্বার্থের কথা ভুলে ‘আমলাতান্ত্রিক’ বাংলাদেশের চিরাচরিত বয়ানই প্রচার করেছেন। সাংবাদিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি জ্ঞাত থাকার পরও কেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমবান্ধব হতে পারল না, তা ওই মুখপাত্রই ভালো বলতে পারবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলো ‘বাকস্বাধীনতার’ চর্চা করতে গিয়ে যে বাধার মুখে পড়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও সাংবাদিক নিপীড়নের গ্লানি থেকে মুক্ত হতে পারেনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আগের পর্ব: ইউনূস সরকারের অবদান কী প্রকারে অস্বীকার করিব-১: মব