২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
গবেষক ও শিক্ষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি শাস্ত্রে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটি থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং পিএইচডি। শিক্ষকতা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্দার্ন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের স্কুল অফ সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিসে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত গবেষণা গ্রন্থ Water for Poor Women: Quest for an Alternative Paradigm। বিভিন্ন জাতীয়, এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে রাজনীতির নানাবিধ বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ। এর বাইরেও বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখালেখি করেন দেশ এবং বিদেশের বিবিধ মাধ্যমে।
মাদানি ও মওদুদী—দুজনেই ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম লীগের পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন; অথচ তাদের বিরোধিতার ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী। একজনের কাছে প্রশ্নটি ছিল ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত, অন্যজনের কাছে সম্পূর্ণ আদর্শিক ও ধর্মতাত্ত্বিক। যৌথ জাতীয়তাবাদ (মুত্তাহিদা কওমিয়্যত) বনাম ইসলামি রাষ্ট্র (ইসলামি রিয়াসত)— সেই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব আজও কেন বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক?
চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—এই তিন শক্তির মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার কূটনীতিই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্ত। ভারসাম্যে একটু নড়চড় হলে তার প্রভাব পড়বে আমাদের বিনিয়োগ থেকে শুরু করে সার্বভৌমত্বেও।
উনিশ শতকের ইউরোপীয় ইহুদি-বিদ্বেষ কীভাবে জন্ম দিল এক নতুন রাষ্ট্রদর্শন—জায়নবাদের? একই সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে দানা বাঁধা হিন্দুত্ববাদ ও মুসলিম জাতীয়তাবাদের সঙ্গে জায়নবাদের তাত্ত্বিক মিল কোথায়? থিওডোর হার্টজলের জায়নবাদ, সাভারকারের হিন্দুত্ববাদ এবং জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ কীভাবে নিজ নিজ ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্তি-বিরোধী মতবাদ হয়ে উঠল?
মুখে ইসরায়েলের কড়া নিন্দা করলেও তুরস্কের মাটিতে নেটোর যে রাডার ব্যবস্থা আছে, তা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। গাজা যুদ্ধের পর তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সব রকম বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘের ইউএন কমট্রেডের সর্বশেষ ডেটা বলছে ২০২৪ সালেও ইসরায়েলের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশটির নাম তুরস্ক!
ফ্যাসিবাদ যেমন সরকারের ভেতর থাকতে পারে, তেমনি উগ্র বিরোধী দল, ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা তথাকথিত প্রগতিশীলদের মধ্যেও বাসা বাঁধতে পারে।
যখন রাষ্ট্রীয় নীতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় টিকা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন দায় কার? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যাদের দায়বদ্ধ থাকার কথা ছিল, তারা আজ একে অপরের দিকে আঙুল তুলতেই ব্যস্ত। আর এই রাজনৈতিক ঠেলাঠেলির মাঝেই নিভৃতে ঝরে পড়ছে শত শত প্রাণ।