Published : 13 Jul 2026, 03:08 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির মুখে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। যার ফিরে আসা বা না আসা নিয়ে এত হৈচৈ, আইনের চোখে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামি। তার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনীতির মাঠ যেভাবে গরম হয়ে উঠেছে, তাতে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসছে।
১. শেখ হাসিনার এই ফিরে আসার ঘোষণা কি নিতান্তই সরকারকে চাপে রাখার কৌশল? দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার রাজনৈতিক আওয়াজ?
২. তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ডিসেম্বর মাসের কথা কেন বললেন? ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষের বিজয়ের মাস বলে? তিনি কি মনে করেন যে তিনি বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরবেন? সেই বাস্তবতা কি এখন আছে? নাকি ডিসেম্বরে সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন?
৩. শেখ হাসিনার ফিরে আসার কথা বলাটা কি শুধুই তার নিজের বক্তব্য, নাকি এর পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশেষ করে ভারতের নতুন কোনো কৌশল কাজ করছে?
৪. সরকার কি সত্যিই তাকে ফিরিয়ে আনতে চায়? তিনি ফিরে এলে দেশে যদি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়, সরকার তা কীভাবে মোকাবিলা করবে?
৫. শেখ হাসিনা ফিরে এলে আসামি হিসেবে স্বভাবতই তার গন্তব্য হবে জেলখানা। কিন্তু তারপর কী হবে?
৬. তার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে কি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনীতিতে ফিরে আসবে?
৭. শেখ হাসিনা কি মনে করেন যে বিদেশের মাটিতে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে? দলের নেতৃত্ব শেখ পরিবারের বাইরে চলে যাবে? সে কারণে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফিরতে চান, যাতে দলের নেতৃত্ব তার অথবা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকে?
এরকম আরও বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতে পারে। তবে সেসব ছাপিয়ে যে প্রশ্নটির সুরাহা করা দরকার, তা হলো, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত একজন প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসা কেন এতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে বা প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে?
চব্বিশের অভ্যুত্থানে তরুণদের রাজপথে নামার মূল কারণ যে বৈষম্য, সেই বৈষম্য কি কমেছে? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা, সেই প্রবণতা থেকে দেশ কি বের হতে পেরেছে? অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর এবং নির্বাচিত বিএনপি সরকারের চার মাসে প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন কি এসেছে? পুলিশের পুরোনো পোশাকে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই বাহিনীতে এবং প্রশাসনের অন্যত্র কি ন্যূনতম কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে?
বরং জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশে এমন অভূতপূর্ব সব ঘটনা ঘটেছে, যা একসময় মানুষের ভাবনারও অতীত ছিল। মবসন্ত্রাসের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ; ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তার; নারীদের হেনস্তা করা; শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে বা নানা চাপে রেখে অর্থনীতি পঙ্গু করে দেওয়া; মানুষে মানুষে বিভেদ তথা সামাজিক বিভাজন ভয়াবহ আকার ধারণ করাসহ এমন সব ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ঘটেছে, যার পর শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের অনেক অপরাধ কেউ কেউ ভুলতে বসেছে।
অর্থাৎ অভ্যুত্থানের পরে দেশ সঠিক পথে চললে; দেশ থেকে সত্যিই বৈষম্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতি সচল রেখে মানুষে মানুষে তথা সামাজিক বিভেদ কমানোর উদ্যাগ নেওয়া হলে; মবসন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিস্তার হতে না দিলে এবং অতীতের মতোই ট্যাগিংয়ের রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিলে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া একজন পলাতক আসামির দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হয়তো হতো না, বা তার এই ফিরে আসার ঘোষণাটিকে মহিমান্বিত করার সুযোগ কেউ পেত না।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স যেদিন শেখ হাসিনার ফিরে আসার ঘোষণা বিষয়ক সংবাদটি প্রকাশ করল, সেদিন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেইসবুকে রসিকতা করে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন: “অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে।”
নির্মম সত্য হলো, আসিফ নজরুলদের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করা তথা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে একটি সহনশীল, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে সুযোগ পেয়েছিল, সেটি হাতছাড়া করেছে। এমন সুবর্ণ সুযোগ এই দেশে আর কখনো আসবে কি না সন্দেহ। সুতরাং এখন শেখ হাসিনার এই যে ফিরে আসার আলাপ বা তিনি যে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন, তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ও কম নয়। কোনো না কোনোদিন তাদেরও হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যে, তারা কেন দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তার ঘটতে দিল; কেন তাদের সময়ে বারবার নারীদের নিগ্রহ করার ঘটনা ঘটল; কেন অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেল; কেন পুরো দেড় বছর মবসন্ত্রাসকে জিইয়ে রাখা হলো এবং মানুষের মনে একটা নিরাপত্তাহীনতার বোধ জাগিয়ে রাখা হলো?
এটা ঠিক যে, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার দুই আড়াই বছরের মধ্যে আবার ওই দলের বা ওই দলের শীর্ষ নেতার মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। তাছাড়া রাজনীতি সব সময় সরলরেখায় চলে না। সাদাচোখে যা দেখা যায়, তার আড়ালে অনেক কিছু ঘটে। মানুষের ধারণারও অতীত অনেক কিছু ঘটে যায়। চব্বিশের জুন বা জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়েও দেশের কেউ কি জানত বা বুঝতে পারছিল যে শেখ হাসিনার মতো একজন শাসকের পতন হয়ে যাবে? কিন্তু হয়েছে। একইভাবে তিনি আগামী ডিসেম্বরে যে ফিরে আসার কথা বলছেন, সেটি কি নিছকই আওয়াজ বা নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার কৌশল? নাকি এই সময়ের মধ্যে বা ডিসেম্বরে সত্যিই এমন কিছু ঘটবে বা ঘটানো হবে, যাতে তার ফিরে আসাটা প্রাসঙ্গিক হয়? নাকি তিনি সত্যিই দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হতে চান?
মনে রাখা দরকার, শেখ হাসিনার ফিরে আসা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। কিন্তু তার ফিরে আসাটা অনেকগুলো ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভর করবে। সরকারের সঙ্গে তার অথবা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর বিদেশি শক্তিগুলোর (বিশেষ করে ভারতের) এই সমঝোতা হতে হবে যে, তাকে অন্তত ফাঁসি দেওয়া হবে না। তাকে বিচারের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে সরকারে ও বিরোধী দলে যারাই আছে, তাদের সবাই অভ্যুত্থানের পক্ষশক্তি—যারা শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করেছে। সুতরাং বিএনপি তথা সরকারের পক্ষে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে, যা তার আন্দোলনের মিত্র দলগুলোর কাছে তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যে চরম অবনতি হয়েছে, তার ফলে উভয় দেশই বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এখন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যদি ভারত স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, সেক্ষত্রেও বড় অন্তরায় শেখ হাসিনা। তাকে আশ্রিত রেখে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে কি না বা বিএনপি তা মেনে নিলেও বিরোধীদের কারণে সেটা সম্ভব হবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। ভারতের সরকারও নিশ্চয় তা উপলব্ধি করতে পারছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় তার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালেই বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা উন্মুক্ত করে দেওয়া একটি বড় ইঙ্গিত। এই সফরেই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোর করার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংকটে ইরান ও আমেরিকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান যে ভূমিকা রেখেছে, তাতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ইসলামাবাদের ভাবমূর্তি কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে বলে মনে করা হয়। আবার জুলাই অভ্যুত্থানের পরে সেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেড়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। সুতরাং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন স্বভাবতই ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হবে। উপরন্তু চীন যদি বাংলাদেশের তিস্তা মহিপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীদার হয়, সেটি ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দেবে। ভারত নিজেও তার অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এরকম পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো রাখা নানা কারণেই জরুরি। ফলে ভারত যদি মনে করে যে, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করবে, অন্যদিকে শেখ হাসিনাও দেশে ফিরে কারাবরণ করবেন এবং বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন বলে ভেবে থাকেন—সেটি একটি সম্ভাবনা হতে পারে।
কিন্তু এখানে মূল প্রশ্নটি হলো—শেখ হাসিনা যদি ফিরে আসেন, ভারত যদি তাকে ফেরত দেয় বা সরকার যদি তাকে ফিরিয়ে আনে, তবে এতে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির কী লাভ হবে কিংবা নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এটি রাজনীতির অত্যন্ত জটিল একটি অঙ্ক। কারণ রাজনীতিতে আজ যে মিত্র, কাল সে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে; যেমনটি বিএনপি ও জামায়াতের ক্ষেত্রে হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার ফিরে আসা বা না-আসার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির অনেক অঙ্ক জড়িয়ে আছে।
এসব অঙ্কের বাইরে আছে আন্তর্জাতিক খেলা। অর্থাৎ মানুষ যা ভাবছে, আমরা যা ভাবছি এবং সাদা চোখে দেখছি, পর্দার অন্তরালে হয়তো অন্যরকম কোনো খেলাও চলতে পারে। সেজন্যই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না; তিনি দেশে এলে কী হবে বা হবে না; সরকার সত্যিই তাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না; তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ফাঁসির দড়িতে ঝোলার কিংবা বাকি জীবন জেলখানায় কাটানোর ঝুঁকি নিয়ে আসবেন, নাকি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন—এসব প্রশ্ন ছাপিয়ে যে প্রশ্নের সুরাহা করা প্রয়োজন সেটি হলো, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের নাক গলানোর প্রবণতা কবে বন্ধ হবে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পরেও যদি এই কথা শুনতে হয় যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় কে বসবে আর কে ক্ষমতাচ্যুত হবে, সেটি অমুক অমুক দেশ ঠিক করে—তার চেয়ে লজ্জার কিছু হতে পারে না। এমনকি যে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার মতো একজন প্রবল পরাক্রমশালী শাসকের পতন হলো, সেই আন্দোলনেও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইন্ধন, সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল বলে যে অভিযোগ আছে, সেটিও এই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অর্থাৎ কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় বসানো এবং গণবিরোধী কাজ করলে তাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর ক্ষমতাটি এককভাবে বাংলাদেশের জনগণের হাতে কবে যাবে, সেই প্রশ্নের মীমাংসা করা জরুরি।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে যে জনগণকে প্রজাতন্ত্র তথা রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সেই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, সেই জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেও যে বছরের পর বছর ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, সেটিও এই দেশের জনগণ দেখেছে। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে জনগণ তথা জনমত উপেক্ষিত থেকে গেল—তার সমাধান কী করে হবে; রাজনীতিবিদরা কবে বিদেশিদের নয়, বরং দেশের জনগণকে ভয় করবে—সেটি বিরাট প্রশ্ন। আর রাজনীতিবিদরা সমীহ করবে, জনগণের এমন নাগরিক হয়ে ওঠার জন্য যে রাজনীতি—তারই বা সূচনা হবে কার হাত ধরে, সেই প্রশ্নেরও মীমাংসা হতে হবে।
আমীন আল রশীদ, সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: [email protected]