Published : 11 Jul 2026, 09:33 PM
ফেইসবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের ছড়াছড়ি। তবে, বেশিরভাগ জ্ঞানই আজকাল আমাদের অজ্ঞান বানিয়ে দিচ্ছে! সঙ্গে অফলাইনের যুদ্ধংদেহী শারীরিক শক্তিপ্রয়োগের খেলা তো আছেই। এ হেন কারণে, বিশ্বকাপ ফুটবল শেষতক আইনসভাতেও পৌঁছে গেছে!
আইনকর্তা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ খেলাটাকে আনন্দের জায়গা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মোদ্দাকথা, কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিতে বলেছেন। কিন্তু, কে শোনে কার কথা! ফুটবল ফ্যানদের একটা অংশ বিশ্বকাপ চলাকালে রীতিমতো ‘ফ্যানাটিক’ হয়ে উঠেছেন। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীরা যেমন 'ফ্যানাটিক' হয়, তেমনই। আরও গভীরে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে এক রাজনৈতিক খেলার চরমমঞ্চ। ফলে, খেলাটা থেকে আনন্দের বিষয়টা চলে যাচ্ছে। স্থান পাচ্ছে যান্ত্রিক উগ্রতা।
পুঁজিবাদের মধ্যে আনন্দ ছাপিয়ে যান্ত্রিকতার জয়জয়কার ঘোষণার মারাত্মক এক বৈশিষ্ট্য আছে। খেলাধুলার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যটা প্রবেশ করিয়ে আখেরে যে লাভবান হওয়া তথা মুনাফা তৈরির সুযোগ আছে, তা পুঁজিবাদের বৈশ্বিক গডফাদাররা বেশ বুঝেন। ফলে, ফুটবল বিশ্বকাপ তাদের টার্গেটে পরিণত হবে, এ আর আশ্চর্য কী!
ফুটবল বিশ্বকাপ যে পুঁজিবাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে, এটা বঙ্গদেশের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অনুগতরা আবার বুঝেছেন ব্যাপক গবেষণা করে। সেই গবেষণার ফল হলো: বিশ্বকাপের এজেন্ডা সফল করতে ফিফা লিওনেল মেসির হাতে কাপ তুলে দিবে! উদাহরণ: আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ। এই লেখা মোটেও আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে নয়। তবে, এই ম্যাচ নিয়ে যেহেতু বিস্তর আলাপ হয়ে গেছে, ফলে যুক্তির খাতিরে এই ম্যাচের উদাহরণ না টানলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবেও না।
এই ম্যাচের বিতর্ক মূলত দুটি গোল নিয়ে। যার একটি ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছে। আর অপরটি ফাউল না-হওয়ার কারণে গোল হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই ফাউল ও গোলের ব্যবধান ২০ সেকেন্ডের কম। যদি একটাও গোল না হতো, তাহলে ফ্যানাটিকদের উন্মাদনা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। কিন্তু, কপাল আমাদের!
ঘটনাচক্রে, বাতিল হয়েছে মিশরের গোল, কিন্তু বাতিল হয়নি আর্জেন্টিনার গোল। এতেই লেগে গেছে আগুন! চার বছর পর যারা খেলা দেখতে বসেন, তারা অত নিয়মকানুনের ধার ধারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, সব যে নিয়মের মধ্যেই হচ্ছে, তা তাদের বোঝানো মুশকিল। কারণ, বিতর্ক তাদের করতেই হবে এবং সেই বিতর্কের লাভের গুড় বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা খেতে পারে, তা তারা ঘুণাক্ষরেও আমলে আনবেন না।

এই ম্যাচ নিয়ে যে বিতর্ক, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে নিশ্চিত এবং তাতে রসদ জুগিয়ে যাবে সামাজিক মাধ্যম, যাদের বৃহত্তর গোষ্ঠী, মূলত বৃহত্তর ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী, যারা আবার অন্য কোনো ম্যাচের উদাহরণ আমলে আনবেন না৷ বৃহৎ বাংলায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চিরন্তন দ্বৈরথ আজ যে বাইনারিতে পরিণত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, তার ভয়ানক ফল অতীতে বোধহয় এতটা দেখা যায়নি। পরিষ্কার করে বললে, এই বাইনারিকে কাজে লাগিয়ে এমন এক রাজনীতি অনুপ্রবেশ করেছে, যা সম্ভবত পুরো বিশ্বকাপের আনন্দকেই ভবিষ্যতে স্লান করে দিতে পারে।
২.
বলাবাহুল্য, প্রযুক্তির অতি প্রয়োগ হচ্ছে খেলাটায়। ফলে, 'রিয়েল টাইম' আনন্দ ভিডিও অ্যাসিসটেন্ট রেফারির (VAR) কারণে অনেক সময় বুমেরাং হয়ে যাচ্ছে। মানবিক আনন্দকে গিলে খাওয়ার লক্ষ্যেই যান্ত্রিকতার আবির্ভাব—এ ব্যাপারটা খুব স্পষ্টভাবে দেখিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'রক্তকরবী' নাটকে। কৃষিভিত্তিক সমাজের বিপরীতে যন্ত্রভিত্তিক সমাজের উত্থানকে রবীন্দ্রনাথ কর্ষণজীবিতার বিরুদ্ধে আকর্ষণজীবিতার সর্বগ্রাসী রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এ নাটকে।
সত্য এই যে, পুঁজিবাদ আনন্দের ধার ধারে না—এটা আপনাকে মানতে হবে সর্বাংশে। আপনি যে পেশায় শ্রম দেন, সেটা কীভাবে কাজ করে তা গভীরভাবে ভাবলেই বুঝতে পারবেন, আপনার ব্যক্তিগত সুখানন্দের চেয়ে আপনার শ্রমদক্ষতা পেশাগত জায়গায় অধিকতর মূল্যবান৷ যেদিন আপনার শ্রমদক্ষতা শেষ হয়ে যাবে, সেদিন আপনিও অপাংক্তেয় হয়ে যাবেন। যে প্রক্রিয়ায় অপাংক্তেয় হবেন, তার নাম নিয়মকানুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই তার আরেক বিখ্যাত সৃষ্টি 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে এই নিয়মকানুনকে (ল এন্ড অর্ডার) 'দারোয়ানি' বলেছেন। অন্যান্য বহু সৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ যুক্তি দিয়ে দেখান যে, সমস্ত প্রগতি ও মুক্তির আনন্দকে রুদ্ধ করার নামই হলো এই নিয়মকানুন।
এই নিয়মকানুনের হাত থেকে তো নিস্তার নেই। কর্তারা যা বলে বা লিখে দিয়েছেন, সেটাই নিয়ম। আপনি এর বাইরে যেতে পারবেন না। নিয়ম তাই আপনার আনন্দের ধার ধারে না। ফলে, ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে চালু হওয়া VAR নিয়ে আমাদের যত উষ্মাই থাকুক, আমরা এর করাতকলে পড়ে গেছি, এটাই বাস্তবতা।
সেই নিয়মই বলছে, বল ডেড হয়ে গেলে রেফারি VAR-এর ডাকে সাড়া দিতে পারবেন। মনে রাখবেন, নিয়মটা ক্রিকেটের আউট চেকের মতো না। উল্টো, যেমনটা 'নো বলে'র সিদ্ধান্ত আসে অনেকটা তেমন। তবে, ফুটবলে রেফারি VAR-এর কাছে যান না। VAR রেফারিকে বলেন, তোমার এটা রিচেক করা প্রয়োজন। তিনি দেখেন। মূল্যায়ন করেন। সিদ্ধান্ত নেন। অন্তত চারটি বিষয়ে রেফারিকে VAR ডাকে। তার মধ্যে গোল ও ফাউল চেক অন্যতম।
৩.
বর্তমান প্রযুক্তি-পর্বের আধুনিক ফুটবলে ফাউলের নিয়ম অনেক কঠিন। এই নিয়মের সুবিধা পেলে অন্তত আশির ও নব্বইয়ের দশকের ফুটবলাররা ঋষিতুল্য হয়ে যেতেন। উদাহরণ: দিয়েগো ম্যারাডোনা ও রোনালদো। এক জীবনে ম্যারাডোনা ও রোনালদো বল পায়ে রাখার জন্য যে পরিমাণ ফাউলের শিকার হয়েছেন, তা গবেষণার বিষয় হতে পারে। রোনালদো নতুন নিয়মের সুবিধা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের মধ্য গগণে, ম্যারাডোনা কখনই পাননি। পেলে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতে যেত নিশ্চিত। সবিশেষে বলতে হয়, ফাউলের এমন আইনের সুবিধা পেলে ম্যারাডোনা হতেন আরও অপ্রতিরোধ্য এবং ঋষিতুল্য তো বটেই। আবার, আইনের সুবিধা থাকার পরও, শুধু VAR না থাকায় ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত এমনভাবে জার্মানির পক্ষে গেছে যে, আর্জেন্টিনার প্রতি সুবিচার করা হয়নি—এমন দাবিও উঠেছে তখন।
যাই হোক, আপনার পছন্দ নাও হলেও কিন্তু, নিয়ম তার মতো করেই চলে এবং সে মূলত আক্রান্ত করে পক্ষ-বিপক্ষ অবলম্বনকারীকে। সিদ্ধান্ত আপনার বিপক্ষে গেলে আপনি ক্রোধান্বিত হন। পক্ষে গেলে আনন্দিত। কিন্তু, নিয়মই বলছে, পেছন থেকে অ্যাটাকারকে ট্র্যাকল করলে বা ফেলে দিলে ফাউল ধরা হবেই। সেটা জার্সি ধরেই টানেন কিংবা ল্যাং মারেন।
মিশরের মোস্তফা জিকোর বাতিল হওয়া দ্বিতীয় গোলের উৎস বা বিল্ড আপ ওই শুরুতে না-ধরা ফাউল। VAR না থাকলে আগের নিয়ম অনুযায়ী এটা নিশ্চিত গোল হতো, যেহেতু রেফারি তৎক্ষনাৎ ফাউলের বাঁশি বাজাননি। মাথায় রাখা তাই জরুরি যে, VAR থাকলে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই 'হ্যান্ড অব গড' গোলটি বাতিলই শুধু হতো না, তিনি নিশ্চিত লালকার্ড খেতেন। পর্তুগাল-উজবেকিস্তান ম্যাচেও উজবেকদের গোল উৎসমুখে ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল, সে খবর অধিকাংশ ফ্যানাটিকই রাখেননি, কারণ ম্যাচটা আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের ছিল না। এমনই মহিমা এসব দলের!

মিশরের বরং রেফারিকে ‘ধন্যবাদ’ দেওয়া উচিত যে তিনি আর্জেন্টিনার লিয়েসান্দ্রো মার্তিনেজকে জার্সি ধরে টেনে ফেলা দেওয়া মারোয়ান আত্তিয়াকে হলুদ কার্ড দেখাননি। যুক্তি হলো, হুবহু একইরকম ফাউলের অপরাধে ৪৩ মিনিটে স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন স্পেনের পাউ কুবার্সি।
এবার আসুন আর্জেন্টিনার গোলের উৎসটিতে। ওটাকে 'ফাউল' দাবি করা হচ্ছে এখনও। হয়তো অনন্তকাল হবে। কিন্তু, খোলা চোখে রেফারির কাছে তা ফাউল মনে হয়নি, তাই তিনি খেলা চলতে দিয়েছেন। পরে VAR নিজেও রেফারিকে কোনো অনুরোধ বা আমন্ত্রণ জানায়নি। এই না জানানোটির মধ্যেই অনেকে সংশয় পোষণ করেছেন। কিন্তু, এই সংশয়ের পেছনে যুক্তিবুদ্ধির চেয়ে যে বিরূপ ফ্যানাটিজম বেশি কাজ করেছে তা বলাই বাহুল্য।
এই ঘটনাটি বোঝার জন্য ফুটবলের গভীর আইনকানুনের পাঠ না জানলেও চলে সাধারণভাবে। একদম কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে বোঝা যায়, এই ঘটনার সময় দু'জন যুযুধান ফুটবলারের মধ্যে বল দখলের লড়াই চলছিল একদম মুখোমুখি অবস্থান থেকে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের বল দখলের লড়াইয়ে সালাহ পরাজিত হন। মনে রাখবেন, সালাহ সামনাসামনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন, পেছন থেকে করা ট্যাকলে নয়। এমন অবস্থায় কখনই ফাউল হয় না।
আলভারেজ যখন বল দখল জিতে গেছেন, সেই মুহূর্তে সালাহ ব্যালেন্স হারিয়ে পরে গিয়েছেন এবং আলভারেজের আগুয়ান পায়ের সঙ্গে তার পায়ে সূক্ষ্ম টোকাও এতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সেই মুহূর্তে রেফারি খেলায় অ্যাডভান্টেজ দিয়েছেন। ঘটনাটা এতই সূক্ষ্ম ছিল যে, রেফারি পুরো খেলাটাকে জীবন্ত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। VAR-ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেক করে রেফারির যুক্তিবুদ্ধির পক্ষে থেকেছে। ফলে, রেফারিকে আর নতুন করে চেক করতে ডাকেনি। ফলে, আর্জেন্টিনার গোলটি টিকে গেছে। ফিফার মুখ্য রেফারিং অধিকর্তা কিংবদন্তি ইতালিয়ান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা তাই এই ঘটনাটিকে ‘স্বাভাবিক ফুটবল কন্টাক্ট’ বলেই মত দিয়েছেন।
মাথায় রাখা জরুরি, প্রযুক্তি-পর্বের আধুনিক ফুটবলে রেফারিরা বল ডেড না হলে খেলা চলতে দেন। জানেন যে, কোথাও গলদ কিছু হলে VAR তাকে ডাকবে। আগেকার সময়ের কথা ভাবুন৷ রেফারি তৎক্ষনাৎ বাঁশি বাজাননি মানে ফাউল হয়নি। তাতে ওই মুহূর্তের উৎস থেকে কিছুক্ষণ খেলা গড়িয়ে বলটা গোলে ঢুকলে সেটা গোলই। কিন্তু, এখন আর সেটি খাটে না।
তবে, এখানেও কথা আছে। অনেক পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন, যদি অনফিল্ড সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়, তাহলে পরিষ্কার প্রমাণ না থাকলে অনফিল্ড রেফারির সিদ্ধান্তই অটুট থাকা উচিত। কেননা, তিনি তৎক্ষণাৎ বাঁশি না বাজিয়ে খেলা চলতে দিয়েছেন। এই নিয়মটা ক্রিকেটে আছে। অনফিল্ড আম্পায়ার যে সিদ্ধান্ত (যেমন: আউট) দেবেন, উপসংহার টানার মতো পরিপূর্ণ প্রমাণ তার বিপক্ষে না গেলে, সেই সিদ্ধান্তটাই বলবৎ রাখবেন টিভি আম্পায়ার।
তবে, VAR-এর ক্ষেত্রে এই যুক্তি প্রযোজ্য হলে অফসাইডে যে পরিমাণ গোল VAR বাতিল করছে, সেগুলোরও টিকে যাওয়ার কথা। কেননা, প্রযুক্তি এত সূক্ষ্ম অফসাইড ধরছে যে, অনফিল্ডে খেলা চলাকালীন সেগুলো ধরাই সম্ভব হচ্ছে না। অনফিল্ডে গোল হলে তো, সেটাকে গোলই রাখার কথা, তাই না? ফলে, কিছু সমালোচনা গঠনমূলক না হলেও গেলানো হচ্ছে গায়ের জোরে।
তার মানে এই নয় যে, খেলা, রেফারিং, বা VAR নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। অবশ্যই এই সমালোচনা জরুরি। কিন্তু, সমালোচনার চেয়ে বেশি তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও কুতর্ক এবং সেটার মধ্যে ফ্যানাটিজম ঢুকে গিয়েই হয়েছে বড় বিপদ।
৪.
ফ্যানাটিজমের এই মাত্রাতিরিক্ত আস্ফালন মূলত আর্জেন্টিনার মিশরের বিপক্ষে জয়ের কারণে অধিকতর শক্তিশালী হয়েছে বলে আপাত চোখে মনে হতে পারে। নিঃসন্দেহে শেষ ১২-১৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা যা খেলেছে, তা এই বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তন। কিন্তু, আর্জেন্টিনা-বিরোধীদের সেটা দেখার সময় কোথায়! তাদের কাছে তো আর্জেন্টিনা 'কমিটির টিম'!
আবার, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মতে এটা নাকি ইতিহাসেরই শ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তন। তাহলে, গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের ওই বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তনটা কী ছিল! এই হলো ফ্যানাটিজমের দশা!
ফ্যানাটিজমের এই রাজনীতি আসলে আরও গভীর। বিশ্বকাপকে যেভাবে ধর্মের মোড়ক দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে, যেভাবে 'জালিম' ও 'জুলুমে'র বয়ান সামনে হাজির করা হয়েছে এবং যেভাবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে খেলাটাকে ইসলামবিরোধী বানানোর চেষ্টা বিভিন্ন বট আইডির দ্বারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ফুটবলীয় উন্মাদনাকে প্রতিক্রিয়াশীলদের খাঁচায় বন্দি করে ফেলে কি না, তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।
বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সমাজের ক্রমাগত পরিবর্তন বিনোদনের ভেতরেও ধর্মের বাতাবরণ দিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। সেটা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বাইনারিতে আর আটকাবে না। বরং এই বাইনারি বহুলভাবে ব্যবহৃত হবে। আইনসভায় এ নিয়ে কি কোনো আলোচনা হবে?
ড. সৌমিত জয়দ্বীপ সহকারী অধ্যাপক, স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: [email protected]