২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
জন্ম যশোর জেলায়। বর্তমানে তিনি জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রবাসে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আধা দশকেরও বেশি সময় ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় কাজ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষে জার্মানির ইয়োহানেস গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হিউম্যান জিওগ্রাফি: গ্লোবালাইজেশন, মিডিয়া অ্যান্ড কালচার’ বিভাগ থেকে এম.এ. সম্পন্ন করেন। যোগাযোগ: [email protected]
সমাজে যারা পোশাক, বিনোদন কিংবা নারী-পুরুষের সম্পর্কের পরিধি ঠিক করতে ‘মোরাল পুলিশিং’ চালায়, ব্যক্তিজীবনে তাদেরই ধারাবাহিক স্খলন আসলে কীসের ইঙ্গিত? নাকি এটা অবদমিত সমাজের মুক্ত আকাঙ্ক্ষারই কোনো গোপন প্রতিফলন?
‘পাকিস্তান থেকে আমরা কেন স্বাধীন হলাম?’—অর্ধশতাব্দী পরে আজ যখন বাংলাদেশেরই কিছু মানুষের কণ্ঠে এমন আক্ষেপ শোনা যায়, তখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় থেরাপি হতে পারে বর্তমান বেলুচিস্তান। উর্দুর আগ্রাসন, প্রাকৃতিক সম্পদের নির্মম লুণ্ঠন আর হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের রক্তহিম করা গুম-হত্যার পরিসংখ্যান যেন একাত্তরের পূর্ববঙ্গকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
কার্ল মার্ক্সের ‘ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে শুরু করে জাতিসংঘের সাংগঠনিক রূপ—আন্তর্জাতিকতাবাদের ইতিহাসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই ছিল শেষ কথা। তবে বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনা কি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ ও নতুন এক ‘পপুলার ইন্টারন্যাশনালিজম’-এর জন্ম দিচ্ছে?
অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান আর বিশাল বাজার থাকলেই কি পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন হয়, নাকি তার জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য? দেশের বিভাজিত রাজনীতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে কি বৈশ্বিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের ‘ক্রীড়নক’ বানাতে চাইছে?
স্পিভাকের ‘ক্যান দ্য সাবঅল্টার্ন স্পিক?’ প্রবন্ধটি আমাদের শিখিয়েছিল প্রান্তিক মানুষের নীরবতার গল্প। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে যায় এবং ভিন্নমত দমনে ‘মব জাস্টিস’ শুরু করে, তখন কি তারা আদৌ সাবঅল্টার্ন থাকে?
যে দেশে নিরাময়যোগ্য হামে শত শত শিশুর মৃত্যু রোধ করা যায় না, খাদ্য-জ্বালানি ও তথ্য নিরাপত্তা যেখানে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে—সেখানে হুট করে অস্ত্র তৈরির আলোচনা কার স্বার্থে? এটি কি আসলেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়াস, নাকি নিতান্তই ‘গরিবের ঘোড়া রোগ’?