Published : 10 Jul 2026, 02:08 PM
খেলার মাঠে একজন ফুটবলারের ভুল অনেক সময় সতীর্থরা ঢেকে দেন, আবার কখনও তিনি নিজেই পরের মুহূর্তে পুষিয়ে দেন। কিন্তু ওই একই মাঠে রেফারির বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। অনেকগুলো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েও একটি ভুলের জন্য তিনি হয়ে যেতে পারেন খলনায়ক। কারণ ওই ভুল সংশোধনের আর কোনো সুযোগ থাকে না। বাঁশি বাজিয়ে তিনি যখন একটি সিদ্ধান্ত দেন তা যেমন সঠিক হতে পারে, তেমনি হতে পারে ভুল। এমনকি সঠিক সিদ্ধান্তও হয়ে উঠতে পারে বিতর্কিত। ২২ জন খেলোয়াড় আর মাঠভর্তি দর্শকের মাঝে তিনি কোনো পক্ষ নন, বিচারকের বাঁশি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন একাকী মানুষ। ফুটবল মাঠের একজন নিঃসঙ্গ বংশীবাদক।
এই নিঃসঙ্গতা সমর্থকের অভাবে নয়, তার ভূমিকার কারণেই। একজন খেলোয়াড়ের পাশে থাকে সতীর্থ, একজন কোচের পাশে থাকে তার দল, একজন সমর্থকের পাশে থাকে গ্যালারির হাজারও কণ্ঠ। কিন্তু রেফারির পাশে থাকে শুধু আইন। তিনি কোনো দলের প্রতিনিধি নন, কোনো কৌশলের অংশ নন, কোনো জাতীয় পতাকারও নন। তার কাজ জনপ্রিয় হওয়া নয়; বৈধ থাকা।
ফুটবলকে যদি কেবল একটি খেলা না ভেবে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা যায়, তাহলে রেফারির ভূমিকা নতুনভাবে ধরা পড়ে। তিনি একজন ব্যক্তি নন, একটি নীতির দৃশ্যমান রূপ। তার বাঁশি শুধু খেলা থামায় না; খেলার নিয়মকে কার্যকর করে। কারণ নিয়ম লিখে রাখলেই তা প্রতিষ্ঠিত হয় না। নিয়মকে কার্যকর করার জন্য এমন একজনের প্রয়োজন হয়, যার সিদ্ধান্তকে সবাই শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে। এই গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া ফুটবল সম্ভব নয়।
ভাবা যাক, একটি কর্নার হবে কি হবে না, একটি গোল বৈধ কি অবৈধ, কিংবা একটি ট্যাকল ফাউল কি না, প্রতিটি সিদ্ধান্ত যদি ২২ জন খেলোয়াড় নিজের মতো করে নিতে চান, তাহলে ম্যাচ কয়েক মিনিটও এগোবে না। প্রতিযোগিতা ভেঙে পড়বে বিশৃঙ্খলায়। তাই রেফারি কেবল প্রশাসনিক প্রয়োজন নন; তিনি খেলার বৈধতার অন্যতম শর্ত। কিন্তু এখানেই তার ট্র্যাজেডি।
একজন ফরোয়ার্ড সুযোগ নষ্ট করলে আমরা বলি, “আজ দিনটা ভালো ছিল না।” একজন গোলরক্ষক ভুল করলে বলি, “চাপ সামলাতে পারেননি।” কিন্তু একজন রেফারি ভুল করলে আমরা প্রায়ই বলি, “ম্যাচটাই নষ্ট করে দিলেন।” কারণ একজন রেফারির পেশাই এমন, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত তার পরিচয় নয়; ভুল সিদ্ধান্তই তার পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। তবে অনেক সময় তার সঠিক সিদ্ধান্তও অন্যায় সমালোচনার শিকার হয়।
তাই বলে সব সমালোচনা অন্যায্য নয়। বরং ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক সিদ্ধান্ত আছে, যেগুলোর কঠোর সমালোচনা হওয়াই উচিত ছিল। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের বৈধ গোল স্বীকৃতি না পাওয়া কিংবা ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালির ম্যাচে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জবাবদিহি ছাড়া কোনো কর্তৃত্ব বিশ্বাসযোগ্য হয় না, রেফারিরও নয়।
কিন্তু এখানেই আরেকটি প্রশ্ন জন্ম নেয়। কেন এমন হয়, একটি দল পুরো ম্যাচে অসংখ্য ভুল করলেও পরাজয়ের পরে কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন একজন রেফারি? কেন শতাধিক সঠিক সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই বিস্মৃত হয়, অথচ একটি বিতর্কিত বাঁশিই ইতিহাসে থেকে যায়? কেন আমরা পরাজয়ের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে এত দ্রুত একজন মানুষকে দোষের প্রতীকে পরিণত করি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু ফুটবলের মধ্যে নেই। উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের সামাজিক আচরণে।
একটি ফুটবল ম্যাচে হার কখনোই একটি মাত্র কারণে আসে না। একজন স্ট্রাইকারের ব্যর্থতা, একজন ডিফেন্ডারের অবস্থানগত ভুল, কোচের কৌশল, প্রতিপক্ষের দক্ষতা, এমনকি ভাগ্যও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। কিন্তু ম্যাচ শেষে আমরা খুব কমই এই জটিল সমীকরণটি বিশ্লেষণ করি। বরং আমরা খুঁজি একটি মুখ। এমন একজনকে, যার কাঁধে পরাজয়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া যায়।
ফরাসি চিন্তাবিদ রেনে জিরার এই প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন স্কেপগোট ম্যাকানিজম বা ‘বলির পাঁঠা নির্ধারণ’ ধারণার মাধ্যমে। তার মতে, কোনো সমাজ যখন সংকট, হতাশা বা সংঘাতের মুখে পড়ে, তখন ওই জটিল পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ করার চেয়ে একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করা অনেক সহজ। এতে সমস্যার সমাধান হয় না, কিন্তু ছড়িয়ে থাকা ক্ষোভ একটি দৃশ্যমান লক্ষ্য খুঁজে পায়।
ফুটবল মাঠে ওই মুখটি প্রায়ই রেফারি। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। জিরারের ধারণা রেফারিকে ভুলের ঊর্ধ্বে বসায় না। বরং এটি আমাদের শেখায়, রেফারির ভুলের সমালোচনা এবং রেফারিকে সব ব্যর্থতার প্রতীক বানিয়ে ফেলা এক বিষয় নয়। প্রথমটি জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে, দ্বিতীয়টি জটিল বাস্তবতাকে একটি মাত্র মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়।
ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিতর্কিত রেফারিংয়ের ঘটনা যেমন আছে, তেমনি আছে ওই বিতর্ককে ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়ারও একটি পুনরাবৃত্ত ধরন। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালির ম্যাচটি আজও ওই তালিকার শীর্ষে। রেফারি বাইরন মোরেনোর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। ইতালির একটি গোল বাতিল হয়, ফ্রান্সেস্কো টট্টি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, আর অতিরিক্ত সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া জয় তুলে নেয়। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ওই ম্যাচের আলোচনা এখনও প্রায়শই রেফারিকে দিয়েই শুরু হয়। অথচ প্রশ্ন করা যায়, ইতালির বিদায় কি কেবল একজন রেফারির সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়েছিল, নাকি পরাজয়ের বহুমাত্রিক কারণগুলো ধীরে ধীরে একটি মাত্র মানুষের ওপর এসে স্থির হয়েছিল?
এর ঠিক উল্টো শিক্ষা দেয় ২০১০ বিশ্বকাপের জার্মানি-ইংল্যান্ড ম্যাচ। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শট স্পষ্টভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছিল, কিন্তু গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। এখানে রেফারির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তবে ওই ভুল বিশ্ব ফুটবলকে প্রযুক্তির দিকে আরও দ্রুত এগিয়ে দেয়। পরে গোললাইন প্রযুক্তি চালুর পেছনে এই ঘটনা অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে। অর্থাৎ সব সমালোচনা ধ্বংসাত্মক নয়; কিছু সমালোচনা প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের কোয়ার্টার ফাইনালে আবার অন্য বাস্তবতা দেখা যায়। রেফারি আন্তোনিও মাতেউ লাওসের ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকেরাই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এখানে অভিযোগ ছিল না যে তিনি একটি দলের পক্ষে বাঁশি বাজিয়েছেন; বরং প্রশ্ন ছিল, তিনি কি ম্যাচের উত্তেজনা ও সংঘাত দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন?
এই তিনটি ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়। রেফারির কাজ কেবল আইন প্রয়োগ করা নয়; খেলার ছন্দ, আবেগ এবং সংঘাতও নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি একই সঙ্গে বিচারক ও মধ্যস্থতাকারী। আধুনিক ফুটবল এই দায়িত্বকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত অসংখ্য ক্যামেরা, বিভিন্ন কোণ, আল্ট্রা স্লো-মোশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তহীন পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন করে বিচার হয়।
এই তিনটি ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়। রেফারির কাজ কেবল আইন প্রয়োগ করা নয়; খেলার ছন্দ, আবেগ এবং সংঘাতও নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি একই সঙ্গে বিচারক ও মধ্যস্থতাকারী। আধুনিক ফুটবল এই দায়িত্বকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত অসংখ্য ক্যামেরা, বিভিন্ন কোণ, আল্ট্রা স্লো-মোশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তহীন পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন করে বিচার হয়।
এই বাস্তবতা থেকেই ফুটবলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর আগমন। প্রযুক্তিটি চালুর সময় বিশ্বাস করা হয়েছিল, বিতর্ক হয়তো অনেকটাই কমে যাবে। কারণ ক্যামেরা মানুষের মতো ক্লান্ত হয় না, আবেগে ভেসে যায় না, গ্যালারির চাপও অনুভব করে না। কিন্তু কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলছে।
ভিএআর বিতর্কের অবসান ঘটায়নি; বদলে দিয়েছে তার ভাষা। আগে প্রশ্ন ছিল, “রেফারি দেখলেন না কেন?” এখন প্রশ্ন, “ভিএআর দেখেও হস্তক্ষেপ করলেন না কেন?” প্রযুক্তি ভুলের সংখ্যা কমাতে পারে, কিন্তু মতভেদ কমাতে পারে না। কারণ ক্যামেরা দৃশ্য ধারণ করে, বিচার করে না। ফুটবলের অনেক সিদ্ধান্তই ব্যাখ্যানির্ভর। বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, অফসাইড হয়েছে কি না, প্রযুক্তি তার উত্তর দিতে পারে। কিন্তু একটি সংস্পর্শ পেনাল্টির জন্য যথেষ্ট কি না, একটি হ্যান্ডবল ইচ্ছাকৃত কি না, কিংবা একটি ট্যাকল ‘অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ’ ছিল কি না, ওই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষের বিচারবোধের ওপরই নির্ভর করে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ ওই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে আসে। ম্যাচে মিশরের একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল হয়। পরে শেষদিকে মোহাম্মদ সালাহকে পেনাল্টি এলাকায় ফাউল করা হয়েছে বলে মিশরের খেলোয়াড়েরা জোরালো আবেদন জানান। কিন্তু সেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ না করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ম্যাচ শেষে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। প্রশ্নটি শুধু একটি সিদ্ধান্তের ছিল না; প্রশ্ন ছিল, একই ম্যাচে প্রযুক্তির ব্যবহার কি স্বচ্ছ এবং সংগতিপূর্ণ ছিল? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই।

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার মনে করেন, কোনো কর্তৃত্ব কেবল ক্ষমতার জোরে টিকে থাকে না; টিকে থাকে তখনই, যখন মানুষ তাকে বৈধ বলে মেনে নেয়। ভিএআর ওই বৈধতাকে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা। কিন্তু প্রযুক্তি একা বৈধতা তৈরি করতে পারে না। বৈধতা তৈরি হয় নিয়মের প্রতি আস্থা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর, যা সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা তৈরি করে।
কিন্তু এখানেই রেফারির পেশার সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। তাকে নিরপেক্ষ হতে হবে, অথচ তাকে বিচার করে পক্ষাবলম্বী মানুষ। আমরা ন্যায়বিচার চাই, তবে এমন ‘ন্যায়বিচার’, যা আমাদের বিপক্ষে না যায়। এখানেই আবেগ ও ন্যায়বিচারের সংঘাত শুরু হয়। এই কারণেই রেফারির সিদ্ধান্ত দুই ধরনের বিচারের মুখোমুখি হয়; একটি নিয়মের আদালতে, অন্যটি জনমতের আদালতে। এই দুই আদালতের রায় সব সময় এক হয় না।
এই সব সংকটের মাঝেই রেফারিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাকে দৃশ্যমান থাকতে হয়, অথচ তার সবচেয়ে বড় সাফল্য অদৃশ্য হয়ে থাকা। কারণ একটি ম্যাচে রেফারি তখনই সফল, যখন খেলা শেষ হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না তিনি; থাকে ফুটবল। ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা একবার বলেছিলেন, “সেরা রেফারি সেই, যাকে ম্যাচ শেষে কেউ মনে রাখে না।” আপাতদৃষ্টিতে কথাটি স্ববিরোধী মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরেই রেফারিংয়ের দর্শন লুকিয়ে আছে। একজন ভালো রেফারি ম্যাচের নায়ক হন না; তিনি নিশ্চিত করেন, নায়ক হয়ে উঠুক খেলাটাই।
রেফারির ভুলের সমালোচনা জরুরি। কারণ জবাবদিহি ছাড়া কোনো কর্তৃত্ব টেকসই হয় না। কিন্তু ওই সমালোচনা যদি পরাজয়ের একমাত্র ব্যাখ্যায় পরিণত হয়, তাহলে আমরা আর খেলাকে বিশ্লেষণ করি না; আমরা কেবল একজন মানুষকে আমাদের হতাশার প্রতীকে পরিণত করি।
খেলার মাঠে একজন রেফারি থাকেন বলেই সব সিদ্ধান্ত নিখুঁত হয় না। কিন্তু একজন রেফারি থাকেন বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি বৈধ কাঠামো তৈরি হয়। আর ওই কাঠামোর কারণেই প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাই হয়; বিশৃঙ্খল সংঘর্ষে পরিণত হয় না। সভ্যতার ইতিহাসও আমাদের জানিয়েছে, সব বৈধ কর্তৃত্ব জনপ্রিয় হয় না, কিন্তু এছাড়া কোনো ন্যায্য প্রতিযোগিতাও সম্ভব নয়। এ কারণেই রেফারি ভিড়ের মাঝেও একা, ওই নিঃসঙ্গতাই তার নিরপেক্ষতার দৃশ্যমান রূপ।
জয় প্রকাশ সরকার লেখক ও সাংবাদিক। ই-মেইল: [email protected]