২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
হাওর অঞ্চলের অধিকার রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে নিবেদিত কর্মী। তিনি ‘আমরা হাওরবাসী’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য সমন্বয়ক। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দুই বার দায়িত্ব পালন করা রাসেল পেশায় একজন সংবাদকর্মীও। দুর্গম হাওরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াতে তার চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে 'বংশীকুন্ডা কলেজ'। হাওরের প্রকৃতি, মানুষ এবং তাদের জীবনসংগ্রামই তার চিন্তা ও কর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
আইনি নিষেধাজ্ঞা আর জনগণের প্রতিবাদের পরও থামছে না উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী লুটের মহোৎসব। যাদুকাটা, পাটলাই কিংবা ধোপাজানের এই আর্তনাদ কবে শুনবে রাষ্ট্র?
আমরা কি প্রকৃতিকে কেবলই লুটেপুটে খাওয়ার সম্পদ হিসেবে দেখব, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার উপযোগী করে বাঁচিয়ে রাখব? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার প্রকৃত মূল্য।
হাওরবাসী দাবি করেছিল ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ, কিন্তু বাজেটে মিলল আড়াই হাজার কোটি টাকা। যে হাওর দেশের মানুষের অন্ন জোগায়, সেই অঞ্চলের সংকট কি কেবলই আঞ্চলিক?
তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ কিংবা ডজনখানেক উড়োজাহাজ ক্রয় রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতীক হতে পারে, কিন্তু সাপের কামড়ে আক্রান্ত একজন কৃষক বা দিনমজুর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম পাবেন কি না—সেটিই আসলে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রকৃত পরীক্ষার জায়গা।
হাওরের কৃষক শুধু ধান হারাচ্ছে না; ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভূপ্রকৃতির হাজার বছরের কৃষিবিজ্ঞানও।
প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ দেওয়া পরও কেন কৃষকের স্বপ্ন অথৈ পানিতে তলিয়ে যায়? হাওরের কান্না থামানোর জন্য পকেটভারী প্রকল্প নয়, প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই পরিকল্পনা।