সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বেড়ে সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা
“আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”
সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি মার্কুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”
এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মাউসিনরামে ১১৫ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”
এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের।
সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলছিলেন, “আমাদের গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি ডুবে গেছে। এখন চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে।
“কৃষকদের গবাদিপশুর খাদ্য সংস্থান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল জেলেরাও বিপাকে পড়েছেন।”
তবে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
