Published : 12 Jul 2026, 08:22 AM
সভ্যতার অভ্যন্তরীণ পচনের লক্ষণ
ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সভ্যতার আত্মা, তার অহংকার, তার অস্তিত্বের সনদ। একটি সভ্য সমাজ বা জাতির সমস্ত প্রজ্ঞা—তার ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, আইন, ধর্মবিশ্বাস, চিকিৎসাবিদ্যা, কৃষি ও বাস্তুবিদ্যা—সবকিছুই তার ভাষায় সঞ্চিত থাকে। ঐতিহাসিক অ্যাডওয়ার্ড গিবনের মতে, রোমান সভ্যতার পতনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল নৈতিক অবক্ষয়। উচ্চবিত্ত সমাজ থেকে সাধারণ জনগণের ভাষায় অশ্লীলতা, জীবনযাপনে বিলাসিতা এবং আদর্শের অভাব দেখা দিয়েছিল। এটি সমাজের সংহতি ও নৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল, যা বহিরাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। বাংলা ভাষার বুকে অশ্লীলতার যে কালি ঢালা হচ্ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে একদিন হয়তো আমাদেরও সেই করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে—যেখানে আমাদের ভাষা থাকবে, কিন্তু তার মর্যাদা, তার সভ্য চেহারা, তার আত্মা—সবই হারিয়ে যাবে।
অথচ বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার। বাংলা ভাষার ভিত্তিতেই আমাদের জাতীয়তার পরিচয়। এ ভাষায় দেহতত্ত্ব নিয়ে গান করে লালন ফকির বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অমূল্য সম্পদে সমৃদ্ধ করেছেন;
‘আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা,
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা।
তার উপরে সদর কোঠা,
আয়নামহল তায়।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কমনে আসে যায়।’
চর্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের সহজিয়া বৈষ্ণব, যোগী সম্প্রদায়ের গান, বাউল, মারফতি, ফকিরি, রামপ্রসাদের শাক্ত গান ইত্যাদি গানে দেহসাধনার কথা শৈল্পিক সৌন্দর্য নিয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে। পাগলা কানাই গাইছেন, ‘আমার এই দেহ-নদী চলতে ভারি, বাঁধলে নদীর বাঁধ মানে না, নদীর জল শুকাইল চর পড়িল, তবু নদীর বেগ গেল না’। রবীন্দ্রনাথ এ ভাষায় ‘সভ্যতার’ সুর বেঁধেছেন, নজরুল এ ভাষায় ‘বিদ্রোহের’ আগুন জ্বেলেছেন, সব অশ্লীলতাকে বর্জন করেই। সেই ভাষার বুকে আজ অভূতপূর্ব কলঙ্কের গাঢ় আঁচড় বসিয়ে দিচ্ছে একদল ‘আধুনিক’ প্রজন্ম। ২০২৪ সালের ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক ভাষায় দেহতত্ত্বের যে অশ্লীল বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে অপদস্ত করছে, আমাদের সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিবর্তন নয়, বিকৃতি: ডিজিটাল মাধ্যমের ছদ্মবেশ
ভাষা কখনো স্থির থাকে না; সময়, সমাজ ও প্রযুক্তির স্পন্দনে তা বদলায়। ভাষাকে ব্যাকরণের আলোকে যতই দেখা হোক, জনপরিসরে ব্যবহারের সময় ভাষা বদলাবেই—এটাই ভাষার বেঁচে থাকার শর্ত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের মাতৃভাষার যে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিল, একুশ শতকের তৃতীয় দশকের মাঝামাঝিতে এসে সে ভাষা তার মর্যাদা হারাতে বসবে বা সভ্য কাঠামো খোয়াতে থাকবে। বাংলা ভাষা এখন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিবর্তনের মুখোমুখি। ফেইসবুক, টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম যেমন ভাষার চেহারা বদলে দিচ্ছে, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন ভাষার ব্যবহারে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
ফেইসবুক বা টিকটককে যদি ভাষার ‘বিবর্তনের’ হাতিয়ার বলা হয়, তবে সেই যুক্তি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। বিবর্তন মানে উন্নতি, পরিশীলন ও গভীরতা; কিন্তু এই মাধ্যমগুলো বাংলা ভাষায় যা এনেছে, তা হলো সংক্ষিপ্ততা ও রূঢ়তার বিষবাষ্প। ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ ও ‘রিলস’-এর গোলকধাঁধায় টাইপিংয়ের গতি হয়তো বেড়েছে, কিন্তু সে গতি বাংলা বাক্য গঠনে শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে এবং শব্দের পথচলাকে বেপরোয়া করেছে। সেই সুযোগে বাংলা ভাষায় এমন এমন শব্দ পাচার হয়েছে, যেগুলোর ব্যুৎপত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না—যেমন: ‘প্যারা’ (ইংরেজি প্যারাগ্রাফ নয়), যা দিয়ে যন্ত্রণা বা ভোগান্তি বোঝানো হচ্ছে। শৃঙ্খলার অভাব ভাষার মাধুর্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; বানান ভুল এখন ‘ট্রেন্ড’ এবং অশুদ্ধ উচ্চারণ এখন ‘মজা’।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’—এই স্লোগানটি ১৯৬৯-৭১ সালের ‘বাঙালি, বাঙালি’ স্লোগানের বিকৃত রূপ। আন্দোলনের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কেউ যখন অশ্লীল স্লোগানকে প্রতিবাদের অস্ত্র বানায়, তখন তা আন্দোলনের নৈতিক মানকে খর্ব করে। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গালাগাল, অশ্লীল শব্দ ও বিষোদগারের প্রবণতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেখানে দেহতত্ত্বের প্রয়োগ শালীনতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়; সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো—এই প্রবণতা অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। যে শব্দগুলো জনসমক্ষে উচ্চারণ করলে একসময় মানুষ ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিত, সেই শব্দগুলো আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথের দেয়ালে, বঙ্গবন্ধুর বিধ্বস্ত বাড়ির দেয়ালে, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের স্মারক বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্থাপনায়, এমনকি অভিজাত শ্রেণির ফেইসবুক স্ট্যাটাসেও স্থান পাচ্ছে। ভাষার এমন চেহারা বদল নোংরামি; এই বদলকে ‘সাংস্কৃতিক আত্মহত্যা’ ছাড়া কিছু বলা যায় না। এটি মোটেই ভাষার মুক্তি নয়, স্রেফ অধঃপতন।
যে সমস্ত অশ্লীল শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে, সেগুলো কোনো রাজনৈতিক চেতনা বহন করে না; এগুলো বহন করে কেবল হিংসা, ঘৃণা এবং অনুন্নত মানসিকতার ঘ্রাণ। আরও লজ্জার বিষয়, আন্দোলন শেষ হওয়ার পরও ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মিছিলে, মিটিংয়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভাষার সেই কর্দমাক্ত স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এর অর্থ কী? এর একটা অর্থ হলো, এই অশ্লীলতা ‘আন্দোলনের চালিকা শক্তি’ নয়, এটি কারো কারো ‘স্বভাব’-এ পরিণত হয়েছে। সামাজিক আচরণেও তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে। চাঁদা আদায়ে চাপ প্রয়োগের কৌশল যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক।
আবার এর প্রতিক্রিয়া যারা দেখাচ্ছেন—সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ বা অন্যান্যরা—তারাও ‘ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়’ নীতিতে অশ্লীলতাকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বলেছিলেন, ‘Darkness cannot drive out darkness: only light can do that.’ (অন্ধকার অন্ধকারকে দূর করতে পারে না; একমাত্র আলোই তা পারে)।
অশ্লীল ভাষার অস্ত্র ও শিকার: উভয়ই নারী
ইতিহাসে নারী সবসময়ই যুদ্ধ, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ‘মূল্য’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ভাষাতেও তারই প্রতিফলন ঘটে। অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা, কিন্তু তার মাধ্যম বেছে নেওয়া হয় নারীকে। বাংলা ভাষায় অশ্লীলতার যে ঢেউ সমাজমাধ্যম ও মিছিলে ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রায় পুরোটাই নারীকে—আরো স্পষ্ট করে বললে, নারীদেহকে কেন্দ্র করে। নারীরা এই অশ্লীলতার শুধু ‘শিকার’ নন, এর ‘অস্ত্র’ও নারীরাই। ভাষাবিজ্ঞানের এই এক বিস্ময়কর ও ভয়ংকর কৌশল—নারীকে ব্যবহার করে নারীকেই আঘাত করা।
এভাবে নারীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করতে যখন নারীবাচক বা নারীদেহকেন্দ্রিক গালিকে সাহস বা প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন প্রকৃতপক্ষে নারীর ওপর শারীরিক-মানসিক সহিংসতার ভিত্তি মজবুত হয়। এটি সমাজকে এমন এক বার্তা দেয় যে, নারী হওয়া মানেই দুর্বলতা বা অবমাননাকর। এটি নারীর প্রতি সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি ভাষাগত প্রক্রিয়া।
নারীর প্রতি আক্রমণাত্মক ও অশালীন ভাষার ব্যবহার কেবল শব্দের অপব্যবহার নয়, এটি একটি কাঠামোগত ও গভীর রুচি-বিকৃতির প্রতিফলন। এটি বলে দেয় যে, সমাজ নারীর মানবিক সত্তাকে অস্বীকার করে এখনও তাকে কেবল একটি অবজেক্ট বা উপকরণ হিসেবে দেখছে। যখনই জনপরিসরে এমন অশ্লীল ভাষার ব্যবহার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তখন নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পিছিয়ে যেতে শুরু করে। নিজের নিরাপত্তা ও সম্মানের কথা ভেবে মেধাবী ও সাহসী নারীরা অনেক সময় গঠনমূলক আলোচনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ভাষার এই আগ্রাসন একধরনের ‘সাইলেন্সিং মেকানিজম’ বা কণ্ঠরোধের প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে, যা গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
যে ভাষায় নারী অপমানিত, সেই ভাষায় পুরুষও প্রকৃতপক্ষে মুক্ত নয়। কারণ, ভাষার ব্যবহার যেমন সমাজের আয়না, তেমনই সমাজে নারীর অবস্থানও ভাষার আয়না। তাই, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শুধু ভাষা আন্দোলন নয়, এটি একটি নারীর অধিকার আন্দোলনও বটে।
পণ্ডিতদের নৈতিক পতন: অশ্লীলতার পৃষ্ঠপোষকতা
আতঙ্কের আরেকটি দিক হলো—এই অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যখন কেউ প্রতিবাদ করে, তখন অনেক ‘গুণী’ মানুষ তাকে পুরোনো মানসিকতার, রক্ষণশীল বা ‘ভাষা-দারোগা’ আখ্যা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ পর্যন্ত এই নোংরা গড্ডলিকা প্রবাহে নিজেদের শামিল করছেন। তারা বলছেন, ‘ভাষা তো বদলায়’, কিংবা ‘এটি যুবসমাজের অভিব্যক্তি’। এটি যুক্তিহীন তর্ক বৈ কিছু নয়।
একজন অধ্যাপক, সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের দায় রয়েছে সমাজকে শুদ্ধ পথ দেখানোর। কিন্তু তারা যখন অশ্লীলতাকে ‘প্রতিবাদের সাহস’ বলে হাততালি দেন, তখন তারা সমাজের নৈতিক প্রাচীরকে ক্ষতবিক্ষত করেন। একজন জ্ঞানী মানুষ যখন অসভ্যতাকে সমর্থন দেন, তখন তার নীরবতা যেমন অপরাধ, তার উৎসাহ তো আরও বড় অপরাধ। কারণ, তিনি নেতৃত্বের আসন থেকে ‘অশ্লীলতা বৈধ’—এই বার্তা দিচ্ছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মকে আরও গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেবে।
সভ্য কাঠামোর পতন প্রতিরোধ
ভাষা যখন অশ্লীল হয়, চিন্তা তখন অশ্লীল হয়। চিন্তা যখন অশ্লীল হয়, কর্ম তখন অশ্লীল হয়। আর কর্ম যখন অশ্লীল হয়—সমাজে তখন শালীনতা, বিনয়, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা—সভ্যতার এই সব স্তম্ভ ধুঁকতে থাকে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আশঙ্কা হয়—একদিন দেখা যাবে, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের কথা বলার নম্রভঙ্গি বদলে যাবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে শ্রদ্ধা থাকবে না এবং নারী-পুরুষের কথোপকথনে সীমালঙ্ঘন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এটি কোনো ভীতির গল্প নয়; এটি বাস্তব। আজকের দেয়ালে লেখা সেই অশ্লীল বুলিই আগামীকালের সমাজের আয়না হয়ে দাঁড়াবে।
সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভাষার অবক্ষয় এবং অশ্লীলতার প্রসারকে সভ্যতার অভ্যন্তরীণ পচনের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। ভাষার শালীনতা হারানো মানেই যুক্তিনির্ভর সামাজিক আলোচনার পরিসর কমে আসা। যখন একটি জাতি তার ভাষার শুদ্ধতা ও মার্জিত রূপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং ভাষায় অশ্লীলতার স্বাভাবিকীকরণ হয়, কিংবা ভাষা যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে সরে গিয়ে কেবল রোষকষায়িত আবেগ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে ওঠে—তখন ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের ঐক্য ও মূল্যবোধের ভিত্তি আলগা হয়ে গেছে, যা নির্দেশ করে যে, সেই সমাজের ‘সাংস্কৃতিক মানদণ্ড’ (Cultural Standards) ভেঙে পড়ছে, যা চূড়ান্ত পতনের পথ প্রশস্ত করে।
ফিরে আসতে হবে মর্যাদাপূর্ণ বাংলায়
অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা অসভ্যতার চরম পরিচায়ক। যারা অশ্লীল স্লোগান দেয় বা সমর্থন করে, তাদের মুখের সেই কদর্য শব্দগুলো তারা নিশ্চয়ই তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন বা সন্তানের মুখে শুনতে চান না। যদি নাই চান, তবে আজই তাদেরকে থামতে হবে।
যে অসভ্যতা আমাদের ভাষা ও সমাজের বুননকে শাঁখের করাতের মতো কেটে ফেলছে—তার সত্যতাকে স্বীকার করে এর বিপক্ষে সকলে মিলে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে হবে। বাংলা ভাষার সভ্য চেহারা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সকলকে ‘নিরপেক্ষতার’ বেড়াজাল ছিঁড়ে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সত্যের বিপক্ষে নিরপেক্ষতা মানেই মিথ্যাকে সহযোগিতা করা। আসুন, বাংলাকে ফিরে পাই তার আসল, সভ্য ও স্নিগ্ধ রূপে—অশ্লীলতার কালিমা মুছে দিয়ে।
নারী বা পুরুষের শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে সমাজ বরাবরই সরব; এখন সময় এসেছে ভাষার শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার।
বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ গবেষক ও লেখক। ই-মেইল: [email protected]