Published : 12 Jul 2026, 08:59 AM
স্পেনের বিপক্ষে পুরোটা ম্যাচ খেলতে না পারার হতাশা তো ছিলই। ম্যাচ শেষে যোগ হয় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষাদ। তবে, বেলজিয়ামকে বিদায় বলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবছেন তিবো কোর্তোয়া। তার আগে একটু বিশ্রামও চাইলেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।
কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে, ম্যাচের ৭১তম মিনিটে কোর্তোয়াকে তুলে নেন বেলজিয়াম কোচ। কিছুটা আঘাতও পেয়েছিলেন তিনি। বেঞ্চে হতাশ মুখে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৩৪ বছর বয়সী এই গোলকিপার বলেছিলেন, জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
বেলজিয়ামের জার্সিতে ২০১১ সালে অভিষেকের পর, ১১৫ ম্যাচ খেলা কোর্তোয়ার সেই ভাবনায় বদল এসেছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তবে, পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য সময় চাইলেন রেয়াল মাদ্রিদের এই গোলকিপার।
“ইতোমধ্যে আমি জানিয়ে দিয়েছি যে, একটা শান্ত বছর কাটাতে চাই আমি। যেখানে আমি সেরে ওঠার দিকে মনোযোগ দিতে, নেশন্স লিগ চলার সময় মাদ্রিদে থাকতে পারি। তখন সানা (লমেন্স), মাইক (প্যান্ডার্স) বা মার্টেন খেলতে পারবে। যদি বেলজিয়াম এটা মেনে নেয়, তাহলে আমি (জাতীয় দলের হয়ে) খেলা চালিয়ে যেতে রাজি।”
হাঁটুর হালকা ব্যথায় ভোগা কোর্তোয়াকে স্পেন ম্যাচে তুলে লমেন্সকে নামান গাহসিয়া। ৮৮তম মিনিটে এই গোলকিপারেরই ভুলেই বেলজিয়াম গোল হজম করে, যা বেঞ্চে বসে দেখেন কোর্তোয়া। কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ আড়াল করলেন না তিনি।
“এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচে মাঠ ছাড়া দুঃখজনক। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ভালো অনুভব করছিলাম এবং কিছু সেভও করেছিলাম। এমন মুহূর্তে আপনি মাঠেই থাকতে চাইবেন।
“কিন্তু আমি দুটো গোল কিক নিলাম, দ্বিতীয়টি নেওয়ার সময় ঊরুর সামনের অংশে ব্যথা অনুভব করলাম। এটা তাদের (কোচ ও কোচিং স্টাফদের) জানিয়ে দিই যে, আমি লম্বা গোল কিকগুলো নিতে পারব না।”
পরের পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে, আবারও উষ্মা প্রকাশ করেন এই গোলকিপার।
“আমি পোস্টে থাকতে পারতাম, কিন্তু কোচ বললেন, ‘যদি তুমি শতভাগ ফিট না থাকো, তাহলে তোমাকে তুলে নিব’। এ কারণে, আমি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোচ আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাক, এটা কোনো সমস্যা নয়, দলই সবার আগে।”
কোর্তোয়ার জায়গায় নেমে, ভুল করে গোল হজমের জন্য সমালোচনার পড়েছেন লমেন্স। ২৪ বছর বয়সী সতীর্থের প্রতি সমবেদনাও জানালেন কোর্তোয়া।
“অবশ্যই এটা দুঃখজনক যে, লমেন্স বলটা ধরে রাখতে পারেনি। কিন্তু এটাই ফুটবল। আমি তাকে আলিঙ্গনে নিতে এগিয়ে গিয়েছিলাম। এরকম মুহূর্তে আসলে বেশি কিছু বলার থাকে না।
“এটা স্রেফ দুর্ভাগ্য। সে চমৎকার একজন গোলকিপার। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং এই ধরনের মুহূর্তগুলো একজন গোলকিপারকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এজন্য তাকে দোষ দেওয়া উচিত নয়, এটা খেলারই অংশ।”
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম।