১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

২০২২ সালের ২৩ অগাস্ট হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গৃহবধূকে হত্যা করা হয় বলে জানান পিপি।

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা শেষে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2026, 04:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা মামলায় তার স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া।

মো. লালন মোল্লা (৫৪) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি স্থানীয় একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করতেন।

মামলার বরাতে পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারের একটি ছেলে থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। 

তিনি বলেন, “বিয়ের পর থেকেই লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন। কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

“২০২২ সালের অগাস্টে লালন আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করেন। এর মধ্যে ওই বছরের ২৩ অগাস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে লালন হাতুড়ি দিয়ে সাজেদার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করেন।”

পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সাজেদের ছোট বোন মাজেদা বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লালনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানান পিপি গোলাম রব্বানী। 

মামলার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার এসআই জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বলে জানান তিনি।

১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।

পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাজেদার স্বজনরা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।