Published : 13 Jul 2026, 04:25 PM
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ।
সোমবার ঢাকার কাতার দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষরের পর এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাতারের আমির, রাজপরিবার এবং ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করবে।
সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল সোমবার গুলশানে কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তার শোকবার্তায় শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে কাতার সরকার, রাজপরিবার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশ কাতারে সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
কাতারের আমিরের দপ্তর রোববার এক বিবৃতিতে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুর খবর জানায়। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তার সময়ে জ্বালানি সমৃদ্ধ কাতারের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানীকারক দেশে পরিণত হয় কাতার।
তিনি আমির থাকাকালে ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা টেলিভিশন স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। আল জাজিরা এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম।
তার সময়েই কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার নির্বাচনও তার সময়েই শুরু হয়। এই নির্বাচনে নারীদের ভোট দেওয়ার ও তাদের প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
২০১৩ সালে ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে আমিরের দায়িত্ব তুলে দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি।