Published : 12 Jul 2026, 01:42 PM
রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিতে রাজউক যে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ প্রণয়ন করেছে, তার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের দুই সচিব ও রাজউক চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হবে বলে এ নোটিসে বলা হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে জনস্বার্থে এই নোটিস পাঠান।
নোটিসে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্যাপ প্রণয়ন করে। কিন্তু এই মাস্টারপ্ল্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতা ও বিলম্বের কারণে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাশাপাশি সবুজায়ন রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জোনিং আইন না মানার কারণে জনস্বার্থ ও নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।
আইনি নোটিস পাঠানোর বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারের এই বিষয়ে বর্তমান অবস্থান কী, তা জানতে একটি তাগিদ দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
“বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা জানতেই মূলত এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে হাই কোর্টে রিট করে রুল চাওয়া হবে।”
কর্তৃপক্ষের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন, “ড্যাপে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছোট ছোট আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও স্থবির হয়ে আছে।”
সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, “পরিকল্পিত ঢাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এত শুনানি ও কর্মশালা করা হলো, ঢাকাকে একটি সেন্ট্রাল পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা বলা হলো— কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? নোটিসে বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
“সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারে না, মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জনগণকে তো বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ড্যাপ যদি ঠিকঠাক বাস্তবায়ন হতো, তবে তা জনদুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হতো।”
সমন্বিত নগর পরিকল্পনার তাগিদ দিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “কেবল শাহবাগ বা তেজগাঁওকে বিচ্ছিন্নভাবে রক্ষা করলে হবে না, পুরো ঢাকার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
“আজ বৃষ্টি, কাল ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্যাপের প্রস্তাবনাগুলো কাজে লাগানো উচিত। এই পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।”
বিগত সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, “জনমুখী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো কোনো নির্দিষ্ট সরকারের নয়, এগুলো জনগণের টাকায় করা। আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতি হয়ে থাকলে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
“কিন্তু অসমাপ্ত জনকল্যাণমূলক ও দৃশ্যমান ইতিবাচক কাজগুলো বর্তমান সরকারেরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।”
ড্যাপ বাস্তবায়নের দায় প্রসঙ্গে এ আইনজীবী বলেন, “ড্যাপ বাস্তবায়নের মূল দায় রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের।
“পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে, কারণ তারা এসব প্রকল্পে অর্থায়ন ও তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
২০২২ সালের ২৪ অগাস্ট নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিছু জায়গায় ছাড় দিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ড্যাপ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোরও সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।
সম্প্রতি এ পরিকল্পনাও সংশোধনের দাবি তুলেছেন আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা।