Published : 12 Jul 2026, 06:08 PM
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন গোসাইরহাট থানার ওসি বোরহান উদ্দিন।
আটক বিএম জসিম উপজেলার আলাউলপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে রেইনকোট, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন বিএম জসিম।
এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ আহত হন।
এ সময় অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে প্রতিহত করে আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন।
পরে বিএম জসিমকে আটকে রেখে গোসাইরহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
আহত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিমের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক ও জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। এরই জের ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে মুখ ঢেকে আমার কার্যালয়ে এসে কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছেন।
“সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে না এলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে আমি থানায় রয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে অসংলগ্ন উত্তর দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সকালে টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।
ভিডিওতে এ শিক্ষক দাবি করেন, তিনি কুড়াল আনেন নি, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। বরং কেউ একজন কোপ দিচ্ছিল তখন তিনি কুড়ালটি ধরে ফেলেন।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, “আমরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”