Published : 14 Jul 2026, 11:10 AM
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে বছর সাতেক আগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে মার্কিন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল কোর্টে তাকে সোপর্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা।
মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মাথাপিছু ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশিদের ব্রাজিল ও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতেন। তাকে ব্রাজিলের সাউ পাওলো রাজ্যে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করেন এফবিআই এজেন্টরা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ব্রাজিল পুলিশ গত ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় মামুনকে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। তার বিরুদ্ধে টেক্সাসের আদালতে মানবপাচারের বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাইফুল্লাহ আল-মামুন দোষী সাব্যস্ত হলে তার ৫ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মামুন যে বাংলাদেশি পাচার চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ, তার হোতা হিসেবে আগে গ্রেপ্তার হওয়া মুক্তার হোসেন ও মিলন হোসেনকে ৪৬ মাস করে দণ্ড দিয়েছে টেক্সাসের ফেডারেল কোর্ট। তারা দোষ স্বীকার করায় সাজা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কৌঁসুলি।
মামুনের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের ব্রাজিলের সাউ পাওলোর ক্যাম্পে রাখা হতো। তাদেরকে সুবিধাজনক সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকোর তাপাচুলায় স্থাপিত ক্যাম্পে নিতেন মামুনের লোকজন।
এরপর বাংলাদেশি যুবকদের যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত লাগোয়া মেক্সিকোর মন্তেররেই-তে পাঠানো হতো। তারপর সীমান্ত বরাবর রিও গ্রান্দে নদী সাঁতরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হতো।
পাচার পথটির শেষ প্রান্ত মেক্সিকোতে মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারাই মামুনের হদিস দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তাদের। সেই অনুযায়ী মামুনকে ব্রাজিলের পাউ সাওলো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তাদের মধ্যে ৪১৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে, আর তাদের ৩৬০ জনই পেয়েছেন গুরুদণ্ড।
আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার জন্য মাঠে রয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগের ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’। মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সীমান্তরক্ষীদের কাছে ধরা দিয়ে যেসব বাংলাদেশি ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ চেয়েছেন, তাদের বড় অংশের কাছ থেকে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন জেটিএফএ সদস্যরা।
তার ভিত্তিতেই মোক্তার, মামুন ও মিলনকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। সংঘবদ্ধ এ চক্রের আরো কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যাদের কেউ কেউ ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।