Published : 13 Jul 2026, 06:37 PM
গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের প্রথম দুই পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন সেমিফাইনালে গড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই একটা প্রশ্নের উত্তরই শুধু খুঁজছিলাম: কেন এই বিশ্বকাপের কেন্দ্রীয় স্লোগান ‘উই আর ২৬’? কেন ২০১৮ সালে তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো তাদের যৌথ বিডের ভিশন হিসেবে ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’-কে নির্বাচন করে? ২০২৩ সালে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেমন বিশ্বকাপের লোগো ও ব্র্যান্ডিং উন্মোচন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ‘উই আর ২৬’ কে ‘ঐক্যের ডাক’ (র্যালিং ক্রাই) হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, “এটি এমন এক মুহূর্ত, যখন তিনটি দেশ এবং একটি পুরো মহাদেশ একসঙ্গে বলে উই আর ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান টু ওয়েলকাম দ্য ওয়ার্ল্ড” (ফিফা ওয়েবসাইট, ১৮ মে ২০২৩)। তাহলে বিশ্বকাপের এই স্লোগান ‘উই আর ২৬’ বা বিডের ভিশন ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ আসলে কী? এটা কি বিশ্বের জন্য যৌথতার বার্তা, নাকি উত্তর আমেরিকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণের একটি সুনির্মিত ও সুসংগঠিত ন্যারেটিভ?
২০১৭: ন্যারেটিভ নির্মাণের শুরু
২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওই সময় ‘ইউনাইটেড বিড’ নামে এই প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়। এই বিড আসলে কেবল আয়োজক হওয়ার প্রচারণা ছিল না; বরং শুরু থেকেই এটা একটা নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ নির্মাণের প্রয়াসই ছিল। এরপর ‘ইউনাইটেড বিড’ নামেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো ২০১৮ সালের জুনে রাশিয়ার মস্কোয় ফিফা কংগ্রেসে ১৩৪-৬৫ ভোটে জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়।
তাদের উপস্থাপিত বিডের নথিতে দেখা যায়, এটার তিনটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো: নিশ্চয়তা (সার্টেনিটি), সুযোগ (অপরচুনিটি) এবং ঐক্য (ইউনিটি)। এই তিনটা কনসেপ্টের মাধ্যমে তারা মোটাদাগে যেটা বোঝাতে চেয়েছিলেন, সেটা হলো: উত্তর আমেরিকায় তৈরি থাকা অবকাঠামোগত সুবিধা, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের জন্য যথার্থ পরিবেশ এবং তিন দেশের একত্রিত সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগের একটা চিত্র। তাহলে সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে কেন শুধু ঐক্যকে এত গুরুত্ব দেওয়া হলো?
আপাতদৃষ্টে ঐক্যকে কেবল একটা ইতিবাচক শব্দ হিসেবে মনে হলেও বিষয়টা মোটেও তেমন ছিল না। তৎকালীন সময়ে উত্তর আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটেও শান্ত ছিল না। সীমান্ত, অভিবাসন ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। তৎকালীন ওই অস্থিতিশীল সময়ে তারা ফুটবলকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে পুরো বিশ্বকে দেখাতে চাইল, রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও খেলার মাঠে তারা সবসময়ই যৌথ। পরবর্তী সময়ে ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ বিড ভিশনের ভাষা হিসেবে থেকে যায়, আর টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল স্লোগান হয়ে ওঠে ‘উই আর ২৬’।
এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিংবা প্রায় সময়ই মিডিয়া কাভারেজে উঠে আসা ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ কিংবা ‘উই আর ২৬’ বার্তাটাকে সরলভাবে, বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বললেই চলে।
মঞ্চে যা দেখা গেল এবং যা দেখা গেল না
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য হিসেবে জামাইকান-বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের কালচারাল থিওরিস্ট স্টুয়ার্ট হলের রেপ্রিজেন্টেশন তত্ত্বটি পড়া ছিল। বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী মঞ্চের উপাদানগুলো দেখে মনে হলো এ যেন হলের ওই রেপ্রিজেন্টেশন তত্ত্বের বাস্তব উদাহরণ! হল আসলে কী বলেছিলেন:
প্রথমত, রেপ্রিজেন্টেশন কোনো বাস্তবতাকে হুবহু প্রতিফলিত করে না; বরং ভাষা, প্রতীক, ছবি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংকেতের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অর্থ নির্মাণ করে (হল, স্টুয়ার্ট, রেপ্রিজেন্টেশন, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা ২৪, ৩৫)।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবতার অসংখ্য উপাদানের মধ্য থেকে কিছু বিষয় সচেতনভাবে নির্বাচন করা হয়, তারপর ওই নির্বাচিত উপাদানগুলোকে প্রতীক, সংগীত, নৃত্য, রং ও দৃশ্যের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অর্থে নির্মাণ করা হয় (হল, স্টুয়ার্ট, রেপ্রিজেন্টেশন, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা ৩৪, ৪৬)।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে আমরা কী দেখলাম? তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর লোকসংস্কৃতি, কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন শিল্পের এক যৌথ উপস্থাপনা। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা তিন দেশের যৌথ আয়োজকের বার্তা একই মঞ্চে তুলে ধরে। আবার কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেবকেও গান পরিবেশনে দেখা গেছে। গান পরিবেশনের সময় সঞ্জয়ের গায়ের জ্যাকেটের এক হাতায় ছিল সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের নকশা, জাতীয় ফুল শাপলা এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার উপাদান। এটাকে কি নিতান্তই বিনোদনকেন্দ্রিক উপস্থাপনা বলা যায়? প্রকৃতপক্ষে এগুলো সব মিলে অডিয়েন্সকে আসলে একটাই বার্তা দিতে চাওয়া হয়েছে, সেটা হলো: বৈচিত্র্য থাকলেও উত্তর আমেরিকা সহযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকেই প্রতিনিধিত্ব করে।
এবার দেখা যাক, মঞ্চে কী কী আড়াল করা হলো? কারণ হলের তত্ত্ব অনুসারে, মঞ্চে যা দেখানো হয়নি, তাও এই উপস্থাপনার একটা অংশ। উত্তর আমেরিকায় চলমান অভিবাসন বিতর্ক, একাধিক দেশের ভক্তদের ভিসা প্রত্যাখ্যান কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান প্রভৃতি বিষয়গুলো মঞ্চের জন্য নির্বাচিত বিষয়ের বাইরেই থেকে গেছে।
অর্থাৎ বলা যায়, এটা এমন একটি মঞ্চ, যেখানে আয়োজকেরা নির্বাচিত কিছু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উপাদানের সমন্বয়ে একটি কাঙ্ক্ষিত পরিচয় নির্মাণ করেন। এরপর সেগুলোকেই নির্দিষ্ট একটা কাঠামোতে গুছিয়ে ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ ধারণার অর্থ তৈরি করেন।
ফিফার ঐক্যের বাজারদর কত?
বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকদের টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বকাপ দেখাতে ফিফার থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে সরকার সরকার। এই বাবদ ফিফাকে দিতে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। আবার মাঠে বসে কিছু বিশেষ সিটে বসে একজন দর্শক ফাইনাল খেলা দেখতে চাইলে তাকে খরচ করতে হবে ২৮ কোটি টাকারও বেশি! মাত্র একটা খেলা দেখার জন্য এই খরচকে ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো স্বাভাবিক বলেছেন। তিনি এটাকে আমেরিকার এনবিএ (বাস্কেটবল)-এর ফাইনালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই তুলনা আসলে যথার্থ কি না তা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের খেলা চলাকালীন মাঠের খালি আসনগুলোই বলে দেয়।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাট, ১০৪টি ম্যাচ এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজন—এসবই হলো ‘ঐক্য’কে পণ্য বানানোর একটা সুসংগঠিত পরিকল্পনা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এটা গত ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি (কালবেলা, ০৯ জুন ২০২৬)।
অন্যদিকে ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সখ্য, ফিফার নিজস্ব ‘শান্তি পুরস্কার’ তৈরি করে ট্রাম্পকে দেওয়া, ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার অফিস স্থাপন এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগনের লাল কার্ড বাতিলে ট্রাম্পের সরাসরি ফোন—প্রতিটি ঘটনাই এটা প্রমাণ করে যে, ক্রীড়া আর রাজনীতি কোনোভাবেই আলাদা কিছু নয়; বরং একটা আরেকটার সহযোগী।

এখন প্রশ্ন, ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ কিংবা ‘উই আর ২৬’—এটা কি সত্যিই ঐক্যের ডাক? নাকি এটা বিশ্বকাপ নামক পণ্যকে সর্বোচ্চ বিক্রয় করার প্রত্যাশায় সেটাকে আকর্ষণীয় করার মূল বৈশিষ্ট্য? তাহলে এই ঐক্যের মোট বাজারদর কত?
অভিন্ন বৈশ্বিক ব্র্যান্ড যেন ঐক্যের আরেক ভাষা
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামের নামটা মোটামুটি প্রায় সবারই জানা। ১৯৮৬ সালে এই মাঠেই দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত, বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি হয়েছিল। শুধু এটাই নয়, এই মাঠেই ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলাও অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬-এর বিশ্বকাপের আগে স্টেডিয়ামটির সংস্কারের জন্য মেক্সিকোর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বানোর্তে ২.১ বিলিয়ন মেক্সিকান পেসো ঋণ প্রদান করে (কানো, নাতালিয়া। এস্তাদিও আজতেকা চেঞ্জেস নেম টু এস্তাদিও বানোর্তে ইন প্রিপারেশন ফর ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ। বিলবোর্ড, ১৪ মার্চ ২০২৫)। চুক্তির অংশ হিসেবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বানোর্তে স্টেডিয়াম’।
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই আমরা আবারও এই নাম পরিবর্তন হতে দেখি। ফিফার স্পনসরশিপ নীতি অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে অফিশিয়াল স্পনসর নয় এমন কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম ভেন্যুতে ব্যবহার করা যায় না। তাই বিশ্বকাপ চলাকালে ‘বানোর্তে স্টেডিয়াম’ হয়ে যায় ‘মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম’।
এটা নিতান্তই একটা নাম পরিবর্তনের ঘটনা মাত্র নয়। প্রকৃতপক্ষে এটা ফিফার বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং কৌশলেরও অংশ বটে। যেমনটা তিনটি দেশকে ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ কনসেপ্টের মাধ্যমে একটা অভিন্ন পরিচয় তৈরি করা হয়েছে, একইভাবে ১৬টি আয়োজক শহরের ভেন্যুগুলোকেও একটি একরূপ ব্র্যান্ডিং কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
এই অভিন্ন ব্র্যান্ডিং শুধু স্টেডিয়ামের নামেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বকাপের ভিজ্যুয়াল পরিচয়েও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ‘উই আর ২৬’ লোগোতে ২০২৬ সালের ‘২৬’ সংখ্যাটি ৪৮টি জ্যামিতিক ইউনিট দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এটা বিশ্বকাপের ৪৮ দলের একধরনের প্রতীকই বলা যায়। আবার একই মূল লোগোকে কেন্দ্র করে ১৬টি আয়োজক শহরের জন্য আলাদা রং, নকশা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত করার জন্য উন্মুক্তও রেখেছে। অর্থাৎ, বৈচিত্র্য থাকলেও কেন্দ্র কিন্তু একটাই!
ঐক্য আসলে কোথায়?
তাহলে ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ অথবা ‘উই আর ২৬’ কী? ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনোর ‘ঐক্যের ডাক’ কি সত্যিই যৌথতার ডাক? হ্যাঁ, যথার্থই এটা একটা যৌথতার ডাক, কিন্তু এই ডাকের কেন্দ্র একটাই। এজন্য এখানে প্রধানতম প্রশ্নটি হলো, এই ঐক্যের ডাক আসলে কার?
আমরা দেখেছি, উদ্বোধনী মঞ্চ তিনটি হলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে একটাই, আমরা সবাই এক। কিন্তু এখানেও যৌথতা ছিল নির্বাচিত। ২০১৮ সালে উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়েও ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়া কিংবা অভিবাসীদের আতঙ্ক প্রভৃতিকে আড়ালে রেখে দিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে আমরা সবাই এক। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খেলা এনবিএর কাঠামোতে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটের মূল্য, যার ফলে স্টেডিয়ামে বসে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কিন্তু আমরা জানি আমরা সবাই এক! তিনটি দেশ একসঙ্গে, কিন্তু ৭৫ শতাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে, ফাইনালও যুক্তরাষ্ট্রে! ফিফার নিজস্ব স্পনসর না হওয়ার জন্য স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু আমরা এখনও এক!
এগুলো কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসব একসঙ্গে মিলিয়ে পড়লেই বোঝা যায়, এই ঐক্য আসলে কী এবং এই ঐক্য কার ডাক? যৌথতার এই ডাক একইসঙ্গে তিনটি কাজ করছে। এক, সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যের একটা চিত্র তৈরি করেছে। দুই, ব্র্যান্ড হিসেবে একটা অভিন্ন বৈশ্বিক পরিচয় নির্মাণ করেছে। তিন, বিশ্বকাপের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, যাতে স্পনসর, সম্প্রচারকারী ও পর্যটকের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে, এই ঐক্য আসলে উত্তর আমেরিকার একটা সুসংগঠিত ন্যারেটিভ। এই ন্যারেটিভের অধীনে সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য—প্রতিটা সেক্টরকে ঐক্যে থাকতে স্বাগত জানানো হচ্ছে। যদিও এটারও শর্ত আছে! এখানে কোন বার্তা সামনে আসবে, কোন নাম ব্যবহার করবে, কোন চিত্র, প্রতীক ব্যবহার করা হবে প্রভৃতি হলো ফিফার নিয়ন্ত্রণাধীন। মাত্র আর কিছুদিন পরই নতুন এক চ্যাম্পিয়ন পাবে বিশ্ব। বিশ্বকাপের এই আসরও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ‘ইউনাইটেড অ্যাজ ওয়ান’ কিংবা ‘উই আর ২৬’ আমাদের কাছে প্রমাণ হয়ে থাকবে, যে কোনো খেলার আসর আসলে নিতান্তই শুধু খেলাই নয়; বরং এগুলো প্রতিটাই এমন একটা যোগাযোগকাঠামো যেখানে সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং ক্ষমতার গল্পও সমান গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত ও প্রচারিত হয়।
জান্নাতুল রুহী সাংবাদিক ও লেখক। ইমেইল: [email protected]