১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক স্কুলের ৫৩ শিক্ষার্থীর ৫২ জনই বৃত্তি পেল

নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2026, 07:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৩ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫২ জনই বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। 

রোববার ঘোষিত এ ফলাফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরাও আনন্দিত।  

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা হক বলেন, “বিদ্যালয়ের সেরা ফলাফলে আমরা উচ্ছ্বসিত। এই সাফল্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ করে প্রস্তুতিমূলক ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় তত্ত্বাবধানের কারণে এমন ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “তারা ভবিষ্যৎ জীবনে আরো ভালো করবে। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমরাও কাজ করে যাব।” 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের মোট ৯৬৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৪২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৫৪৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। 

ফলাফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এগিয়ে রয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭৬৩ জন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৪২৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। 

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। 

নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত তাসনিম যরিনের মা কলেজ শিক্ষিকা ফরিদা খাতুন বলেন, “অনেক ভালো লাগছে। আসলে ২০২৫ সালের প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা এত দীর্ঘমেয়াদী ছিল যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যাক, শেষ পর্যন্ত সরকারের সদিচ্ছায় পরীক্ষাটা হয়েছে। সন্তানের ভালো ফলাফল পেয়েছি।”  

একই স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আকিবুজ্জামান আয়ানের মা সেলিনা খাতুন বলেন, “আমার ছেলে ট্যালেন্টপুলে পায়নি, তবে সাধারণে পেয়েছে। আমরা এতেই খুব খুশি।”  

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ইন্তেখাব ই আলম কাশ্মীরের বাবা মোহাম্মদ শামসুল আলম বলে, “ছেলের সাফল্যের পিছনে আমার পরিবারের পাশাপাশি মডেল স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনেক। শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে আমাদের সন্তানদের পড়ালেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছেন। এজন্য আমি শিক্ষকদের কাছে বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক লতিফা ম্যাডামের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার ছেলের জন্য আমি দোয়া চাই।” 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এবারের ফলাফলে জেলার মধ্যে নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।” 

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল জেলার ১২টি কেন্দ্রে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় নিবন্ধিত আট হাজার ২৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৩৮ জন অংশ নেয়। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৬০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৫০ টাকা হারে সরকারি বৃত্তি ও বিশেষ মেধা সনদ পাবে।