Published : 22 Jul 2026, 07:58 PM
বিশ্বজুড়ে এখন প্রতিবছর প্রায় ১০২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হচ্ছে এমন একটি ‘পণ্যে’, যা দুই দশক আগেও ছিল স্রেফ কারখানার চিমনি দিয়ে বিনামূল্যে বাতাসে উড়ে যাওয়া বর্জ্য গ্যাস—কার্বন ডাই-অক্সাইড। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে সেই বর্জ্যই এখন মহামূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক এই বিশাল বাজারে এবার আনুষ্ঠানিক খাতা খুলেছে বাংলাদেশ। গত নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০ (COP30) সম্মেলনে ঘোষণা আসে—বাংলাদেশ তার প্রথম আন্তর্জাতিক কার্বন লেনদেন (ITMO) সম্পন্ন করেছে। এই অর্জন নিঃসন্দেহে দেশের পরিবেশ কূটনীতিতে একটি বড় মাইলফলক; তবে করতালির আড়ালে কিছু অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। এই লেনদেনটি প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর কোন ধারার অধীনে হলো? এর ক্রেতা কে, কোন প্রকল্প থেকে কত দামে কত টন কার্বন বিক্রি হলো? আর সবচেয়ে বড় কথা—বিক্রি হওয়া এই কার্বনের পরিমাণ আমাদের নিজস্ব ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান’ (NDC) বা জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। অথচ এই উত্তরগুলোর ওপরেই নির্ভর করছে কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক আশীর্বাদ হবে, নাকি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক দায়ে পরিণত হবে।
এই প্রশ্নের গভীরতা বুঝতে হলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে কার্বনের বাজার আসলে কীভাবে কাজ করে। সহজ কথায়, কার্বন ক্রেডিট হলো একটি সনদ, যা প্রমাণ করে যে বায়ুমণ্ডল থেকে এক টন সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো, অপসারণ বা প্রতিরোধ করা হয়েছে। এই কেনাবেচা মূলত দুটি বাজারে হয়। একটি হলো কমপ্লায়েন্স মার্কেট, যেখানে সরকার-নির্ধারিত সীমার বেশি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট কিনতে হয়। অন্যটি ভলান্টারি মার্কেট, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব বা 'কার্বন-নিরপেক্ষ' প্রমাণ করতে স্বেচ্ছায় ক্রেডিট কেনে। ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির 'আর্টিকেল ৬'-এর মাধ্যমে এই বাজার আজ প্রায় ৯৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিশাল বৈশ্বিক বাজারের অংশীদার হতে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা (NDC 3.0) পূরণে প্রয়োজন প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে আসা অসম্ভব; ফলে অর্থায়নের এই ঘাটতি মেটানো জরুরি। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক নিঃসরণে মাত্র ০.৪৮ শতাংশ দায়ী হয়েও বাংলাদেশ জলবায়ুর অন্যতম প্রধান শিকার—তাই এখানে আমাদের একটি নৈতিক ও আর্থিক অধিকার রয়েছে। তৃতীয়ত, এই বাজারে বাংলাদেশের সফলতার অতীত অভিজ্ঞতাও আছে। ২০০৬ সাল থেকে ইডকল (IDCOL) সৌরগৃহ ও উন্নত চুলা প্রকল্প থেকে ২৫ লাখ ৩০ হাজার ক্রেডিট বিক্রি করে ১৬.২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। এই সাফল্যের ওপর ভর করেই সরকার এখন ম্যানগ্রোভ বনায়ন, ধানখেতে মিথেন গ্যাস হ্রাস এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে।
তবে এই উচ্চাভিলাষকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে প্যারিস চুক্তির 'আর্টিকেল ৬'-এর জটিল গোলকধাঁধাটি আমাদের ভালো করে বুঝতে হবে। এই অনুচ্ছেদের দুটি ভিন্ন পথ রয়েছে—৬.২ ধারা (দ্বিপাক্ষিক পথ) এবং ৬.৪ ধারা (জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীভূত পথ)। প্রথমটি সহজ ও দ্রুত হলেও বিরোধ নিষ্পত্তির জায়গা নেই, আর দ্বিতীয়টি ধীরগতির হলেও সনদের দাম ও গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বাংলাদেশ আসলে কোন পথে হাঁটবে, সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো পরিষ্কার নয়। এর চেয়েও বড় যে ভয়ংকর অর্থনৈতিক ফাঁদ এখানে ওত পেতে আছে, তার নাম ‘কর্রেসপন্ডিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা সমতুল্য সমন্বয়। নিয়ম অনুযায়ী, এক টন কার্বন ক্রেডিট আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে দিলে তা আর নিজের দেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হিসাবে দেখানো যায় না; তা যোগ হয় ক্রেতা দেশের খাতায়। এখানে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো—বাংলাদেশ যদি এখন সস্তা ও সহজলভ্য প্রকল্পগুলো (যেমন: সৌরবিদ্যুৎ বা উন্নত চুলা) থেকে উৎপাদিত কার্বন ক্রেডিট আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে দেয়, তবে ২০৩০ সালের দিকে গিয়ে যখন আমাদের নিজেদের ওপর কার্বন নিঃসরণ কমানোর কঠিন আন্তর্জাতিক চাপ আসবে, তখন দেশের হাতে আর কোনো সহজ বিকল্প থাকবে না। চিলির মতো দেশ তাই অতিরিক্ত বিক্রি ঠেকাতে আর্টিকেল ৬-এর আওতায় 'যোগ্য কার্যক্রমের একটি তালিকা' তৈরি করে দিয়েছে—যেখানে সস্তা ও সহজ প্রকল্পের ক্রেডিট নিজেদের এনডিসি অর্জনের জন্য রেখে দিয়ে কেবল উচ্চ প্রবেশ-বাধা বা কম ব্যয়সাশ্রয়ী প্রকল্পের ক্রেডিটই আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনও অনুপস্থিত।
এই ধরনের কৌশলগত দূরদর্শিতার অভাব যে কতটা চড়া মূল্য ডেকে আনতে পারে, তার প্রমাণ বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাসেই রয়েছে। ২০১৩ সালে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ 'জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজম' (JCM) চুক্তি করেছিল, যা ছিল আজকের ৬.২ ধারারই পূর্বসূরি। অথচ গত এক দশকে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ যেখানে ডজন ডজন জেসিএম প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, বাংলাদেশ সেখানে প্রায় শূন্য হাতে বসে ছিল। কারণ শুধু আন্তর্জাতিক চুক্তি সই করলেই হয় না; ঘরের ভেতর সুনির্দিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া, কারিগরি দক্ষতা এবং কার্বন স্বত্বের স্পষ্ট আইন না থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হতে বাধ্য। বিপরীতে, ঘানা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার লেনদেনে ঘানা সরকার প্রতিটি ক্রেডিটের বিপরীতে আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র বা 'লেটার অব অথরাইজেশন' ইস্যু করে জালিয়াতির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কেনিয়ার 'মিকোকো পাম্বোজা' প্রকল্পে ম্যানগ্রোভ বনায়ন থেকে অর্জিত আয়ের সম্পূর্ণ অংশ স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে সরাসরি এলাকার স্কুল, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হচ্ছে, যা সারা বিশ্বের জন্য একটি অনন্য মডেল।
কেনিয়ার এই সফল কায়দাটি কিন্তু বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রেও অনায়াসে কাজে লাগানো সম্ভব, কারণ আমাদের রয়েছে এক বিপুল 'ব্লু কার্বন' বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা। উপকূলের ম্যানগ্রোভ, লবণাক্ত জলাভূমি ও সামুদ্রিক তৃণভূমি সাধারণ বনের চেয়ে ৪ থেকে ১০ গুণ বেশি কার্বন মাটির নিচে হাজার বছর ধরে ধরে রাখতে পারে। সুন্দরবনের বাইরেও আমাদের দেশে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর ব্লু কার্বন-উপযোগী ভূমি রয়েছে এবং শুধু সুন্দরবনেই যে পরিমাণ কার্বন মজুত আছে, বর্তমান বাজারমূল্যে তা ১৮৮ বিলিয়ন টাকারও বেশি। সেশেলস বা বেলিজের মতো দেশগুলো সমুদ্র রক্ষার শর্তে শত শত মিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠন বা 'ব্লু বন্ড' ছাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় দিক। তবে এই বাজারে ঢুকতে গেলে তিনটি কঠিন কারিগরি পরীক্ষা পাস করতে হবে—অ্যাডিশনালিটি (প্রকল্পের কারণে আসলেই বাড়তি কার্বন কমছে কি না), বেসলাইন (প্রকল্প না থাকলে প্রাকৃতিকভাবে কতটুকু দূষণ হতো তার হিসাব) এবং লিকেজ (এক এলাকায় বনায়ন করে অন্য এলাকায় গাছ কাটা বেড়ে যাওয়ার ফাঁকি বন্ধ করা)। এই জটিল গাণিতিক ও উপগ্রহভিত্তিক হিসাব-নিকাশ করার মতো দক্ষ কারিগরি জনবল আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি।
কারিগরি এই জটিলতার চেয়েও গভীর এবং স্পর্শকাতর যে প্রশ্নটি এ মুহূর্তে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে, তা হলো—এই কার্বনের প্রকৃত মালিক আসলে কে? বাংলাদেশের আইনে 'কার্বন' সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা, যার সুনির্দিষ্ট কোনো মালিকানা-কাঠামো নেই। ফলে প্রথাগতভাবে এই স্বত্ব চলে যায় ভূমির মালিক বা ব্যবস্থাপকের কাছে। কিন্তু উপকূলের যেসব নতুন চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সম্ভব, সেগুলো মূলত অস্থায়ী ও খাস জমি। নদীভাঙন আর জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের ভিড়ে এই জমির মালিকানা সব সময়ই বিরোধপূর্ণ। সুন্দরবনের মালিকানা বন অধিদপ্তরের হলেও শত বছর ধরে সেখানে মাছ বা গোলপাতা সংগ্রহকারী বাওয়ালি ও জেলেদের প্রথাগত অধিকারকে কখনোই আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ভূমিহীন প্রান্তিক মানুষগুলোর এই দলিলবিহীন বাস্তবতায় যদি কার্বনের বাজার উন্মুক্ত হয়, তবে ক্ষমতার জোরে এই বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সাধারণ মানুষের হাত থেকে ফসকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো তাই কার্বন-অধিকারকে জমির মালিকানা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি 'নিবন্ধনযোগ্য অধিকার' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যেন জমির দলিল যার নামেই থাক, বনায়নে যুক্ত থাকা প্রান্তিক পরিবারটি তার ন্যায্য লভ্যাংশ আইনগতভাবেই পেয়ে যায়।
মালিকানার এই আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশকে বিশ্বমানের প্রযুক্তির দিকেও নজর দিতে হবে। মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টরা এখন উপগ্রহচিত্র, ড্রোনের জরিপ এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাইকৃত উচ্চমানের কার্বন ক্রেডিটের পেছনে বিলিয়ন ডলার অগ্রিম বিনিয়োগ করছে। সাধারণ কার্বন ক্রেডিট যেখানে টনপ্রতি মাত্র ৪-৫ ডলারে বিক্রি হয়, সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি (MRV) দ্বারা প্রমাণিত উন্নত মানের ক্রেডিটের দাম ৩০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত ওঠে। বাংলাদেশ যদি শুরুতেই একটি শক্তিশালী 'জাতীয় ডিজিটাল এমআরভি প্ল্যাটফর্ম' তৈরি করতে না পারে, তবে আমাদের চিরকাল সস্তা ও নিম্নমানের বাজারেই আটকে থাকতে হবে।
তবে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি এই সমস্ত প্রস্তুতি তখনই সফল হবে, যখন দেশের ভেতরে একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি, ভূমি, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্রেডা—সবারই কার্বন বাণিজ্যের ওপর কোনো না কোনো দাবি বা এক্তিয়ার রয়েছে। এই বহুমুখী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা না গেলে বড় কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। ভারত এই বাজার সামলাতে তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে একক কেন্দ্রীয় প্রশাসক বানিয়েছে; ইন্দোনেশিয়া দায়িত্ব দিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে আর ব্রাজিল গড়েছে একটি স্বতন্ত্র জাতীয় কার্বন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশকেও অবিলম্বে এমন একটি একক ও শক্তিশালী প্রশাসনিক মডেল বেছে নিতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈশ্বিক কার্বন-বাজারের এই নতুন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে যেমন বিশাল অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি এনে দিয়েছে এক কঠিন প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা। বিলিয়ন ডলারের এই অদৃশ্য বাণিজ্য কেবল সদিচ্ছা বা সম্ভাবনার ওপর ভর করে চলে না; এর আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে নিখুঁত চুক্তি, অভেদ্য আইনি দলিল আর আন্তর্জাতিক সালিসের সক্ষমতায়। এনডিসি সমন্বয়, কারিগরি আধিক্য প্রমাণ, ডিজিটাল এমআরভি প্ল্যাটফর্ম, কার্বন-অধিকারের আইনি সংজ্ঞা, রাজস্ব বণ্টন নীতি এবং একটি একক কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ—এই ছয়টি স্তম্ভের ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক বছর পর বিশ্বমঞ্চে আমরা চালকের আসনে বসব, নাকি অন্যদের চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হব। প্রথম আন্তর্জাতিক লেনদেনটি আমাদের কেবল যাত্রার সূচনা করেছে; কিন্তু এই অদৃশ্য গ্যাসের বাণিজ্যকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে সবার আগে এর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিটিকে দৃশ্যমান ও নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।
বিকাশ চন্দ্র ঘোষ সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল: [email protected]