১২০ টাকায় কীভাবে সংসার চলে, প্রশ্ন চা শ্রমিকের

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন চা শ্রমিকরা।

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 August 2022, 04:34 PM
Updated : 13 August 2022, 05:24 PM

পাতা তোলার ভর মৌসুমে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে সাময়িক কর্মবিরতির পর এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গিয়েছেন লাখো চা শ্রমিক; এতে বাগান অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে সিলেট ভ্যালির ২৩টি, হবিগঞ্জের ২৪টি এবং মৌলভীবাজারের ৯২টি বাগানসহ মোট ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিক একযোগে এ ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বাগানের বিভিন্ন সেকশনে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিকরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে ৯ অগাস্ট থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছিলেন তারা। কর্মবিরতি শেষে দিনের বাকি সময়ে তারা কাজে ফিরেছিলেন।

তবে দাবি না মানলে বাগান ‘অচল’ করে দেওয়ার হুমকি তখনি দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। এর মধ্যে শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাননি শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গেলেন তারা।

আন্দোলনের প্রতিটি ধাপেই যুক্ত ছিলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচান চা বাগানের শ্রমিক সরস্বতী বাউরি। পঁচিশোর্ধ্ব এই নারীর স্বামী, দুই ছেলে ও মাকে নিয়ে পাঁচজনের সংসার। বাবা অবুজ কুমার বাউরি মারা গেছেন তিন বছর আগে। তখন থেকে তিনিই সংসারের হাল ধরেছেন।

সরস্বতী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি আয় করলে আমার পাঁচজনের মুখে খাবার পড়ে। বাগানে প্রায় এগারশ শ্রমিক আছে আমার মতো। সবারই তো একই অবস্থা। ১২০ টাকা মজুরি পাই।”

“এখনকার বাজারে কীভাবে চলে সংসার? নিজে খাই বা না খাই দুইটা শিশু আর বুড়া মাকে তো খাবার দিতে হয়। জিনিসের যে দাম তাতে ১২০ টাকার আয়ে চলে না, পারি না।”

সরস্বতীর বড় মেয়ে তৃষা বাউরি সাত বছরের; সে স্কুলে যায়। তারও একটা খরচ আছে। ছোট ছেলে অপূর্ব বাউরি তিন বছরের। সে স্কুলে না গেলে অসুখ-বিসুখ আছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগই পান না বলেও জানান সরস্বতী।

তবে বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা হলেও চা বাগানের শ্রমিকরা আরও অন্যান্য সুবিধা পান। প্রতি সপ্তাহে দুই টাকা কেজি দরে তাদের আটা দেওয়া হয়, চা দেওয়া হয়, বাগানের জায়গায় থাকতে পারে। এসব মিলিয়ে তাদের দৈনিক বেতন সাড়ে ৩০০ টাকার বেশি আসে।

বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, গত ১০ বছর ধরে চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু ১০ বছরে চা শ্রমিকদের বেতন কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

যেকোনো শ্রমিকের প্রাতিষ্ঠানিক মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার করার ক্ষেত্রে শ্রম অধিদপ্তর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে থাকে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে কেউ কোনো লিখিত দেয়নি। তবে আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং চা শ্রমিক আন্দোলনের নেতাদেরও নির্দেশনা দিয়েছি।”

ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে দরিদ্র মানুষদের এনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টিলাভূমিতে চা বাগানের সূচনা করা হয়। সীমাহীন দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে এসব শ্রমিককে সেখানে কাজ করতে হতো। বাজারে প্রচলিত মুদ্রাও তখন তাদের কপালে জুটত না। বাগানে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের বিশেষ মুদ্রা পেতেন শ্রমিকরা। এতে তারা বাগানের বাইরে যেতে পারতেন না; বাগানেই তাদের জীবন কাটাতে হতো।

শতাব্দী পেরিয়ে এসে সেই নির্মমতা হয়তো এখন নেই। কিন্তু বঞ্চণার মধ্যেই বাঁচতে হয় বলে অভিযোগ করেন উত্তরাধিকার সূত্রে কাজ পাওয়া চা শ্রমিকরা।

স্বাধীনতার পর এক টাকা দুই আনা মজুরি পেত শ্রমিকরা। পরে সেটা বেড়ে দৈনিক পাঁচ টাকা হয়। এভাবে মজুরি বাড়তে বাড়তে এখন দৈনিক ১২০ টাকা হয়েছে। দুই পূজায় বোনাসও মিলে। কিছু অধিকারও হয়তো পেয়েছে শ্রমিকরা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করলে তাতে সংসার চালানেই দায় বলে জানান শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক নেতা পংকজ কন্দ বলেন, “বর্তমান সময়ে বাজারে ভোজ্য তেলের লিটার কত, চালের কেজি কত, ডালের কেজি কত? নগদ তো মাত্র ১২০ টাকা। বাসস্থান, শিক্ষা, স্যানিটেশন সব বাদ দিলেও একজন শ্রমিক নগদ অর্থ কিন্তু ওই ১২০ টাকাই পান।

“তার পরিবারে কয়জন সদস্য? এই একজনের মাথার ওপরে রয়েছেন চার থেকে সাতজন। এই টাকা দিয়ে সংসার পরিচালনা তো অবিশ্বাস্য। আপনি কি পারবেন? কেউ পারবে না। এই কারণে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে চা শ্রমিকরা।”

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশীয় চা সংসদের আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, রেশন, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও বোনাসসহ ন্যায্যমজুরি নিশ্চিত করবে বাগান মালিক।

মজুরি বাড়ানোর জন্য প্রতি দুই বছর পর পর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উভয়ের আলোচনায় ঐক্যমতের পর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তীতে দুই বছর শ্রমিকরা বেতন-ভাতাসহ অনান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন।

চা শ্রমিকদের সঙ্গে সবশেষ দ্বি-বার্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এর পর পরই বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশীয় চা সংসদের কাছে ২০ দফা দাবিনামায় ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি দাবি করেন। এ নিয়ে দফায় দফায় এ পর্যন্ত ১৩টি বৈঠকও হয় দুই পক্ষের মধ্যে। কিন্তু দাবির বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছর পর পর মজুরি বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও মালিকরা চুক্তির আইন ভঙ্গ করছেন। ২০ মাস আগে মজুরি বাড়লে শ্রমিক পরিবারগুলো কিছুটা স্বাচ্ছন্দে সংসার পরিচালনা করতে পারতেন।

“দাবি না মানা হলে দেশের সব বাগান একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শ্রমিকরা রাজপথে এসে দাঁড়াবে। বৃহৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রমিকরা।”

শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা বলেন, “আমরা এখন আলোচনায় মজুরিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। বাগান কর্তৃপক্ষ বোনাস কিছুটা বাড়িয়েছে। আগে বোনাস দেওয়া হতো ৪৭ দিনের মজুরির সমান। এখন দেওয়া হবে ৫২ দিনের। অর্থাৎ পাঁচ দিনের হাজিরার সমান অর্থ মূল বোনাসের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

“বেতনের ক্ষেত্রে তারা বাড়িয়েছে ১৪ টাকা। আগে ছিলো ১২০ টাকা এখন বাড়িয়ে হয়েছে ১৩৪ টাকা। যা মানসম্মত নয়; এটা দিয়ে একটি শ্রমিক পরিবার চলতে পারে না।”

শ্রমিক নেতারা জানান, বাগানে নানা শ্রেণির শ্রমিক রয়েছে। কিছু শ্রমিক স্থায়ী। স্থায়ী শ্রমিকদের তিনটি ক্যাটাগরি। ‘এ’ ক্যাটাগরির শ্রমিকরাই ১২০ টাকা দৈনিক বেতন পান। ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির শ্রমিকদের বেতন আরও কম।

আর প্রতিটি বাগানে স্থায়ী শ্রমিকের অর্ধেক অস্থায়ী শ্রমিক থাকেন। তাদের বেতন আরও অনেক কম। তাদের জন্য নেই উৎসব ভাতা ও রেশন।

উৎসব ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বুনার্জী বলেন, এটি ৪৭ দিনের মজুরির সমান। যার টাকার পরিমাণ পাঁচ হাজার ২৪০ টাকা। এর ৬০ ভাগ দেওয়া হয় দুর্গাপূজায় এবং ৪০ ভাগ দেওয়া হয় ফাগুয়া উৎসবে।

“এ ছাড়া সপ্তাহে প্রতিটি শ্রমিককে একবার দেওয়া হয় দুই টাকা কেজি দরে সাড়ে তিন কেজি আটা।”

এই টাকা থেকেই আবার নিজেদের ভবিষ্যৎ তহবিলে বেতনের সাড়ে সাত ভাগ রাখতে হয় জানিয়ে রাজেন্দ্র বলেন, চা শ্রমিক ইউনিয়নে শ্রমিক চাঁদা দিতে হয় মাসে আরও ১৫ টাকা। দিতে হয় নিজের বিদ্যুৎ বিলও। তারপর আর কী থাকে বলেন?

ষাটোর্ধ্ব এই শ্রমিক নেতা আরও জানান, একসময় তো মাসিক পাঁচ টাকা মজুরি ছিল। সেটা পয়সার দেওয়া হতো। সেই টাকা আবার বাইরে চলতো না। স্বাধীনতার পর নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল এক টাকা এক আনা আর পুরুষ শ্রমিকের ছিল এক টাকা দুই আনা।

“পরে বিভিন্ন সময়ে বেড়ে হয় আট টাকা, ১২ টাকা, ১৮ টাকা, ২০ টাকা, ২২ টাকা, ২৪ টাকা। ২০০৮ সালে এসে হয় ৩২ টাকা। ২০০৯ সালে এসে হয় ৪৮ টাকা। আর ২০১৭ সালে হয় ১০২ টাকা এবং সবশেষ ২০২০ সালে তা দাঁড়ায় ১২০ টাকা।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শ্রমিক তার মাসের হিসাব দিয়ে বলেন, মাসে বেতন পাই ৩৬০০ টাকা। আটা দিয়ে এক বেলা চললেও রাতের বেলা ভাত খেতে হয়। বর্তমান বাজারে চালের কেজি ৫০ টাকার উপরে। একটি পরিবারে দৈনিক দেড় কেজি চাল কিনলে এতেই চলে যায় মাসে ২২০০ টাকার উপরে। বাকি থাকে ১৪০০ টাকা। দৈনিক ৫০ টাকারও কম।

“এই টাকা দিয়ে সবজি, মাছ, তেল, লবণ, ডাল, সাবান, চিকিৎসা ব্যয়, পোশাক, প্রসাধনী, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ সবই করতে হয়। বিষয় যেকোনো মানুষের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও এটাই বাস্তবতা।”

নিজেদের দৈনিক খাবার নিয়েই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলছিলেন শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া ডিভিশনের খাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক জোৎস্না পাইনকা।

তিনি বলেন, তাদের খাদ্যে থাকে সকালে ও দুপুরে রুটি, রাতে ভাত। ভাতের সঙ্গে চানার ডাল, আলু ভাজি বা অন্যকিছু সবজি।

“প্রতি বুধবার হাজরী (মজুরি) পাওয়ার পর ছোট মাছ কিনেন। কেউ কেনেন শুকনো মাছ। ওইদিন বাগানে খোলা বাজার বসে। সেখানে মাছও উঠে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

ঠিক কতদিন আগে মাংস খেয়েছেন তা তার মনে করতে পারেননি জোৎস্না।

ভুড়বুড়িয়া চা বাগানে মুনমুন পাইনকা বলেন, “আমরা মাংস পূজার সময় একদিন খাই। ওই সময় বাগান কর্তৃপক্ষ কিছু বোনাস দেয়। এ থেকেই মাংস খাই।”

ভাড়াউড়া ডিভিশনের খাইছড়া চা বাগানের কুন্তি ভূঁইয়া বলেন, সকালে পরিবারের সবার জন্য রুটি তৈরি করেন। আর নিজেরটা নিয়ে সেকশনে চলে আসেন। যাদের ঘরে ছোট বাচ্চা আছে তাদের জন্য ভাত রান্না করে রেখে আসতে হয়।

“বেশিরভাগ সময়ই চানার ডাল খেয়ে থাকি। যারা নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত অল্প জায়গার মধ্যেই শাকসবজি চাষ করেন, তারা সেটা বাড়তি পান।”

কাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক রামপ্রসাদ বারই বলেন, “এখন সরকারি কিছু অনুদান ও বেতন কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াতে শ্রমিকরা কোনো রকমে ক্ষুধা নিবারণ করলেও একটা সময় প্রতিদিনকার একবারের খাবার ছিল, ভাতের ফেন এবং কচু সেদ্ধ।”

চা শ্রমিক জানান, তাদের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য খুবই কম থাকে। তাদের প্রতিদিনকার খাদ্যে রয়েছে সকালবেলা রুটি আর চা বা আলু ভাজি; দুপুরে রুটির সঙ্গে আলু সেদ্ধ, পেঁয়াজ ও কচি চা পাতার মিশ্রণে ভর্তা এবং ঠাণ্ডা চা। রাতে ভাত। ভাতের সঙ্গে চানার ডাল বা অন্যকিছু।

চা শ্রমিকদের আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চ চেয়াম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, “সমঝোতা চুক্তির মধ্যে কর্মবিরতি ও আন্দোলনে যাওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। এরই মধ্যে শ্রমিকদের বিষয়গুলো নিয়ে ১৩টি বৈঠক হয়েছে। ফলপ্রসূ আলোচনাও হয়েছে।

“তাদের বোনাস বৃদ্ধি, গামছা ও টুকরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। বর্ধিত মজুরিরও একটি প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছি। এই শিল্পকে তো টিকিয়ে রাখতে হবে। গত ১০ বছর ধরে চা পাতার মূল্য বাড়েনি। কিন্তু ১০ বছরে চা শ্রমিকদের বেতন কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দুই টাকা কেজি দরে শ্রমিকদের সপ্তাহে একবার আটা দেওয়া হয়। বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা সবকিছুই আমরা দিচ্ছি। এই হিসাব করলে তাদের দৈনিক মজুরি দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩০০ টাকা।”

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি না হলে তারা শ্রম দপ্তরে লিখিতভাবে জানাবে। শ্রম দপ্তর তা আমলে নিয়ে ১০ কর্মদিবস থেকে ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে তা সমাধানের ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে মালিক-শ্রমিক কোন পক্ষই তাদের অবগত করেননি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক