কেএনএফের কার্যক্রম যতদিন, অভিযানও ততদিন: বিজিবি মহাপরিচালক
বান্দরবানের থানচি ও রুমার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা সোমবার পরিদর্শন করেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
কেএনএফের ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ যতদিন থাকবে ততদিন যৌথ বাহিনীর অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা ব্যাংক ডাকাতির মতো দুঃসাহসিকতা দেখিয়ে পার পাবে না। অত্র এলাকার সাধারণ বম জনগোষ্ঠীরাও তাদের সমর্থন করেন না।”
সোমবার বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিকাল ৪টায় রুমায় ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সরেজমিনে অভিযান দেখতে আসার কথা জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, “সরকারের আদেশে সেনাবাহিনীর অধীনে বিভিন্ন বাহিনী মিলে কুকি-চিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। থানচি বলিপাড়া ৩৮ বিজিবি ও রুমা ৯ ব্যাটালিয়ান বিজিবি সক্রিয়ভাবে এ যৌথ অভিযানে অংশগ্রহণ করছে।”
এ অভিযানে উৎসাহ ও পরামর্শ দিতে তিনি এ সফরে এসেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “থানচি বলি পাড়ায় নতুন একটি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অপারেশন এবং সীমান্তের ওপারে যাতে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এর আগে দুপুরে সেখানে পৌঁছার পর বিজিবি মহাপরিচালক অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। বিজিবি বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের অধীনে স্পটহাইট টিওবি, থানচি বিওপি এবং থানচি বাজার পোস্ট পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সকল পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় বান্দরবান ৬৯ ব্রিগেড কমান্ডার মেহেদি হাসান, কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, বান্দরবান বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সোহেল আহমেদ এবং রুমা ৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল হকসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২ এপ্রিল রুমার সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে অর্থ লুট করে একদল সশস্ত্র লোকজন। সেই সময় পুলিশের ১০টি এবং আনসার সদস্যের চারটি অস্ত্রও লুট করে নিয়ে যায় তারা। অপহরণ করা হয় ব্যাংকটির ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে। ঘটনার দুদিন পর রুমার একটা পাহাড়ি এলাকা থেকে ছাড়া পান তিনি।
রুমার ঘটনার এক দিন পর ৩ এপ্রিল থানচির সোনালী ও কৃষি ব্যাংকেও অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে।
দুটি ঘটনায় পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ জড়িত বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-অর্থ উদ্ধার, জড়িতদের বিরুদ্ধে রুমা ও থানচিতে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর এ অভিযান সমন্বয় করছে সেনাবাহিনী।
যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রুমা থানায় পাঁচটি ও থানচি থানায় চারটি মামলায় ২৪ নারীসহ ৮৬ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
