দুই দিনে ৩ ব্যাংকে ডাকাতি: পাহাড়ে ফের ‘বম পার্টি’ আতঙ্ক

পর পর দুই দিন শতাধিক সশস্ত্র লোক নিয়ে বিনা প্রতিরোধে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের মনে।

ফজলে এলাহীউসিথোয়াই মারমা. সমীর মল্লিকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 07:30 PM
Updated : 3 April 2024, 07:30 PM

এক সশস্ত্র সংগঠনের আবির্ভাব এবং দুই বছর ধরে একের পর এক হত্যা-সহিংসতার ঘটনায় যে আতঙ্কের জন্ম হয়েছিল, সেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘শান্তি আলোচনা’ শুরুর পর তা থেকে মুক্তির আশা জাগতে শুরু করেছিল পাহাড়ের মানুষের মনে।

কিন্তু ১৬ ঘণ্টায় বান্দরবানের তিনটি ব্যাংক শাখায় হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় উবে গেছে সেই আশা; সেই সংগঠনের নাম ফের আতঙ্ক হয়ে ঘিরে ধরেছে পাহাড়কে।

মঙ্গল ও বুধবার দুপুরে বান্দরবানের রুমা এবং থানচি উপজেলার কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা চালায় সশস্ত্র লোকজন। তারা টাকা লুট করে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে, একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। লুট করে বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি। 

রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা-ডাকাতি এবং ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে অপহরণের ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে প্রথম ভাগে ঘটলেও; থানচিতে কৃষি ও সোনালী ব্যাংকে হামলা হয়েছে ভরদুপুরে।

দুটি ঘটনাতেই পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ এর নাম এসেছে; যারা পাহাড়ে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিত।

এ ঘটনার পর ভয় ছড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য তিন জেলার ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জড়িত সবার মধ্যে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানে প্রতিটি ব্যাংকই তাদের শাখাকে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  

‘বম পার্টি’র শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংক শাখায় একযোগে হামলা চালায়। ব্যাংকের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা রক্ষীসহ অন্তত ২০ জনকে তারা মারধর করে। পরে শাখার ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এখনও তার খোঁজ মেলেনি। 

হামলাকারীরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের আটটি চাইনিজ রাইফেল, দুইটি এসএমজি এবং ৩৮০টি গুলি লুটে নিয়ে যায়। এ ছাড়া আনসারদের চারটি শটগান ও ৩৪টি গুলি লুট করে।

১৬ ঘণ্টার মাথায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলায় হয় দ্বিতীয় হামলা। বুধবার দুপুরের আগে আগে তিনটি গাড়িতে করে এসে সশস্ত্র লোকজন উপজেলা সদরে কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে হামলা চালায়। কৃষি ব্যাংক থেকে দুই লাখ ৮ হাজার টাকা এবং সোনালী ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা লুট করে নেয় তারা।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল করিম ধারণা করছেন, দুটি ঘটনাই একই গোষ্ঠীর কাজ। একই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। 

‘পুলিশ দিয়ে প্রতিরোধ কঠিন’

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ২৪টি শাখার দায়িত্বে আছেন দেশের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের পার্বত্য অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। এ দুটি ঘটনার পর ব্যাংক কর্মকর্তারা যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন, সে কথা বললেন তিনি। পাশাপাশি বেশি দুর্গম এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ শাখাগুলো নিয়ে তার দুঃশ্চিন্তাও আছে। 

তিনি বলেন, “বান্দরবানে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই আতঙ্ক ও ভয়ের। আমাদের ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই ঘটনার খুবই প্রভাব পড়েছে। আমরাও সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশনা দিয়েছি প্রত্যেক শাখাকে।

“প্রতিটি শাখাই নিকটবর্তী থানায় নিরাপত্তার আবেদন করার পর পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছে, টহল দিচ্ছে। আমরা আমাদের প্রিন্সিপাল অফিস থেকে একটি মনিটরিং টিম করেছি পুরো বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে।”

তবে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সোনালী ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমার মনে হয় এদের পুলিশ দিয়ে প্রতিরোধ কঠিন, এখানে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ ভূমিকা প্রয়োজন।”

রাঙামাটি জেলার বান্দরবান সীমান্তবর্তী রাজস্থলী, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ব্যাংকের শাখাগুলোকে সবচে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সাইফুর রহমান।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে রাজস্থলী উপজেলার ব্যাংকগুলো।

সোনালী ব্যাংক রাজস্থলী শাখার ব্যবস্থাপক ক্য সুই চিং মারমা বলেন, “এমন ঘটনায় ভয় পাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এত বড় একটি ঘটনার পর ভয় না পেলে কী চলে, বলেন? আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাজস্থলীর থানার সহায়তা চেয়েছি। ব্যাংকে বাড়তি পুলিশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবুও ভয় তো কাজ করছেই।”

বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতির প্রেক্ষাপটে খাগড়াছড়ির সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, “অলরেডি বিভিন্ন ব্যাংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। ‘কোর কমিটি’র মিটিংয়েও ব্যাংকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে।”

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সমীর কান্তি চাকমা বলেন, “আজকে ব্যাংকের ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে।”

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে সেটা বান্দরবানের ইতিহাসে আর কখনও ঘটেনি। এরই মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, এপিবিএনের পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভয় ও আতঙ্ক কাজ করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে।”

বেশি টাকা না রাখার নির্দেশ

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ ব্যাংকসহ আর্থিকখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে জেলায় যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে তার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকে বাড়তি পুলিশ নিয়োজিত করার পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর আমরা ‘সিকিউরিটি ডিক্লেয়ার’ করেছি।”

পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সব গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ করেছি, দুর্গম এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলোতে আপাতত বাড়তি লিকুইড মানি (টাকা) না রাখতে।”

রাঙামাটি জেলায় কেএনএফের কার্যক্রম আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশের প্রধান বলেন, “আপনারা জানেন যে, গত বছর বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম বড়থলি এলাকায় একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর খোঁজ পাওয়ার পর যৌথবাহিনী তাদের আস্তানা তছনছ করে। সেখানে তাদের সঙ্গে কেএনএফের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র জানা যায়। এ ছাড়া অন্য কোথাও এমন কোনো তথ্য এখনো নেই। তবু আমরা সবকিছুই আমাদের বিবেচনায় রাখছি, সতর্ক থাকছি।”

ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের খাগড়াছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক সারোয়ার আলী খান বলেন, “সকাল ৭টায় আমাদের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেহেতু জেলা শহরে আছি তাই নিরাপত্তা নিয়ে তেমন শঙ্কা করছি না। কিন্তু সর্তক আছি। নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

“আজ থেকে দুইজন গানম্যান দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সংকট আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে।”

ডাচ বাংলা ব্যাংকের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. নুরুউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “সকাল থেকে একাধিকবার পুলিশ সদস্যরা ব্যাংক পরিদর্শন করেছেন। সরকারিভাবেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংকট নেই। এ ছাড়া ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।”

সন্ধ্যার পর ফাঁকা থানচি-রুমা

পাহাড়ে নববর্ষ ও ঈদের আগে দিনে-দুপুরে অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ব্যাংক ডাকাতির পর থেকে বান্দরবানের থানচির রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা, ওষুধ আর খাবারের মত জরুরি পণ্যের দোকান ছাড়া বেশিরভাগ দোকানেই ঝুলছে তালা।

প্রায় একই অবস্থা রুমা উপজেলা সদরেও। মূল শহরের অধিকাংশ দোকানপাট দিনের বেলাতে বন্ধ দেখা গেলেও মোড়ের কিছু কিছু দোকানে মানুষের জটলা রয়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, লোকজনের চলাচলও কম।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। 

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলছিলেন, “আগে স্বাভাবিক সময়ে উপজেলার বাইরে থেকেও মানুষজন রুমা বাজারে আসতেন বাজার-সদাই করার জন্য। এখন আর কেউ আসছে না। উপজেলার সদরের লোকজনই বাজারে আসছেন। তাও প্রয়োজন না হলে বের হচ্ছেন না। ফলে রাস্তায় লোকজন কম।

“আর সন্ধ্যার পর কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। কারণ, রাস্তায় গেলেই দুষ্কৃতকারীরা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে।”

থানচি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো বলেন, “দুপুরের ঘটনার পর আজকে আমরা ওষুধ ও খাবার দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। কালকে সকালে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”

থানচি বাজার ও বাস স্টেশন এলাকা মিলে প্রায় ২৫০ দোকান আছে বলে জানান তিনি।

পর পর দুই দিন শতাধিক সশস্ত্র লোক নিয়ে বিনা প্রতিরোধে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের মনে।

কেএনএফ বা ‘বম পার্টি’ কারা

২০২২ সালের শুরুর দিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামে একটি সশস্ত্র সংগঠনের কথা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রোদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও সেখানে বম জনোগষ্ঠীর কিছু সংখ্যক লোকজন রয়েছে। যার কারণে সংগঠনটি পাহাড়ে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়।

কেএনএফের ফেইসবুক পেইজে তারা জানায়, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাইছড়ি বিলাইছড়ি ও বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদমসহ নয়টি উপজেলা নিয়ে ‘কুকি-চিন রাজ্য’ হিসেবে গঠন করা হবে।

পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আতঙ্কে সেই সময় ভারতের মিজোরামে পালিয়ে আশ্রয় নেয় পাঁচ শতাধিক বম নারী-পুরুষ।

সশস্ত্র সংগঠনটি অর্থের বিনিময়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে ২০২২ সালে অক্টোবর মাসে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে জানায় র‌্যাব।

এরপর ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে জঙ্গি ও কেএনএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার অভিযান চালায় র‌্যাব ও সেনা সদস্যের যৌথ বাহিনী। পরবর্তীতে এ অভিযান চালানো হয় থানচি উপজেলাতেও। এরই মধ্যে অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হয়েছে সেনাবাহিনীর বেশ কিছু সদস্যও। সংঘাতে প্রাণ গেছে কেএএনএফ সদস্যেরও।

তবে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ৬ এপ্রিল রাতে। সেদিন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার খামতাং পাড়া থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া গেলেও পরে জানা যায়, তারা সবাই বম সম্প্রদায়ের।

সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি

কেএনএফের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের পর ২০২৩ সালের ৩০ মে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের জুলাই ও অগাস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ও কেএনএফের মধ্যে দুইবার ভার্চুয়াল আলোচনা হয়।

একই বছরের ৫ নভেম্বর রুমা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মুনলাই পাড়ায় প্রথমবারের মত কেএনএফের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সরাসরি দুটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে প্রথমবারের মত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শুরুর পর পাহাড়ে ‘বম পার্টি’র সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করছিলেন পাহাড়িরা। বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই আবার ব্যাংকে হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা জুরি মং মারমা বুধবার বিকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, দুই উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় কেএনএফ জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিআরবি জব্দ করা আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন:

Also Read: রুমায় ব্যাংক ডাকাতি: ‘লড়বি না, লড়লেই গুলি করে দেব’

Also Read: থানচিতে রাস্তাঘাট ফাঁকা, বন্ধ দোকানপাট

Also Read: এবার ভরদুপুরে থানচির দুই ব্যাংকে ডাকাতি

Also Read: ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা: আইজিপি

Also Read: ব্যাংক ম্যানেজার নেজামকে তারাবির নামাজ থেকে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্ররা

Also Read: রুমায় ব্যাংক লুট: সন্ধান মেলেনি ‘অপহৃত’ ব্যবস্থাপকের

Also Read: রুমায় ব্যাংক ডাকাতি, সন্দেহে ‘বম পার্টি’

Also Read: রুমায় ব্যাংকে হামলা, টাকা লুট, ম্যানেজারকে ‘অপহরণ’