Published : 10 Oct 2025, 08:30 PM
মুম্বাইয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর হামলার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন বলিউডি নায়ক সাইফ আলী খান। হামলার রাতে অভিনেতার স্ত্রী কারিনা কাপুর বাড়ি ছিলেন কি না, বড় ছেলে কেন আসেননি, কেন পেছনের দরজা খোলা ছিল, এসব নিয়ে বহুল চর্চিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর সাইফ আগেই দিয়েছেন।
এনডিটিভি বলছে, এবার সাইফ কথা বলেছেন কেন হাসপাতালে ঢোকার সময় এবং অস্ত্রোপচার করে বের হওয়ার সময় হুইলচেয়ার নিতে অস্বীকার করেছিলেন।
প্রাইমের নতুন চ্যাট শো ‘টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কেল’ এর সর্বশেষ পর্বে এসব নিয়ে সাইফ খোলামেলা কথা বলেন।
১৬ জানুয়ারির গভীর রাতে ছুরিকাহতের পর অটোতে চেপে বান্দ্রার লীলাবতী হাসপাতালে গিয়েছিলেন সাইফ। তাকে নিয়ে যান সাত বছরের ছেলে তৈমুর খান। এমনকি হাসপাতালে পৌঁছেও হুইলচেয়ার নিতে অস্বীকার করেন সাইফ।
অভিনেতা বলেন, “আমরা হাসপাতালে ঢুকলাম, জরুরি বিভাগে যেয়ে দেখি সবাই ঘুমাচ্ছিল। আমি একজনকে বললাম, 'আমরা কি স্ট্রেচার পেতে পারি?' সে বলল, 'হুইলচেয়ার?' আমি বললাম, 'না, আমার মনে হয় আমার স্ট্রেচার দরকার।' ওই ব্যক্তি বলল ‘না’। এবং সে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারপর আমি বললাম, 'এই যে শুনুন আমি সাইফ আলি খান’, এটা একটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি’।
“এরপরের ঘটনা সবাই জানে, হট্টগোল শুরু হয়ে গেল।”
সাইফের কাছ থেকে সেদিনের ঘটনা শুনে অভিনেতা অক্ষয় কুমার বলেন, “লড়াইয়ের জন্য তোমাকে অভিনন্দন! তোমার সাহস ছিল। আমি বলতে চাই, তুমি একজন সত্যিকারের নায়ক, অন্তত তোমার সন্তান ও পরিবারের জন্য।”
হামলার পর বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করে সাইফের মেরুদণ্ডের একটি অংশের কাছ থেকে ছুরির ভাঙা টুকরো বের করেছিলেন চিকিৎসকরা। ২১ জানুয়ারি হাসপাতাল ছাড়ার সময় তিনি যখন সোজা হেঁটে বের হন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আদৌ কি তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন?
এ সময় অভিনেত্রী কাজল বলেন যে তিনি সাইফের হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার একটি ভিডিও দেখে অবাক হয়েছিলেন।
ওই ভিডিওতে সাইফ বলেন, “হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে কয়েকজন আমার কাছে এসে পরামর্শ দিয়েছিলেন, বলেছিলেন কীভাবে সেখান থেকে আমার বের হওয়া উচিত। মিডিয়া কৌতূহলী ছিল। কেউ আমার কথা শুনছিল না।
“আমি বললাম, যদি মিডিয়া কৌতূহলী হয়, তাহলে আমাদের এটি মীমাংসা করা উচিত। আমাকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দিন, কারণ আমি হাঁটতে পারি।”
২১ জানুয়ারি হামপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার সময় হুইলচেয়ার বা অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাইফ বলেন, “এখানে (ঘাড়ের দিকে ইঙ্গিত করে) ছুরিকাঘাত করে। সবকিছু ঠিক ছিল। হাসপাতালে সেলাই করে দিল, আর আমি এক সপ্তাহ ওখানে ছিলাম। পিঠ ঠিক ছিল, হাঁটতে ব্যথা হচ্ছিল, কিন্তু আমি হাঁটতে পারছিলাম। হুইলচেয়ারের প্রয়োজন ছিল না।
“তারপরও কেউ কেউ বললেন, তোমার অ্যাম্বুলেন্সে যাওয়া উচিত, কেউ বললেন, তোমার হুইলচেয়ারে যাওয়া উচিত। আমার সিদ্ধান্ত ছিল যে, পরিবার, ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী যে কারো মধ্যে, কেন কোনো ধরনের আতঙ্ক বা উদ্বেগ তৈরি করব? কিন্তু দেখা গেল যে লোকজন বলতে শুরু করল যে এটা ভুয়া, সত্যি নয়।”
টুইঙ্কেল বলেন, পরে তিনি সাইফের মা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
“শর্মিলাজি আমাকে বলেন, তিনি সাইফকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার (শর্মিলা ঠাকুর) কথা হল, যদি ছেলে তার পরামর্শ মেনে নিত, তাহলে এত বিতর্ক হত না।”
বর্তমানে পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে সচেতন হয়েছেন অভিনেতা। সাইফ নিজে এবং পরিবারের সদস্যরা চলাফেরা করছেন নিরাপত্তাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায়।
সাইফের ওপর হামলা: প্রশ্ন অনেক, উত্তরও দিলেন নায়ক
হামলায় সাইফ যে 'শিক্ষা পেয়েছেন'
সুস্থ হয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে সাইফ, যা বললেন
সাইফের নতুন ছবি সোশাল মিডিয়ায়, হামলার তদন্ত শেষের দিকে
সাইফের নতুন ছবি সোশাল মিডিয়ায়, হামলার তদন্ত শেষের দিকে
সাইফকে ছুরিকাঘাত: ভুল করে আটক ব্যক্তির বিয়ে ভেঙেছে, গেছে চাকরিও
সাইফকে ছুরিকাঘাত, শেহজাদের আঙুলের ছাপ 'মিলছে না'
প্রথমে চিনতেই পারিনি উনি সাইফ আলী: অটোরিকশা চালক
সিসিটিভির ব্যক্তি কী সাইফের হামলাকারী? পুলিশের অভিযান জোরদার
সাইফের হামলাকারীকে দেখা গেছে বান্দ্রা স্টেশনে
গভীর রাতে নিজের বাড়িতে ছুরিকাহত বলিউড তারকা সাইফ আলী খান
আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর আইসিউতে সাইফ
আর যদি ২ মিলিমিটার গভীরে ঢুকত ছুরি...
গাড়ি না পেয়ে রক্তাক্ত সাইফকে অটোতে হাসপাতালে নেন ইব্রাহিম