Published : 22 Jul 2026, 09:20 AM
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নোরিন নিয়াজি দাবি করেছেন, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল বড় ধরনের ‘সফল’ অভিযান এবং সেই অভিযানে ‘ব্যর্থতা’ আড়াল করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ‘বিজয়ের গল্প’ তৈরি করেছে।
একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নোরিন নিয়াজি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব যেভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন ছিল না।
তার ভাষ্য, অপারেশন সিঁদুরে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের পরাজয় গোপন করার চেষ্টা করছে।
নিয়াজির এই বক্তব্যের পরপরই পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাকে তলব করেছে।
সংস্থাটির পাঠানো নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, আপত্তিকর ও উসকানিমূলক’ তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন।
নোটিসে বলা হয়, তিনি সামাজিক মাধ্যমে এমন বক্তব্য প্রচার করেছেন, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং ভুয়া বয়ান ছড়াচ্ছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন সিঁদুর’।
ভারত দাবি করে, অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘ন্যায়যুদ্ধ’।
পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের হামলার সফল জবাব দিয়েছে।
কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
Noreen Khan Niazi, sister of former Pakistan prime minister Imran Khan, has described last May’s military confrontation between Pakistan and India as a “staged drama”, alleging that it formed part of a wider effort to persuade Pakistan to recognise Israel. She claimed that Indian… pic.twitter.com/dalVohSAyA
— Murtaza Ali Shah (@MurtazaViews) July 17, 2026
সাক্ষাৎকারে নোরিন নিয়াজি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন, যদিও সেগুলোর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
প্রথমত, তার দাবি, ইসরায়েলকে ঘিরে একটি ‘নীরব সমঝোতার’ কারণে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত আরও বাড়ায়নি।
তার ভাষ্য, পাকিস্তানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাব্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল একগুচ্ছ চুক্তি, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
দ্বিতীয় দাবিতে নোরিন নিয়াজি বলেন, পাকিস্তানের সরকার ও সামরিক বাহিনী যে সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ নাম দিয়েছে, সেটি আরও বড় আকার ধারণ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন।
তার দাবি, পাকিস্তানের নেতৃত্বকে ‘সম্মানজনকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার’ সুযোগ করে দিতেই ট্রাম্প এ উদ্যোগ নেন।
তবে এই দাবির পক্ষেও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
নোরিন নিয়াজির এসব বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।
দলটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের ‘জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি’ এবং দেশের অবস্থানকে দুর্বল করে।