Published : 01 Feb 2025, 10:13 AM
ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে অনেকটা সুস্থ হলেও, ভারতের হিন্দি সিনেমার অভিনেতা সাইফ আলী খানের শীরের ক্ষত পুরোপুরি নিরাময় হয়নি বলে জানিয়েছেন পোশাক শিল্পী বেনস গিল।
সাইফ এবং তার বড় ছেলে ইব্রাহিম আলী খানের সঙ্গে তোলা একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর সাইফের কিছু ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে। তবে গিলের সঙ্গে ছবিতে সরাসরি তাকিয়ে হাসছেন সাইফ।
ইনস্টাগ্রামে গিল ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “খানেদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজনের পর ধরা পড়লাম।”
বান্দ্রায় নিজের বাড়ির বইয়ের আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন সাইফ, পরনে সাদা ঢোলা পাজামা, আর নীল টি-শার্ট, হাতে রোদচশমা এবং ঘাড়ের ডানদিকে লাগানো আছে ব্যান্ডেজ।
ইতিমধ্যে সাইফ ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর আলোকচিত্রীদের অনুরোধ করেছেন তারা যেন তাদের দুই ছেলে তৈমুর আলী খান ও জাহাঙ্গীর আলী খানের ছবি তোলার জন্য আর কোনো রকম অনুরোধ না জানান।
বান্দ্রায় সাইফিনার সৎগুরু শরণ আবাসনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তাদের ফ্ল্যাটের বারান্দা ঘিরে দেওয়া হয়েছে লোহার জালে।
গত ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে শরীরে গভীর ক্ষত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফ বাড়ির কাছে লীলাবতীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
ভর্তির পর সাইফের শরীর ৫ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা বলেছিলেন নায়কের শরীরে ছয়টি ক্ষত ছিল। সেগুলোর মধ্যে মেরুদণ্ডের দুই ক্ষতকে বিপজ্জনক বলেছেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারে সাইফের শরীর মেরুদণ্ডের খুব কাছ থেকে ছুরির আড়াই ইঞ্চির ভাঙা অংশও বের করা হয়।
এর মধ্যে এই হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম শেহজাদকে দুই দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আদালতে তোলা হয়। ওইদিন মুম্বাই পুলিশ আদালতের কাছে শেহজাদের আরও দুইদিনের রিমান্ড আবেদন করে।
আদালত জানিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি ১০ দিন ধরে পুলিশি হেফাজতে থাকায় অতিরিক্ত ২ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন নেই।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য, তথ্য প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে শেহজাদই সাইফের হামলাকারী।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে বলেছেনসাইফের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে।
কদিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাইফ ও কারিনা কাপুরের বাড়ি থেকে হামলাকারীর যে ১৯টি ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে, পুলিশের পরীক্ষায় সেগুলোর সঙ্গে শেহজাদের আঙুলের ছাপের ‘কোনো মিল পাওয়া যায়নি’ বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা।
তবে আঙুলের ছাপ না মেলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে মুম্বাই পুলিশ।
বান্দ্রা পুলিশ স্টেশনে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুম্বাই পশ্চিম অ্যাডিশনাল কমিশনার অব পুলিশ পরমজিত সিং দহিয়া আঙুলের ছাপ না মেলার খবরের দায় গণমাধ্যমের ওপর চাপিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আঙুলে ছাপ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থল থেকে যেসব ফিঙ্গার প্রিন্ট পুলিশ উদ্ধার করেছে, তার আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।”
এছাড়া সাইফের বাড়ির ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া ব্যক্তিই শেহজাদ কী না সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেহজাদের বাবা রুহুল আমিন ফকির বলেছেন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি তার ছেলে শেহজাদ। তবে সিসিটিভির ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে, সেই ছেলে অন্য কেউ, তার ছেলে নন।
আরও পড়ুন
সাইফকে ছুরিকাঘাত: ভুল করে আটক ব্যক্তির বিয়ে ভেঙেছে, গেছে চাকরিও
সাইফকে ছুরিকাঘাত, শেহজাদের আঙুলের ছাপ 'মিলছে না'
প্রথমে চিনতেই পারিনি উনি সাইফ আলী: অটোরিকশা চালক
সিসিটিভির ব্যক্তি কী সাইফের হামলাকারী? পুলিশের অভিযান জোরদার
সাইফের হামলাকারীকে দেখা গেছে বান্দ্রা স্টেশনে
গভীর রাতে নিজের বাড়িতে ছুরিকাহত বলিউড তারকা সাইফ আলী খান
আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর আইসিউতে সাইফ
আর যদি ২ মিলিমিটার গভীরে ঢুকত ছুরি...
গাড়ি না পেয়ে রক্তাক্ত সাইফকে অটোতে হাসপাতালে নেন ইব্রাহিম