Published : 21 Jul 2026, 06:42 PM
ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) অনিয়মের অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিজেপিকে সমর্থন করছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবানা আজমি, এ সময়ের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সোনাক্ষী সিনহা, দিয়া মির্জা, হুমা কুরেশি, সোনু সুদসহ আরও অনেকে।
তাদের ভাষ্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন তিনি।
ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, দিল্লিতে সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি, মুম্বাইয়েও বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ঘটে। এ সময় বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের স্বামী ও রাজনৈতিক কর্মী ফাহাদ আহমেদকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ।
এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পুলিশের ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
স্বরা দাবি করেন, মুম্বাইয়ের দাদারের চৈত্যভূমি এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ফাহাদকে আটক করে।
ওই ভিডিওতে ফাহাদকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে কেন গ্রেপ্তার করছেন?’ স্বরার দাবি, তাকে ও অন্য কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে মাহিম পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে স্বরা অভিযোগ তুলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর মুম্বাই পুলিশ হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক’। সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে শহরের চৈত্যভূমিতে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সিজেপির আন্দোলন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা। ‘সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না’ মন্তব্য করে আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর।
অভিনেত্রী হুমা কুরেশি সিজেপির বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কেন বল প্রয়োগ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া সরকারের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন হুমা।
ইনস্টাগ্রামে হুমা লেখেন, “দৃশ্যগুলো অনেক দিন আমার মনে থাকবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এমন কঠোর শক্তি প্রয়োগ ও লাঠিপেটার ঘটনা দেখে আমি গভীরভাবে দুঃখ পেয়েছি।
“এই পরিস্থিতি আরও বেশি ধৈর্য্য আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আরও বেশি আলোচনার মাধ্যমে সামলানো যেত বলে আমি মনে করি।”
হুমা কুরেশি আরও লেখেন, “আমরা ভারতের জনগণ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছি। তাই আজ আমাদের সবারই প্রশ্ন করার ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করার অধিকার রয়েছে। আমরা একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশ।

“সব বিষয়ে আমাদের সবার মত এক হতে হবে না। তবে আমরা নিশ্চয়ই একমত হতে পারি যে, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার কথা মর্যাদার সঙ্গে শোনা উচিত।”
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর বড় এক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলনে একে একে সংহতি জানাতে আসেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি, অভিনেতা প্রকাশ রাজ, মডেল ও অভিনেত্রী পুনম পাণ্ডে।
শাবানা আজমি ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করছেন। অনশনরত পড়ুয়াদের কাউকে স্নেহের আলিঙ্গন করেছেন, কারও হাতে চুম্বন দিয়ে সাহস জুগিয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি যাতে মানা হয়, কেন্দ্রের কাছে সেই আবেদন করেছেন বার বার।
শাবানা বলেন, মহাত্মা গাঁধীর পথ অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। হিংসা বা অশান্তি তৈরি করা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নয়।
শবানাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন বলিউড থেকে যথেষ্ট পরিমাণে শিল্পীরা এগিয়ে আসছেন না এই আন্দোলনে। তখন অভিনেত্রী পাল্টা মন্তব্য করেন, “এই প্রশ্ন কেন শিল্পপতিদের বা ব্যবসায়ীদের করা হয় না?”
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সোমবার লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ও জলকামান ব্যবহার করে। এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আজমি। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও আন্দোলন ছেড়ে যাননি তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন সোনাক্ষী সিনহা, দিয়া মির্জা, সোনু সুদ, বীর দাস, অদিতি রাও হায়দারি, সুতপা সরকার, নন্দিতা দাস ও দিলজিৎ দোসাঞ্জ। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন তারকা দম্পতি রীতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সিজেপির সমর্থনে চৈত্যভূমিতে জড়ো হওয়া কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের অভিযানে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কতজন আটক বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে দিল্লিতে সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনের সূত্রপাত
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে নামের এক তরুণ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)- নামক ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর এটি একটি বড় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অধিকারকর্মীদের সমর্থন লাভ করে। গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর ৩০ বছর বয়সী দিপকে গত জুনে ভারতে ফিরে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-কে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন শুরু করেছে সিজেপি।
তারা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পালন করেছেন সোমবার
এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসা ৫৯ বছর বয়সী বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তর করে পুলিশ।
হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষা খাতের ব্যর্থতার দায় না নেওয়া পর্যন্ত অথবা সংসদ সদস্যরা এই বিষয়টি সংসদে তোলার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।
অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তিনি বলেছেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস রোখা জাতীয় দায়িত্ব।” অর্থাৎ, তার কথায়, প্রশ্নফাঁস ঠেকানো কেবল সরকারের নয়, গোটা দেশের জাতীয় দায়িত্ব।"