হিউম্যানয়েড রোবট নষ্ট হয়ে গেলে সরাসরি সেখানে গিয়ে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি। ছবি: জিএমও এআইআরও
Published : 18 Sep 2026, 01:26 PM
টোকিওর রাস্তায় যানজট পেরিয়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে যদি ছুটে যেতে দেখেন তবে সেটা হয়ত মানুষের জীবন বাঁচাতে ছুটছে না, বরং নষ্ট হিউম্যানয়েড রোবট সারানোর জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
রোবট সারানো বা প্রয়োজনে বিকল্প রোবট সরবরাহ করতে জাপানে প্রথমবারের মতো বিশেষ এ রক্ষণাবেক্ষণ ভ্যান বা ‘হিউম্যানয়েড অ্যাম্বুলেন্স’ চালু করেছে ‘জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ’, যা এ মাসে টোকিওর রাস্তায় নামবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
হিউম্যানয়েড রোবট নষ্ট হয়ে গেলে সরাসরি সেখানে গিয়ে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ ভ্যানটি।
যেখানে কোনো রোবট কাজ করা বন্ধ করে দিক না কেন অ্যাম্বুলেন্সটি সেখানে ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ, সারানোর টুল ও প্রকৌশলীদের নিয়ে হাজির হবে।
কোনো রোবটকে যদি রাস্তায় তাৎক্ষণিকভাবে সারানো সম্ভব না হয় তবে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা বিকল্প এক হিউম্যানয়েড রোবট সঙ্গে সঙ্গেই সেই নষ্ট রোবটের জায়গায় কাজ করবে।
অন্যদিকে, নষ্ট হয়ে যাওয়া রোবটটিকে টোকিওর শিবুয়ায় অবস্থিত জিএমও-এর হিউম্যানয়েড ল্যাবের সারাই কেন্দ্রে নেওয়া হবে।
আপাতত জিএমও-এর টোকিও সদর দপ্তরে কেবল একটি অ্যাম্বুলেন্সই রাখা হয়েছে। তবে তা যত্রতত্র নষ্ট হওয়া যে কোনো রোবট সারানোর জন্য পাঠানো হবে না। পরিষেবাটি কেবল ‘জিএমও এআই অ্যান্ড রোবোটিকস ট্রেডিং’ বা ‘জিএমও এআইআরও’-এর বিভিন্ন হিউম্যানয়েডের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
ঘটনা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে কোম্পানিটি। টোকিওর বিমানবন্দরে ব্যাগেজ হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করা হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর পেছনেও একই কোম্পানি রয়েছে।
২০২৮ সাল পর্যন্ত ‘জেএএল গ্রাউন্ড সার্ভিস’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হানেদা বিমানবন্দরে ‘ইউনিট্রি’ তৈরি এসব মেশিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বা ট্রায়াল পরিচালনা করছে তারা।
‘জিএমও এআইআর’-এর প্রকৌশলী শৌতা তাকিজাওয়া বলেছেন, “হিউম্যানয়েডগুলো আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠলে এ ধরনের সেবার প্রয়োজন হবে।”
অ্যাম্বুলেন্সটির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নকশা তৈরি করেছেন টোকিওর কোম্পানি ‘গ্ল্যামারাস’-এর ডিজাইনার ইয়াসুমিচি মোরিতা।
বিশ্বজুড়ে জরুরি সেবার গাড়িগুলোর আদলে এর রূপ দিয়েছেন মোরিতা। এর বাহ্যিক অংশে বেগুনি রঙের ছাদ-সংযোগওয়ালা লাইটবার ও ‘হিউম্যানয়েড অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা রয়েছে।
জিএমও বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত রোবটগুলোকে সারানোর জন্য দূরে পাঠিয়ে দেওয়ার ফলে সেবায় যে ব্যাঘাত ঘটবে তার প্রেক্ষাপটেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা তৈরি হয়েছে।
‘জিএমও এআইআর’-এর প্রধান নির্বাহী তোমোহিরো উচিদা বলেছেন, “সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বিকল্প হিউম্যানয়েড সরবরাহ করার ধারণাটি এনেছি।”
জিএমও-এর মূল ব্যবসাটি ইন্টারনেট অবকাঠামো বা ডোমেইন ও হোস্টিং কেন্দ্রিক। তবে এর রোবটিক্স ইউনিট কোনো রোবট তৈরি করে না, বরং ইউনিট্রির মতো অন্যান্য নির্মাতাদের থেকে হার্ডওয়্যার পুনরায় বিক্রি ও পরবর্তীতে সেসব মেশিনের সেবা বিক্রি করে থাকে।
গেল এপ্রিলে এআই রোবটিক্স স্ট্র্যাটেজি প্রকাশ করেছে জাপান সরকার, যার লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক রোবট বাজারের ৩০ শতাংশেরও বেশি দখল ও আনুমানিক ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অভ্যন্তরীণ শিল্প গড়ে তোলা।
একটি আকর্ষণীয় ভ্যান হয়ত এ বড় পরিসংখ্যানে খুব বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তবে জিএমও প্রয়োজনের আগেই সমাধান হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সটিকে সামনে নিয়ে আসছে, যা হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের চাহিদা তৈরি হওয়ার আগেই মাঠপর্যায়ে সারানোর অভিজ্ঞতা দেওয়ার একটি উপায়।